স্পোর্টস ডেস্ক: আবুধাবিতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের ১৫৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটির পরও ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি পাওয়া হয়নি দুজনের।
শান্ত ৮২ ও মুশফিক ৮১ রান করে ফিরেছেন। তৃতীয় দিনের খেলা শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২২৩ রান। সব মিলিয়ে সফরকারীদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩২৯ রানে।
সোমবার শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে দিনের শুরুতে আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস ২৪০ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। এর ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পায় টাইগাররা। -- ডেইলি ক্রিকেট
বাংলাদেশের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করে হ্যাটট্রিকসহ ৫ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। এবাদত হোসেনের শিকার ৪ উইকেট। শেষ ছয় উইকেটে মাত্র ২৩ রান যোগ করতে পেরেছে আফগানিস্তান।
প্রথম ইনিংসের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ৩৮ বলে ৩১ রান করেন তানজিদ হাসান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬ টি চার। তবে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় তাঁকে। এর আগে বিদায় নেন সাদমান ইসলাম ও মুমিনুল হক। ফলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেই চাপ সামাল দেন মুশফিক ও শান্ত। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হওয়া মুশফিক দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণ প্রত্যাবর্তন করেন। ১০৪ বলে ৭ টি চারের সাহায্যে ৮১ রান করেন তিনি। ৭৩ বলে তুলে নেন টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩০তম অর্ধশতক। তবে জিয়া-উর-রহমানকে উইকেটরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়ে উইকেট হারান অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
অন্যদিকে, ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে ইনিংস গড়ে তোলেন শান্ত। ১৩৫ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করার পর রানের গতি বাড়ান বাংলাদেশ অধিনায়ক। ইনিংসের শুরুতে উইকেটের পেছনে ক্যাচের সুযোগ থেকে বেঁচে যান তিনি।
পরে এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউ নিয়ে পাল্টেও দেন। তবে শেষ পর্যন্ত কায়েস আহমদের লেগ-ব্রেক বল তাঁর ব্যাটের প্রতিরোধ ভেঙে স্টাম্পে আঘাত করলে ৮২ রানে থামে শান্তর ইনিংস। এরপর নাইটওয়াচম্যান হিসেবে নামা হাসানও এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান জিয়া-উর-রহমানের বলে। দিনের শেষ পর্যন্ত উইকেটে ছিলেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
এর আগে তৃতীয় দিনের খেলা শুরুতে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল আফগানিস্তান। আগের দিনের ৪ উইকেটে ২১৭ রান নিয়ে দিন শুরু করা দলটির অধিনায়ক রহমত শাহ অপরাজিত ছিলেন শতরানে। তবে এবাদত ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ তৈরি করেন। নতুন বলে এরপর তাণ্ডব চালান হাসান মাহমুদ। প্রথমে ইসমত আলমকে বোল্ড করেন তিনি। পরের বলে কায়েস আহমদকে লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন।
এরপর জিয়া-উর-রহমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের আবেদন আম্পায়ার নাকচ করলেও রিভিউ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিজেদের পক্ষে আনেন টাইগাররা। তাতেই পূর্ণ হয় হাসানের হ্যাটট্রিক। পরে ইয়ামিন আহমদজাইকে শূন্য রানে ফিরিয়ে ৩৮ রানে ৫ উইকেট পূর্ণ করেন এই পেসার।
এই কীর্তির মাধ্যমে টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম পেসার হিসেবে হ্যাটট্রিকের মালিক হলেন হাসান মাহমুদ। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে টেস্টে হ্যাটট্রিক করেছিলেন আলোক কাপালি ও সোহাগ গাজী। পাশাপাশি টেস্টে নিজের চতুর্থ পাঁচ উইকেটের কীর্তি গড়ে বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ পাঁচ উইকেট নেওয়ার রেকর্ডে শাহাদাত হোসেনের পাশে বসেছেন তিনি।
আফগানিস্তানের হয়ে অধিনায়ক রহমত শাহ ১০৯ রানে অপরাজিত থাকেন। ১৩ টেস্টে এটি তাঁর চতুর্থ সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়। শেষ উইকেটে মোহাম্মদ সালিমকে আউট করে আফগানিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন এবাদত। ৫৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দিন শেষ করেন তিনি।
তৃতীয় দিন শেষে ৩২৯ রানের লিড নিয়ে ম্যাচে চালকের আসনে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনে ব্যাট হাতে লিড আরও বাড়িয়ে আফগানিস্তানের সামনে বড় লক্ষ্য দাঁড় করানোই থাকবে টাইগারদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।