শিরোনাম
◈ ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ এখন বোধগম্য: প্রধানমন্ত্রী ◈ চীনের সঙ্গে সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র চুক্তির পথে ইরান ◈ রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প কারখানা পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ◈ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পেতে বেআইনি লেনদেন নিয়ে কঠোর বার্তা ◈ মুক্তিপণ দাবির পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিরাপদে ফিরল স্কুল শিক্ষার্থী আফফান ◈ ৫০ বছর ধরে মসজিদে নববীতে কোরআন পড়ানো শিক্ষকের ইন্তেকাল ◈ ব্যাংকিং খাতে ঋণ জালিয়াতিতে কমেছে বিনিয়োগ পরিবেশ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা ◈ ঈদের আগে বেতন দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ঋণ চায় বিজিএমইএ  ◈ সিডনিতে নারী ফুটবলার‌দের প্রশিক্ষ‌ণে ত্রু‌টি খুঁজে পাচ্ছেন না ‌কোচ পিটার বাটলার  ◈ মন্ত্রিপরিষদ শপথ অনুষ্ঠানে কী হয়েছিল? জানালেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৫৫ বিকাল
আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

খাওয়ার সময় শিশুর গলায় খাবার আটকে গেলে কী করবেন? জেনে নিন সঠিক পদ্ধতি

এক মুহূর্ত আগেও শিশুটি হাসছিল, খেলছিল। হঠাৎ খাওয়ার সময় মুখ লাল হয়ে গেল, শব্দ বন্ধ, মনে হচ্ছে গলায় কিছু আটকে গেছে! মুহূর্তেই ঘরের ভেতর শুরু হয় আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি অনেক পরিবারই হন। আর এই কয়েক সেকেন্ডের ভুল সিদ্ধান্ত কখনও কখনও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিপদ এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শিশুর গলায় খাবার আটকে যাওয়াকে বলা হয় ‘চোকিং’। শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, ছয় মাস থেকে তিন বছর বয়স পর্যন্ত শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কারণ, এ সময় দাঁত পুরোপুরি ওঠে না, গিলতে শেখার প্রক্রিয়াও সম্পূর্ণ হয় না।

ভারতীয় শিশুরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠনগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, শক্ত, গোল কিংবা পিচ্ছিল খাবার (যেমন আঙুর, বাদাম, শক্ত বিস্কুট) এই বয়সে খুব সতর্কতার সঙ্গে দিতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন?

প্রথমেই লক্ষ্য করুন, শিশু কাশতে পারছে কি না। যদি কাশে, কাঁদতে পারে বা শব্দ বের হয়; তবে বুঝতে হবে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। এ অবস্থায় আতঙ্কিত হয়ে শিশুর মুখে আঙুল ঢোকাবেন না। এতে খাবার আরও ভেতরে ঢুকে যেতে পারে। বরং তাকে কাশতে দিন। অনেক সময় কাশিই সমস্যার সমাধান করে দেয়।

কিন্তু যদি শিশুর মুখ নীলচে হয়ে যায়, কোনো শব্দ না বের হয়, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়; তবে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এক বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে

শিশুকে উপুড় করে আপনার কাঁধ বা উরুর ওপর রাখুন, মাথা শরীরের চেয়ে একটু নিচের দিকে থাকবে। এরপর পিঠের মাঝামাঝি অংশে হাতের তালু দিয়ে পাঁচবার দৃঢ়ভাবে চাপড় দিন। কাজ না করলে শিশুকে চিত করে বুকে দুই আঙুল দিয়ে পাঁচবার চাপ দিন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রশিক্ষণে এই পদ্ধতি শেখানো হয়।

এক বছরের বেশি বয়স হলে

এ ক্ষেত্রে ‘হাইমলিক পদ্ধতি’ প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এটি সঠিকভাবে না শিখে প্রয়োগ করা উচিত নয়। ভুলভাবে করলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের আশঙ্কা থাকে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞই অভিভাবকদের প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ নেওয়ার পরামর্শ দেন।

যেসব ভুল করবেন না

সবচেয়ে বড় ভুল হলো, চোখে না দেখে আঙুল বা চামচ দিয়ে খাবার বের করতে চেষ্টা করা। এতে খাবার আরও ভেতরে সরে গিয়ে শ্বাসনালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কখনও একা ছেড়ে দেবেন না।

খাওয়ানোর সময় শিশুকে বসিয়ে রাখুন। দৌড়াতে দৌড়াতে বা খেলতে খেলতে খাবার দেবেন না। খাবার সব সময় ছোট ছোট টুকরো করে দিন, যাতে গিলতে সুবিধা হয়।

শিশুর নিরাপত্তা সচেতনতার ওপরই অনেকাংশে নির্ভর করে। তাই আতঙ্ক নয়, আগে জানুন তারপরই পদক্ষেপ নিন। সচেতনতা ও সঠিক পদক্ষেপই হতে পারে একটি প্রাণ বাঁচানোর চাবিকাঠি।

সূত্র : টিভি নাইন বাংলা

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়