প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রহমান বর্ণিল: ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না

রহমান বর্ণিল: ধর্ম-নিরপেক্ষ রাষ্ট্র গড়ার এজেন্ডা নিয়ে সকল ধর্মের মানুষ মিলে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশ নামক যে রাষ্ট্রটি গঠন করেছিল, পঁচাত্তর ট্র্যাজেডির নেপথ্য খল-নায়ক এক কুখ্যাত জেনারেল ৭৭ সালে হাজামের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সেই রাষ্ট্রটির খৎনা করে দিয়েছিল। বেশ কয়েকদিন ধরে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নামক অদ্ভূতুরে একটা জিনিসের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল অশিক্ষিতের মাতম দেখা যাচ্ছে। তাদের খুপরিতে দুনিয়াবী জ্ঞান তো নেই, যে ইসলামের জন্য এরা শহীদ হতেও প্রস্তুত সেই ইসলামের জ্ঞানটুকুও এরা অর্জন করতে পারেনি। তাই এরা ইসলামের সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে সাংঘর্ষিক করে তুলছে। মুক্তিযুদ্ধের সংবিধানে এবং স্বাধীনতা লাভের পর নবগঠিত বাংলাদেশের সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নামের এই আজব জিনিসটি ছিল না। ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা। বলতে বলতে আমাদের মুখ ভোতা হয়ে গিয়েছে, শেখাতে শেখাতে আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়েছি, কিন্তু মূর্খের দল আজ অব্দি এই ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ জিনিসটাই বুঝলো না।

ধর্মনিরপেক্ষতার অর্থ হচ্ছে রাষ্ট্র কোনো ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, আবার কোনো ধর্মের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণও করবে না। বরং সকল ধর্মকেই রাষ্ট্র সম্মান করবে এবং সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করবে। ধর্মনিরপেক্ষতা হচ্ছে, Rejects all forms of religious faith অর্থাৎ এটি হলো এমন দর্শন যা সকল প্রকার ধর্মবিশ্বাসকে নাকচ করে দেয়। ব্যক্তির জন্য এই মতবাদ হয়তো পরিত্যজ্য, কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য এটা অবশ্যম্ভাবী। রাষ্ট্রধর্মের বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রাষ্ট্র যদি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মে বিশ্বাস করে তার পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করে, তাহলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী বাকি ধর্মগুলোকে অবিশ্বাস করতে হবে এবং বাকি ধর্মের অনুসারী নাগরিকদেরও রাষ্ট্র দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে ট্রিট করবে। বাংলাদেশের বৃহৎ আবাল গোষ্ঠী এই কথায় খুশি হয়ে যাবে। কারণ তারা ভাববে না পৃথিবীর বেশিরভাগ রাষ্ট্রেই মুসলমান সংখ্যালঘু। এরা একদিকে বাংলাদেশে রাষ্ট্রধর্ম কায়েম করতে জিহাদ ঘোষণা করে। অন্যদিকে চায়, ভারত যেন ধর্মনিরপেক্ষ হয়।

তাতে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানরা সুখে থাকবে। ‘গণতন্ত্র’ এবং ‘সমাজতন্ত্র’ ধর্মনিরপেক্ষতার সমর্থক। তবে গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, ‘ধর্মীয় সমন্বয়বাদ’ আর সমাজতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘ধর্মহীনতা’। বাংলাদেশ যেহেতু গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, সেহেতু রাষ্ট্রে সব ধর্ম এবং ধর্মানুসারীর সমন্বয় প্রয়োজন। তার জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র। কিন্তু এদেশে বিশাল একটা গোষ্ঠী ‘দেশে গণতন্ত্র নাই’ বলে দিনরাত জিকির করে, আবার ‘রাষ্ট্রধর্ম’র জন্য শহীদ হয়ে যেতে চায়। কেউ যদি গণতন্ত্র চায়, তাহলে সে ‘রাষ্ট্রধর্ম’ চায়তে পারে না। এই বিষয়গুলো এই অশিক্ষিত, মূর্খ, গোঁয়ার-গোবিন্দদের কে বোঝাবে? ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত