প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যে কারণে দীর্ঘমেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব দরকার

প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি : বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির জনক। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতা পাওয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান অনন্য। ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে দেশটি গড়তে চেয়েছিলেন জাতির জনক। এদেশের মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে, মৌলিক অধিকার ভোগ করবে, ভালো থাকবে প্রিয় বাংলার সব মানুষ। হাসতে হাসতে, গাইতে গাইতে তারা বাঁচবে। সব কঠিনেরে ভালোবেসে প্রতিক‚ লতা জয় করে এগিয়ে যাবে। সেই স্বপ্ন তিনি পূরণ করে যেতে পারেননি, সপরিবারে প্রাণ দিয়েছিলেন ঘাতকের বুলেটে। বিদেশে থাকায় বেঁচে থাকেন জনকের দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

সরাসরি রাজনৈতিক ময়দানে দেশকে নেতৃত্ব না দিলেও শেখ রেহানা-শেখ হাসিনার বড় শক্তি। নেপথ্য নায়ক। আর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রায় চার দশক। কেন জনককন্যারা রাজনীতিতে আসা, নতুন করে বলার অবকাশ নেই। জনতার জনক মানুষকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছেন, তার কন্যারাও একই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশকে। বিশেষ করে শেখ হাসিনা। তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রপরিচালনা করছেন তিনি। ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর নির্বাচনে জয় লাভ করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রক্ষমতায় রয়েছেন। এর আগে ’৯৬ সালেও দেশকে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন। নেতৃত্বকালে বাংলাদেশ কেমন আছে, তার নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে কেমন ছিল সচেতন পাঠক একটু খেয়াল করলেই চমকে উঠবেন।

দুয়েকটি উদাহরণ দিই তাহলে সহজে বুঝতে পারবেন কেন দীর্ঘমেয়াদে এদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় শেখ হাসিনাকে দরকার, কেনইবা আওয়ামী লীগ সরকারকে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় আনা উচিত। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে কে ভেবেছিল এদেশের? কে বিশ্বাস করেছিল প্রবল প্রতাপশালী স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকারদের এদেশে বিচার হবে। শাস্তি হবে? কেউ হয়তো আশ্বাস, কথার কথা ভেবেছিলেন, কেউ কেউ হয়তো আধো বিশ্বাস, আধো অবিশ্বাস নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন কী হয়। কিন্তু বেশির ভাগ মানুষই শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগের প্রতিশ্রুতিকে অবিশ্বাস করে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে এদেশে? অসম্ভব! এই বিচার আওয়ামী লীগ করবে না, ঝুলিয়ে রেখে রাজনীতি করবে। তবে একজন ঠিকই বিশ্বাস করতেন, অনঢ় ছিলেন ঘাতকদের বিচারে। তিনি শেখ হাসিনা, যার ধমনিতে জাতির জনকের রক্ত।

পদ্মা সেতু হবে কত স্বপ্ন সবার। কিন্তু স্বপ্নে জল ঢেলে দিল বিশ্বব্যাংক, দুর্নীতির অভিযোগে অর্থায়ন বন্ধ করে দিলে স্বপ্ন অধরাই থেকে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিল। শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাংকের অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন। বললেন, বাঙালির স্বপ্ন কারও মিথ্যা অভিযোগে ভেঙে যেতে পারে না। হতে দিলেনও না তিনি। ঘোষণা দিলেন, নিজস্ব অর্থায়নেই হবে স্বপ্ন বাস্তবায়ন। অবিশ্বাস করে তখন অনেকেই তা উড়িয়ে দিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনা বাস্তব করে দেখালেন। পদ্ম সেতু এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। জঙ্গি অভয়ারণ্য তমকা পাওয়া বাংলাদেশ এখন প্রায় জঙ্গিমুক্ত। স্থিতিশীল একটি উন্নয়নগামী অমিত সম্ভাবনার দেশ।

বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের তালিকাভুক্ত একটি রাষ্ট্র। মাথাপিছু আয় এখন প্রায় সতেরশ ডলার। শিক্ষা, মাতৃমৃত্যু হার, নারীর ক্ষমতায়ন, শিল্পে সমৃদ্ধ হচ্ছে দেশ। বাংলাদেশ এখন রোল মডেল বিশ্বের বহু দেশের কাছে। তারাও চায় বাংলাদেশের মতো এগিয়ে যেতে। বাংলাদেশের অগ্রগতিতে অবাক বিশ্ব, কীভাবে সম্ভব এই অর্জন? জনতার শক্তি। এদেশের পরিশ্রমী মানুষ এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। আর ক্ষেত্রটি তৈরি করেছে সরকার। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দৃঢ় ও সাহসী নেতৃত্বে অসম্ভবও এখন অনায়াসেই সম্ভব হচ্ছে। যার ফল বিশ্বের কাছ থেকে বাংলাদেশ বিশেষ মর্যাদা পাচ্ছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ছিল বলে এই অসম্ভব সম্ভব হয়েছে।

শেখ হাসিনা, পিতার মতোই তিনি দুঃসাহসী, স্বাপ্নিক ও দৃঢ়চেতা মানুষ, শত প্রতিকূলতাও যাকে দমাতে পারে না অশুভ শক্তি। তার বলিষ্ঠ নেতৃত্বেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। নিবেদিত এই রাষ্ট্রনায়ককেই এদেশের নেতৃত্বে দরকার। বাংলাদেশের শান্তি, প্রগতি, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত