প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দারুল উলূম হাটহাজারীর ফ‌তোয়া
নতুন ধর্ম আবিষ্কার করছে হেযবুত তাওহীদ

নাঈমুল ইসলাম : হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘বনী ইসরাঈল ৭২ দলে বিভক্ত হয়েছে। আর আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে। এর মাঝে একটি হবে জান্নাতী বাকি সব জাহান্নামি। জিজ্ঞেস করা হলো, জান্নাতী দল কারা? উত্তরে বলেন, যারা আমি এবং আমার সাহাবাদের দেখানো পথে চলবে তারাই জান্নাতী।’ (আর সর্বসম্মতিক্রমে ঐ দলের নাম হল আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত) উপরোক্ত হাদিস দ্বারা বুঝা গেল যে, বহু ফেতনা ও গোমরাহ দলের আবির্ভাব ঘটবে। বাস্তবেও আমরা ইতিহাসের পাতায় আমরা তা দেখেছি, প্রত্যেক যুগে নতুন নতুন বাতিল ও গোমরাহ দলের আবির্ভাব ঘটেছে এবং ঘটছে। কখনো মিথ্যা নবুয়াত দাবিদার নামে,কখনো আহলে বাইত, কখনো রাফেজী-খারেজী বা মোতাযিলা নামে। আবার কখনো আহলে কোরআন, আহলে হাদিস নামে।

এভাবে কখনো শিয়া, কাদিয়ানী, বেরলভী, দেওয়ানবাগী, মাইজভান্ডারী ইত্যাদি নামে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে নতুন একটি গোমরা দল আত্মপ্রকাশ করছে ‘হেযবুত তাওহীদ’ নামে। কোন কোন দল মুসলমান হয়ে গোমরাহ যেমন: আহলে কোরআন, আহলে হাদিস, বেরলভী ইত্যাদি। আবার কোন কোন দল মুসলমানদের নাম ব্যবহার করে, মূলত তারা অমুসলিম। যেমন: শিয়া, কাদিয়ানী, হেযবুত তাওহীদ ইত্যাদি। তাদের সকলের কার্যক্রম ভিন্ন হলেও উদ্দেশ্য সবার এক। আর তা হলো, মুসলমানদের তাহযীব-তামাদ্দুন, ঈমান ও আমল নষ্ট করা। এবং মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে ইসলামকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করা। তারা বিদেশী প্রভুদের নির্দেশে এদেশে কাজ করে যাচ্ছে। হেযবুত তাওহীদ নামের সংগঠনটি ও একই ধারায় চলমান। তাদের জানা থাকা দরকার পবিত্র কালামে পাকে আল্লাহ তাআলা বলেছেন- অর্থ: কাফেরেরা চক্রান্ত করেছে আর আল্লাহও কৌশল অবলম্বন করেছেন বস্তুতঃ আল্লাহ হচ্ছেন সর্বোত্তম কুশলী। (সুরা আলে ইমরান : ৫৪)

কোরআন-হাদিসের আলোকে হেযবুত তাওহীদের কিছু আকিদার বিশ্লেষণ:
তাদের আক্বীদাগুলো কোরআন-হাদিসের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করলে বুঝা যায়, তা সরাসরি কোরআন-হাদিস ও ইজমায়ে উম্মতের সাথে সাংঘর্ষিক। উদাহরণ-
>ইসলামে পর্দা বলতে কিছু নেই! কোরআনে পর্দা সম্পর্কিত একটি আয়াতই আছে, যেটা উম্মুল মুমিনীনদের সাথে খাস। (তারা পর্দা কে উপহাস করে বলে) এটা হচ্ছে বাক্সবন্দী! এতে নারীদের অধিকার খর্ব করছে এবং তাদেরকে মেরে ফেলছে। লিংক-https://YouTu.be/CVVkYV4nzRA লিংক-https://YouTu.be/2_X7CTE8i6c

>>জবাব: আল্লাহ তায়ালা পর্দা সম্পর্কে অনেক আয়াত নাযিল করেছেন। যেখানে উম্মুল মুমিনীনদের কে খাস করা হয়নি। যেমন আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেন, অর্থ: হে নবী আপনি আপনার স্ত্রীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। (সুরা আহযাব : ৫৯) অর্থ: তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করিবে এবং মূর্খ যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন কiরিবে না। (সুরা আহযাব : ৩৩) আর যারা কোন বিধানকে উপহাস করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, অর্থ: আপনি বলুন তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকাম এর সাথে এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে? (সুরা তওবা : ৬৫) হাদীসে আছে: অর্থ: হযরত আবু হুরায়রা রাঃ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন তিনি বলেন কোরআনের ব্যাপরে সন্দেহ পোষণ করা কুফরী। (আবু দাউদ, হাদীস নং ৪৬০৩) (ফ‌তোয়া‌য়ে তাতারখা‌নিয়া ৭/৩১৫)

>দাজ্জাল বলতে কিছু নেই! এটা হলো বর্তমানের ইহুদি খ্রিস্টান সভ্যতা। (মহাসত্যের আহ্বান পৃ. ১৩)

>>জবাব: হাদীসে দাজ্জাল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে এবং তার পরিচয়ও বর্ণিত হয়েছে। যেমন: হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা: হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, দাজ্জালের ডান চক্ষু এমন দোষী যুক্ত হবে যে,তা যেন আঙ্গুর গুচ্ছের বহির্ভূত একটি আঙ্গুর। (বুখারী শরীফ, হাদীস নং ৬৮৪০) হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বর্ণনা করে তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দাজ্জাল এক পর্যায়ে মদিনার প্রান্তে আসবে। তখন মদিনায় তিনবার কম্পিত হবে। এতে সমস্ত কাফের এবং মুনাফেক দাজ্জালের নিকট বের হয়ে আসবে। (বুখারী শরীফ হাদীস নং ৬৮৪১) এছাড়া আরো বহু হাদিস রয়েছে দাজ্জাল সম্পর্কে। এটাকে অস্বীকার করা মানেই হাদীসকে অস্বীকার করা। আর যারা হাদিসকে অস্বীকার করবে তারা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।

>রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর দেয়া রিসালাতের দায়িত্ব পুরো করতে পারেননি! তাই তাকে রাহমাতুল্লিল আলামিন বলা যাবে না। (আকিদা ১৯)

>>জবাব: তাদের এই কথা সরাসরি কোরআনের আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিক। এর দ্বারা বুঝা যায়, এখনো নবুওয়াত ও দ্বীন পরিপূর্ণ হয়নি। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেন: আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। (সুরা ম‌া‌য়েদা : ৩) অর্থ: আমি আপনাকে বিশ্বাবাসীর জন্য রহমত স্বরূপই প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্ব‌িয়া ১০৭) অর্থ: কেয়ামতের দিন যখন তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। তখন তোমরা কী বলবে? সাহাবাগণ উত্তর দিলেন, নিশ্চয়ই আমরা সাক্ষ্য দিব যে, আপনি আল্লাহর দেওয়া পয়গাম আমাদের নিকট পৌঁছে দিয়েছেন, এবং জিম্মাদারি আদায় করেছেন এবং আমাদেরকে নসিহত করেছেন। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শাহাদাত আঙ্গুলকে আসমানের দিকে উঠিয়ে মানুষের দিকে ইশারা করে বললেন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, হে আল্লাহ আপনি সাক্ষী থাকুন, তিনবার বললেন। (মেশকাত শরীফ: ২৫৫৫)

>হিন্দুদের সনাতন ধর্ম হল আল্লাহর বর্ণিত দ্বীনুল কায়্যিমাহ তথা শাশ্বত ও চিরন্তন ধর্ম! আর এটাই হল তাওহীদ। (শোষণের হাতিয়ার পৃ. ৭০)

>>জবাব: আল্লাহ তাআলার নিকট মনোনীত ধর্ম হলো ইসলাম। আল্লাহ তাআলা বলেন: নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য দ্বীন একমাত্র ইসলাম (সুরা আলে ইমরান : ১৯) যে লোক ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করবে, কষ্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না। (সুরা আলে ইমরান: ৮৫) তারা দ্বীনুল কায়্যিমাহ-এর মনগড়া অপব্যাখ্যা করেছে যা কোন মুফাসসিরীনে কেরাম করেননি। তাদের কিছু কিছু আক্বীদা কাদিয়ানীদের সাথে মিল রয়েছে। যেমন- বায়জীদ খান পন্নী সরাসরি আল্লাহর মনোনীত ব্যক্তি। (আল্লাহর মোজেজা হেজবুত তাওহীদের বিজয় ঘোষণা ২৪) বায়জীদ খান পন্নীর ভাষণ কোরআনের আয়াতের সমমর্যাদা।(আল্লাহর মোজেজা হেজবুত তাওহীদের বিজয় ঘোষণা ৩৪) যারা হিজবুত তাওহীদের মোজেজা বিশ্বাস করবে না তাদের কোনো মুক্তি নেই। (আল্লাহর মোজেজা হেজবুত তাওহীদের বিজয় ঘোষণা ৬৪)

এগুলো মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী দাবী করেছিল, আর এখন তারা দাবি করেছে। তারা প্রতিনিয়ত ওলামায়ে কেরামকে ধর্মব্যবসায়ী বলে গালি দিয়ে থাকে। কোন মুসলমান এমন দাবি করতে পারে না। এগুলো সব আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের খেলাফ। তাদের কিতাবাদি পড়লে ও বক্তব্য শুনলে একথা স্পষ্ট হয়, তাদের কথা এবং আকিদা সরাসরি কোরআন-হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক। তারা কোরআনের আয়াত ও রাসূলের হাদিসকে অস্বীকার করে। আর যারা কোরআন-হাদিসকে অস্বীকার করে এবং তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তারা ইসলাম থেকে বের হয়ে মুরতাদ ও অমুসলিম বলে গণ্য হবে। তাদের কিতাবাদি পড়লে এটাও বুঝে আসে, তারা বাদশাহ আকবরের দ্বীনে এলাহী ও কাদিয়ানী ধর্মের মতো নতুন ধর্ম আবিষ্কার করছে। তারা পূর্বেকার ভ্রান্ত ও অমুসলিম দলগুলোর অনুসরণ করছে। তাই তারাও তাদের মত ভ্রান্ত ও অমুসলিম বলে গণ্য হবে। সুতরাং খাঁটি মুসলমানদের জন্য ‘হেযবুত তাওহীদ’ নামের কুফরি আকিদা পোষণকারী দল ও গোষ্ঠীকে প্রত্যাখ্যান করা অত্যাবশ্যক। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দ্বীনের সহিহ বুঝ দান করুন। আমিন।

সত্যায়ন‌ে :
* আল্লামা মুফতী আব্দুছ ছালাম চাটগামী
গ্রান্ড মুফতী, বাংলা‌দেশ।

* আল্লামা মুফতী নূর আহমদ
প্রধান মুফতী, দারুল উলূম হাটহাজারী।

* আল্লামা জুনা‌য়েদ বাবুনগরী
সহকারী মহাপ‌রিচালক, দারুল উলূম হাটহাজারী ও মহাস‌চিব, হেফাজ‌তে ইসলাম বাংলা‌দেশ।

* মুফতী জসীমুদ্দীন
মুফতী ও মুহা‌দ্দিস, দারুল উলূম হাটহাজারী।

* মুফতী ফ‌রিদুল হক
‌সি‌নিয়র মুফতী, দারুল উলূম হাটহাজারী।

* মুফতী হুমায়ুন কবীর
মুফতী, দারুল উলূম হাটহাজারী।

(‌বি. দ্র. ফ‌তোয়ায় উ‌ল্লে‌খিত কুফুরী আকিদা সমূ‌হে বিশ্বাসী ও অনুসারীরা কোন অবস্থায় মুসলমান থাক‌তে পা‌রে না।)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত