শিরোনাম
◈ ইসিতে বৈঠক শেষে ডা: তাহের: আগামীর নির্বাচন যদি ‘সাজানো’ হয়, বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে ◈ ইসি’তে আপিল আবেদনের ভিড় বাড়ছে: তৃতীয়দিন ১৩১টি জমা ◈ উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে ইইউ, প্রধান উপদেষ্টাকে পাওলা পাম্পালোনি ◈ জকসু নির্বাচন: ২৬ কেন্দ্রের ফলাফলে ভিপি পদে ৩৫১ ভোটে এগিয়ে শিবিরের রিয়াজুল ◈ ইসিতে যেসব অভিযোগ জানাল জামায়াত ◈ সংগীত বিভাগে শিবির সমর্থিত জিএস-এজিএস প্রার্থীর ঝুলিতে শূন্য ভোট ◈ নিজ দেশের নাগরিক হত্যা, তাদের গণকবর—সভ্য রাষ্ট্রে কল্পনাও করা যায় না: প্রধান উপদেষ্টা ◈ গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ কেন? দ্বীপটি কতটা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ◈ ব্যাংক ঋণে বাড়ি কেনা সহজ হলো, নতুন সার্কুলার জারি ◈ তারেক রহমান নয়াদিল্লির জন্য “সবচেয়ে নিরাপদ বাজি”

প্রকাশিত : ১৫ জানুয়ারী, ২০২০, ১২:৪৮ দুপুর
আপডেট : ১৫ জানুয়ারী, ২০২০, ১২:৪৮ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভালো নেই রাবির সেই ‘আবু ভাই’

বাংলা নিউজ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে একটি পরিচিত নাম আবু আহমেদ। সবাই ভালোবেসে ডাকেন ‘আবু ভাই’। বিশ্ববিদ্যালয়ের থাকাকালীন তিনি সত্তর, আশি, নব্বই দশকের আন্দোলনের সাক্ষী হয়ে আছেন। চোখের সামনে দেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা আন্দোলনের উত্থান ও পতন। শুধু আড্ডাই নয়, শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আলাপ-আলোচনা ও পরিকল্পনার অন্যতম কেন্দ্র ছিল তার পরিচালিত ‘আবুর ক্যান্টিন’।

তিনি শুধু ক্যান্টিন বা খাবারের জন্য পরিচিত ছিলেন না। একজন উদার মানুষও ছিলেন। শিক্ষার্থীদের সহায়তা করেছেন নানাভাবে। আর্থিক সংকট থাকলে শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় খাইয়েছেন। ছাত্র রাজনীতিতে জড়িত শিক্ষার্থীদের প্রিয় পাত্র ছিলেন এ মানুষটি। তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাহায্য করতেন নানাভাবে।

২০১৫ সালে ‘আবুর ক্যান্টিন’ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। উদার মনের এ মানুষটিও এখন ভালো নেই। বয়স ৭৫ পেরিয়েছে। বয়সের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে অসুখ। নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তার শরীরে। একসময়ের প্রাণচঞ্চল এই মানুষটি গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালের বেডে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। অর্থের অভাবে ভালোভাবে চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

সোমবার (১৩ জানুয়রি) রাজশাহীর ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কথা হয় আবু আহমেদের সঙ্গে। ঠিকমতো চলাফেরা করার মতো শক্তিও নেই তার শরীরে। মুখ ফুটে কথা বলতেও কষ্ট হচ্ছে তার। একটু কথা বলতে গেলে হাঁপিয়ে উঠছেন।

ভাঙা গলায় ও ইশারায় আবু আহমেদ বললেন, মাসখানেক আগে বাড়িতে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মাথায় আঘাত পাই। তখন থেকে অসুস্থতা বেড়ে যায়। পরে কিছুটা সুস্থ হয়েছিলাম। ১০দিন আগে আবারও অসুস্থতা বেড়ে যায়। তখন থেকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। পুরো শরীর প্রচণ্ড ব্যাথা করছে। হাটার জন্য শক্তি নেই। ঘন ঘন রক্তবমি হচ্ছে। ঠিকমতো খেতেও পারছি না।

আবু আহমেদের স্ত্রী সুফিয়া বেগম জানান, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা, হাইপ্রেসার, কিডনি অসুখসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন আবু আহমেদ। চিকিৎসার জন্য তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বেডের ভাড়া মওকুফ করেছে। প্রতিদিনের ওষুধ, সেই সঙ্গে বিভিন্ন টেস্টের ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহায়তা চান তিনি।

মৃত্যুর আগে আবু আহমেদের শেষ ইচ্ছা আবারও ‘আবুর ক্যান্টিন’ চালু করা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে শেষ ইচ্ছা ছিলো আবারও ক্যান্টিন চালু করব। ‘আবুর ক্যান্টিন’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের মতোই আমার ক্যান্টিন অতীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনেক আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছে। ব্যবসা করতে নয়, ক্যান্টিন পুনরায় চালু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ইতিহাসটুকু ভবিষ্যতের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলাম। এখন মনে হচ্ছে, হয়তো তা আর সম্ভব হবে না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়