শিরোনাম
◈ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি, চীন-ভারত-দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রবৃদ্ধি ◈ কাশ্মীরে ৬০০ ‘বাংলাদেশি’ শনাক্তের দাবি ভারতের, ১৫০ জনকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে ‘পুশ ইন’ প্রস্তুতি! ◈ প‌থে থাকা ২০ লাখ শিশু নেই সরকারের খাতায় ◈ ফিফা আসিয়ান কাপে ইন্দোনেশিয়া চ‌্যা‌ম্পিয়ন ◈ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েনে দীনেশ ত্রিবেদীর দৌড়ঝাঁপ, তারেক রহমানকে দিল্লি নিতে ভারতের তৎপরতা! ◈ ‌ফ্রা‌ন্সের বা‌জিমাত, ১৪ মিনিটে বেল‌জিয়াম‌কে দি‌লো চার গোল ◈ বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বন্ধের বিষয়ে যেসব নির্দেশনা দিয়েছে লাওস ◈ লিও‌নেল মেসির মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়  ◈ যুক্তরাষ্ট্রে হামের ভয়াবহ বিস্তার, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা! ◈ মঞ্চ প্রস্তুত, বিদায়ী ম‌্যাচ রাঙা‌তে আ‌র্জেন্টিনার জা‌র্সিতে মে‌সিও প্রস্তুত, ১০ নম্বর জার্সির নতুন মালিক কে হ‌চ্ছেন?

প্রকাশিত : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ দুপুর
আপডেট : ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০২ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

লিও‌নেল মেসির মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় 

স্পোর্টস ডেস্ক : একদিন তিনি কেঁদেছিলেন। খুব কেঁদেছিলেন। মারাকানার সবুজ ঘাসে দাঁড়িয়ে বিশ্বকাপের ট্রফিটা যখন জার্মানির হাতে, লিওনেল মেসির চোখেমুখে তখন শুধুই শূন্যতা। চারপাশে হাজারো আর্জেন্টাইন সমর্থকের কান্না। আর মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক মানুষ—যার পায়ের জাদুতে কোটি মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, অথচ স্বপ্নটা তখনও অধরা।

সেই মেসিই কয়েক বছর পর লুসাইলের আকাশের নিচে বিশ্বকাপ হাতে দাঁড়িয়েছেন। চোখে জল ছিল, কিন্তু সেই জল এবার আনন্দের। মারাকানার বিষাদ পেরিয়ে লুসাইলের বিজয়—দুই দশকের এই পথচলাই যেন ফুটবলের সবচেয়ে সুন্দর মহাকাব্য।

২০০৪ সালের ১৬ অক্টোবর। কাতালোনিয়ার মাঠে ১৭ বছরের এক কিশোর বদলি হিসেবে নামলেন। তখন কে জানত, এই ছোটখাটো ছেলেটিই একদিন ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রদের একজন হবেন?

আর্জেন্টিনার জার্সিতে শুরুটাও ছিল নাটকীয়। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর মাত্র দুই মিনিটেই লাল কার্ড। যেন শুরুতেই ভাগ্য বলে দিয়েছিল—এই গল্পে আলো যেমন থাকবে, তেমনি থাকবে অন্ধকারও।

Advertisement

তারপর শুধুই উত্থান।বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার অধীনে মেসি হয়ে উঠলেন এক ফুটবল-শিল্পী। তাঁর বাঁ পায়ের প্রতিটি স্পর্শ, ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার প্রতিটি মুহূর্ত, গোলের সামনে তাঁর নিখুঁত ফিনিশিং—সব মিলিয়ে ফুটবল যেন নতুন এক ভাষা পেল। ২০১২ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯১ গোল! সংখ্যাটা এতটাই অবিশ্বাস্য যে আজও সেটি রেকর্ডের পাতায় বিস্ময় হয়ে আছে। কিন্তু ক্লাবের সাফল্য যত বাড়ছিল, জাতীয় দলের জার্সিতে ততই বাড়ছিল মেসির যন্ত্রণা।

২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে হার। ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হার। পরের বছরও একই প্রতিপক্ষ, একই যন্ত্রণা। টানা তিন ফাইনাল হারার পর নিউ জার্সির মাঠে বসে মেসির চোখে যে শূন্যতা দেখা গিয়েছিল, তা ভুলতে পারেনি ফুটবল বিশ্ব।

সেদিনই এসেছিল অবসরের ঘোষণা। অনেকে ভেবেছিলেন, এটাই হয়তো শেষ। কিন্তু মেসির গল্প তখনও শেষ হয়নি। নীল-সাদা জার্সিতে ফিরে এলেন তিনি। ফিরলেন আরও ক্ষুধার্ত হয়ে, আরও দৃঢ় হয়ে। ২০২১ সালে অবশেষে এল সেই বহু প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক শিরোপা—কোপা আমেরিকা। মেসির হাতে উঠল জাতীয় দলের ট্রফি।

তবু যেন একটা শূন্যতা রয়ে গেল। বিশ্বকাপ। যে ট্রফির জন্য এত বছর অপেক্ষা, এত কান্না, এত সমালোচনা—সেটিই তখনও অধরা। তারপর ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর। লুসাইল স্টেডিয়াম। আর্জেন্টিনা বনাম ফ্রান্স। বিশ্বকাপের ফাইনাল।
এক ম্যাচে যেন মিশে গেল মেসির পুরো ক্যারিয়ার—উত্থান, পতন, হতাশা, প্রত্যাবর্তন আর শেষ পর্যন্ত বিজয়।

ফ্রান্সকে হারিয়ে মেসি যখন বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তুললেন, তখন শুধু একটি শিরোপাই জিতলেন না। যেন বহু বছরের সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিলেন। যে মানুষটিকে একসময় বলা হয়েছিল, জাতীয় দলের হয়ে তিনি কিছুই জিততে পারেননি—সেই মানুষটিই হয়ে গেলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

মারাকানার কান্না বদলে গেল লুসাইলের হাসিতে।বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু থেকে প্যারিস, সেখান থেকে মায়ামি—মেসির ঠিকানা বদলেছে। বয়স বেড়েছে। শরীর আগের মতো সাড়া দেয় না। কিন্তু বাঁ পায়ের জাদু আর মানুষের ভালোবাসা কমেনি। আজ মনুমেন্তালের সবুজ ঘাসে যখন বেনিনের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জার্সিতে নামবেন মেসি, তখন হয়তো তাঁর সামনে আর কোনো অসমাপ্ত স্বপ্ন নেই। নেই বিশ্বকাপ জয়ের চাপ, নেই নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের তাড়া।

আছে শুধু বিদায়ের আবহ

গ্যালারিতে হয়তো উঠবে ‘মেসি, মেসি’ ধ্বনি। কেউ হয়তো চোখ মুছবেন। কেউ ফিরে যাবেন ২০০৪-এর সেই কিশোরের কাছে। কেউ মনে করবেন মারাকানার কান্না, কেউ লুসাইলের রাত।

আর মেসি?

হয়তো শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সিতে বলটা বাঁ পায়ে নেবেন। পরিচিত সেই বাঁক, সেই গতি, সেই পাস—ফুটবলকে আরও একবার মনে করিয়ে দেবেন, কেন তিনি মেসি। দুই দশকের মহাকাব্যের শেষ অধ্যায় লেখা হবে আজ। কিন্তু মেসির গল্পের শেষ? তা কি আর কখনো হয়? ফুটবল যতদিন থাকবে, মারাকানা থেকে লুসাইল—মেসির এই যাত্রাও ততদিন বেঁচে থাকবে।

  • সর্বশেষ