প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ২৯ বছর আগে এই দিনেই জীবনের রিলটি গুটিয়ে নিয়েছিলেন অস্কার জয়ী বাঙালি চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়!

মুসবা তিন্নি : [২] সত্যজিৎ রায়, শুধুই কি একজন চিত্র পরিচালক! নাহ, তার কাজের লম্বা ফিরিস্তি। সিনেমায় ভারতে প্রথম অস্কার এনেছিলেন। ভারতীয় সিনেমা বলতে এখনও বিদেশে সত্যজিৎই বোঝেন অনেকে। পথের পাঁচালী দিয়ে নিজের সিনেমা জীবন শুরু। একজনকে দিয়েই প্রায় অর্ধেক সিনেমা তৈরি করা যায়, সত্যিজিতই বাংলা সিনেমায় প্রথম বুঝিয়ে ছিলেন। পরিচালকের পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সংগীত, আবহ সংগীত থেকে ক্যামেরা, এমনকি হাতে ধরে মেকআপ করে দিতেন মানিকবাবু। বলা হতো, সেটের সব কর্মীরাই মানিকবাবুর ছাত্র!

[৩] এক বার শ্যুটিংয়ের সবকিছু রেডি। সত্যজিৎ বাবুকে একজন জিজ্ঞাসা করলেন, স্ক্রিপ্ট কোথায়? স্ক্রিপ্ট কী হবে একের পর এক দৃশ্য তো তার মাথায় গাঁথা। তাও একটি চিরকুটে স্ক্রিপ্ট লিখলেন। ৩৬ টি সিনেমার পরিচালনা করেছেন তিনি। সত্যজিৎ রায়ের সিনেমা পর্যালোচনা করতে আজও ভয় পান বাঘা বাঘা পর্যালোচকরা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে গিয়েছেন সিনেমার জন্য। নিওরিয়ালিজম থেকে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন সত্যজিৎ।

[৪] পথের পাঁচালীর অপু-দুগ্গা সেই ট্রেনের অপরুপ দৃশ্য, কাশফুলের প্রান্তর থেকে ছুটে যাচ্ছে অপু-দুগ্গা, রেলগাড়ি দেখবে বলে। কিংবা দুগ্গার শরীর খারাপ অপু বলছে তুই ঠিক হয়ে গেলে রেলগাড়ি দেখতে যাব। আদপে সামান্য একটা দৃশ্য যেন অসামান্য হয়ে উঠেছে তার সেলুলয়েডে।

[৫] অপরাজিত, অপুর সংসার ও পথের পাঁচালী এই অপু ত্রয়ী দিয়ে বলে গেছেন কত কথা। কখনও তার পরশ পাথরে চকচক করে জ্বলে উঠেছেন তুলসী চক্রবর্তী। কিংবা জলসা ঘরে কেঁপে উঠেছেন ছবি বিশ্বাস। অরণ্যের দিনরাত্রিতে খবরের কাগজ পুড়িয়ে সত্যজিৎ বলে উঠেছেন, “সভ্যতার সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক শেষ।” একে একে উপহার দিয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর অভিনীত দেবী কিংবা তিন গল্পের অসাধারণ মেলবন্ধনে কথা বলে উঠেছে তিন কন্যা। জটায়ু তাকে বলেন এবিসিডি, অর্থাৎ এশিয়াস বেস্ট ক্রাইম ডিটেক্টিভ। সকলের প্রিয় ফেলু মিত্তির। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয়ে বারবার দর্শকের মন জয় করেছে জয় বাবা ফেলুনাথ থেকে সোনার কেল্লা। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আগে একবার সত্যজিতকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, এই যে ফেলুদা আঁকেন তা কাকে দেখে? সত্যজিৎ বাবুর উত্তর ছিল, কেন! তোমায় দেখে।

[৬] গুপী গাইন বাঘা বাইন, তাকে সবচেয়ে বেশি ব্য়াবসায়িক সাফল্য এনে দিয়েছিল। আদপে শিশুদের হাস্যকর গল্প মনে হলেও অন্তর্নিহিত ভাবে অনেককে ভাবানোর চেষ্টা করে গিয়েছেন তিনি এই সিনেমাগুলির মাধ্যমে। তাই তো শুনতে মেলে “অনাচার কর যদি, রাজা তবে ছাড় গদি, নাই কোনও পরিত্রাণ,হীরকের রাজা শয়তান।” কিংবা “দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খানখান।” এভাবেই হীরক রাজার দেশে সমাজের কথা বলে গেছেন মানিক বাবু। প্রতিদন্দ্বী , সীমাবদ্ধ ও জণ অরণ্য দিয়ে কলকাতার এক অনন্য রূপ দেখিয়ে গিয়েছেন সত্যজিৎ। নষ্টনীড় থেকে ঘরে বাইরে, ফেলুদা থেকে ব্যোমকেশ হেন কোনও দিক নেই যেখানে বিচরণ করেননি ইনি। তবে চিত্র পরিচালক সত্যজিতের থেকেও গুণী ছিলেন শিল্পী সত্যজিৎ, আবহ সঙ্গীতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু সমগ্র বিশ্বকে হাসিয়ে কাঁদিয়ে অস্কার হাতে আজকের দিনেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন সত্যজিৎ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত