মতিনুজ্জামান মিটু: নামি দামি হোটেলগুলো বাংলাদেশের জনপ্রিয় উন্নত মানের সুগন্ধি চালের পরিবর্তে বিদেশি বাসমতি জাতের চাল ব্যবহার করে থাকে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষি তথ্য সার্ভিসের এক প্রচার পত্রে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
দেশি সুগন্ধি চাল শিরোনোমের ওই প্রচার পত্রের মাধ্যমে জানানো হয়, দেশি অতি উন্নতমানের সুগন্ধি চালের জাতগুলো সম্পর্কে ধারণা ও প্রচারণার অভাবে নামি দামি হোটেলে বিদেশি বাসমতি জাতের চাল ব্যবহারের প্রচলন দেখা যায়। অথচ নিজ দেশের উৎপাদিত সুগন্ধি চাল ব্যবহার করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়াসহ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যায়।
কৃষি তথ্য সার্ভিসের ফার্ম ব্রডকাস্টিং অফিসার কৃষিবিদ মো. গোলাম মাওলা জানান, বিশেষ জাতের ধান থেকে সুগন্ধি চাল তৈরী করা হয়। বাংলাদেশে এলাকাভিত্তিক প্রচুর সুগন্ধি ধান আবাদের প্রচলন রয়েছে। প্রধানত পোলাও, বিরিয়ানি, কাচ্চি, জর্দ্দা, ভুনা-খিঁচুড়ি, ফিরনি, পায়েসসহ আরও নানা পদের সুস্বাদু ও দামি খাবার তৈরিতে সুগন্ধি চাল বেশি ব্যবহার হয়। বিয়ে, পূজা-পার্বণ, সেমিনার, ওয়ার্কশপসহ সব ধরনের অনুষ্ঠানে সুগন্ধি চালের ব্যবহার অতি জনপ্রিয়। অনেক সচ্ছল পরিবারে, বনেদি ঘরে সাধারণ চালের পরিবর্তে সুগন্ধি (কাঁটারিভোগ ও বাংলামতি) সিদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার রেওয়াজ অহরহ দেখা যায়। চাইনিজ, ইতালিয়ান, থাই, ইন্ডিয়ান হোটেল-রেস্টুরেন্ট), পাঁচ তারকা বিশিষ্ট হোটেল-মোটেল, পর্যটন কেন্দ্রে প্রধানত ভাত, পোলাওসহ নানা পদের খাবার পরিবেশনে সুগন্ধি চাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশে বিভিন্ন জেলায় অঞ্চল ভিত্তিতে প্রচুর সুগন্ধি ধানের জাত রয়েছে। জাতগুলোর মধ্যে অধিকাংশই অতি সুগন্ধি। এ জাতগুলোর মধ্যে প্রধানত চিনি গুড়া, কালজিরা, কাটারিভোগ, তুলসীমালা, বাদশাভোগ, খাসখানী, বাঁশফুল, দুর্বাশাইল, বেগুনবিচি, কালপাখরী অন্যতম। হালকা সুগন্ধযুক্ত জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে পুনিয়া, কামিনীসরু, জিরাভোগ, চিনিশাইল, সাদাগুড়া, মধুমাধব, গোবিন্দভোগ, দুধশাইল প্রধান।
বাংলামতি ধানের চাল ভারত ও পাকিস্তানের বাসমতি চালের সমকক্ষ। সুপার ফাইন অ্যারোমেটিক রাইস হিসেবে বিশ্বব্যাপী ভারত-পাকিস্তানের বাসমতি চালের জনপ্রিয়তা ও সুনাম রয়েছে ঠিকই তবে বাংলাদেশের বাংলামতি কোনো অংশে কম নয়। বাংলামতি ধানের চালে বাসমতির সব ধরণের গুণই রয়েছে। বাসমতিসহ অন্যান্য বিদেশি চালের চেয়ে বাংলামতির দাম অনেক কম। তাই বাণিজ্যিক দিক থেকে খুবই লাভজনক। বাংলাদেশে উৎপাদিত সুগন্ধি চালে অ্যামাইলেজ কম থাকায় ভাত হয় ঝরঝরে ও দৃষ্টি নন্দন। বাংলাদেশের উৎপাদিত সুগন্ধি চাল বর্তমানে বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চালের দাম টনপ্রতি গড়ে ১৫০০ থোকে ১৭০০ ডলার। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এদেশ থেকে ৬৭.৬৪ মিলিয়ন মেট্রিকটন সুগন্ধি চাল বিদেশে রপ্তানী হয়েছে। বিদেশের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে চাহিদা বাড়লে সুগন্ধি চালের উৎপাদন বাড়বে এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত হবে।