প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: ‘ডীড-রাইটার’, অশিক্ষিত, চাঁদাবাজরা তৃণমূলে কোথাও কোথাও সরকারি দলের নেতা.. ..

দীপক চৌধুরী : ‘হাইব্রিড’ নেতা, অনুপ্রবেশকারী ও দুর্নীতিবাজদের ‘টুঁটি’ চেপে ধরার সময় এখনই। তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে তৃণমূলে। বঙ্গবন্ধুকন্যার সরকারের ইমেজ নষ্ট করছে। করোনাকালে কয়েকশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দরিদ্রদের ত্রাণ আত্মসাৎ করে যদিও কারাগারে কিন্তু তাদের আস্ফালন বন্ধ হয়নি। ‘ডীড-রাইটার’, অর্ধশিক্ষিত, উন্মাদ, চাঁদাবাজরা তৃণমূলে নিজেদের সরকারি দলের নেতা বলে পরিচয় দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। তাদের কাছে অনেক উপজেলার ‘ইউএনও’ অসহায়। শুধু তারা মুখ ফোটে বলতে পারছেন না। এই শ্রেণির কেউ কেউ আবার উপজেলা-জেলা পর্যায়ের নেতাও বনে গেছে। দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের ইউএনও ওয়াহিদা খানের হামলার পিছনে এই শ্রেণির দুর্নীতিবাজের সংশ্লিষ্টতার কথা শোনা যাচ্ছে। তিনি খুব সৎ ও পরিশ্রমী ছিলেন। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সংবাদ সম্মেলনে সভাপতি হেলালুদ্দীন আহমদ অভিযোগ করে বলেছেন, ‘এটা চুরি নয়। নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার উদ্দেশ্য চুরি নয়, হত্যার উদ্দেশে তার ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু কোনো কোনো মহল ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার লক্ষ্যে ‘বিচ্ছিন্ন ও চুরির ঘটনা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

বিষয়টি যেহেতু তদন্তে রয়েছে এজন্য বেশি বলা ঠিক হবে না আমাদের। বিভিন্ন উপজেলা ও থানাগুলোতে সরকারি দলের নেতা পরিচয় দাবি করা একশ্রেণির দালাল এখন বুক ফুলিয়ে হাঁটচলা করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের সংখ্যা ও প্রভাব এতো বেশি যে, কোনো কোনো থানা-পুলিশ মামলা রেকর্ড করা হবে কি না, নাকি আপসরফা হবে এ সিদ্ধান্তটি নাকি মেনে নিতে হয় প্রশাসনকে। এমন নোংরা চালাকির আশ্রয় নিচ্ছে একশ্রেণির স্থানীয় নেতা। আর কোনো কোনো বিভাগ বা জেলায় সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, উপজেলা হাসপাতাল যেন এক মগের মুল্লুকে পরিণত হয়েছে। সংঘবদ্ধ দালালদের দৌরাত্ম্যের কাছে কর্তৃপক্ষ কার্যত অসহায় দর্শকের মতো। তারা দেখছেন, দালালেরা ওষুধ বিক্রির প্রক্রিয়ায় কীভাবে রোগীদের পকেট কাটছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতি করা হচ্ছে তাদের। সুতরাং এসব ক্ষেত্রে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া চাই। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, জামায়াত-বিএনপি যেন কোনোভাবেই দলে না ঢোকে! বঙ্গবন্ধু সবকিছু উৎসর্গ করেছিলেন মানুষের জন্য, দেশের জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও পিতাকে অনুসরণ করইে দেশ চালাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ আস্থা রাখছেন তাঁর ওপরই। বাংলার মানুষের ধমনিতে রয়েছে তাঁর অস্তিত্ব। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সপরিবারে শিকার হন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের। গণতন্ত্রের আজীবন সাধক ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তাঁর মতো তাঁর কন্যাও গণতন্ত্রের সাধক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন বিদেশে ছিলেন বলেই প্রাণে রক্ষা পান। বঙ্গবন্ধু মানুষের ভালবাসার দুর্লভ সম্মানে সম্মানিত হয়েছেন। কিন্তু সেই নেতাকে ঘাতকরা বাঁচতে দিলো না। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি সরকারের তত্ত্বাবধানে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করা হয়। ‘স্পট ডেড’ করা হয় ২৩ জনকে। সেই হামলায় প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান ভয়ঙ্করভাবে আহত হন এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিহত হন ২৪ আগস্ট।

এরপরের ইতিহাস তো সবার জানা। ২০০৭-এ এদেশে এলো জরুরি আইন। দেশের ইতিহাসে ভয়ঙ্কর সেসব দিনে নিরীহ মানুষকে জেল খাটতে হয়েছে। দুর্নীতির ‘তকমা’ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে ভালো মানুষকে। ‘ব্যালেন্স’ করার নামে খ্যাতিমান ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, পত্রিকার মালিক কেউই বাদ যাননি।

বিএনপি পুনরায় দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করলো। দেখলাম, ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে হরতালের নামে পেট্রল বোমা ছুড়ে শত শত নিরীহ মানুষকে পুড়িয়ে মেরেছিল। বিএনপি কীভাবে মানুষ মেরেছিল তা গুগলে সার্চ দিলেই পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের পাঁচ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করার হুঙ্কার দিয়ে বিএনপি প্রায় আড়াইশ নিরীহ ও শ্রমজীবী মানুষ হত্যা করেছিল। বিএনপির রাজনীতি নিয়ে তাই মানুষের আগ্রহও কম। তবে সাম্প্রতিকালে ঘটে যাওয়া কয়েকটি ঘটনায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে প্রশাসন। সুতরাং কতিপয় ব্যক্তির অপকর্মের দায় অন্যের ঘাড়ে পড়তে পারে না। দায়ী ব্যক্তিকে কঠিন ও কঠোর আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। অর্থাৎ দোষীকে ছাড় দেওয়া যায় না। করোনাকালে এটাই হোক সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত