দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে নয়, বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে বছরে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা কমাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সূত্র: চ্যানেল 24
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রোর বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, পরিবারসহ বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগের সংখ্যা ১২ হাজার পর্যন্ত হতে পারে।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে যাওয়া জনশক্তির বড় একটি অংশ শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলের। এসব এলাকার কিছু মানুষ দালালের মাধ্যমে লিবিয়া হয়ে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করেন বলে বৈঠকে উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতালির রাষ্ট্রদূত।
এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন ঠেকাতে তিন জেলায় যৌথভাবে সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে এসব কর্মশালায় অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ঝুঁকি এবং বৈধভাবে ইতালিতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি বৈধ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেয়। বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের বৈধভাবে ইতালি যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তাই দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না গিয়ে বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইতালিতে বর্তমানে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে বৈঠকের পর জানান প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের শিকড় শরীয়তপুর ও মাদারীপুর অঞ্চলে।
তবে ইতালিতে বর্তমানে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের বৈধ করার বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন প্রতিমন্ত্রী। দালালের মাধ্যমে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষা প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়। বাংলাদেশি কর্মী ও প্রশিক্ষকদের ইতালিয়ান ভাষা শেখাতে ইতালি থেকে প্রশিক্ষক পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশি স্থপতিদের দক্ষতা বাড়াতেও সহযোগিতা করতে চায় ইতালি। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের একজন সিটি মেয়র এবং কয়েকজন স্থপতিকে ইতালিতে প্রশিক্ষণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। নির্দিষ্ট তালিকা প্রস্তুতের পর এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে।
খাদ্য অপচয় রোধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতালির মিলান শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি। এ জন্য খুলনা সিটি করপোরেশনকে বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ দক্ষতা উন্নয়ন, ভাষা প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে বাণিজ্য ও অভিবাসন সম্পর্কও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বলেন, দুই দেশের বাণিজ্য, অভিবাসন এবং বিভিন্ন শহরের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে ইতালি আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তোনিও আলেসান্দ্রো বর্তমানে ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ইতালির দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে বৈঠকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নিজের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূতের কাছে বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার বিষয়ে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন। এটি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ছিল না। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছিলেন এবং সেই কথাই তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন।
দুই দেশের এই আলোচনায় শ্রম অভিবাসনের ক্ষেত্রে বৈধ পথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দালালের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিবর্তে বৈধ প্রক্রিয়ায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্পর্কে মানুষকে জানাতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়ানো হবে।