স্পোর্টস ডেস্ক : জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০১৬ সালে ফিফার সভাপতি নির্বাচিত হন। সে সময় তিনি এএফসি সভাপতি শেখ সালমান আল-খলিফাকে ১১৫-৮৮ ভোটে পরাজিত করেছিলেন। ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচিত হবেন আগামী মার্চে মরক্কোতে অনুষ্ঠিতব্য সংস্থাটির ৭৭তম কংগ্রেসে। প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ই নভেম্বর।
বিশ্বকাপ বিক্রি নিয়ে চলতি সপ্তাহের ঘটনাগুলোর আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ইনফান্তিনো বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও নির্বাচিত হবেন। ইউরোপের কয়েকটি দেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্য ফেডারেশন ইতোমধ্যে তাকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছিল। তবে এ সপ্তাহের বিতর্কের পর তারা সেই সমর্থন প্রত্যাহার করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পরিকল্পনা বাতিলের ঘোষণায় ইনফান্তিনো বলেন, তার প্রস্তাবের উদ্দেশ্য ছিল সদস্য ফেডারেশনগুলোকে আরও শক্তিশালী করা, বিশেষ করে যেসব দেশে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য সবসময়ই ছিল এবং থাকবে সবাইকে একত্রিত করা এবং উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু বাস্তবে এই প্রস্তাব ফিফার ভেতরেই বড় ধরনের বিভাজন সৃষ্টি করেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ উপলক্ষে হোয়াইট হাউসের টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করা কার্লোস কর্দেইরো এই পরিকল্পনার কারণে পদত্যাগ করা প্রথম শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা।
একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে কর্ডেইরো বলেছেন, তিনি এই পরিকল্পনার দ্ব্যর্থহীনভাবে বিরোধিতা করেছেন এবং ফিফার বৃহত্তর মূল্য উন্মোচনের জন্য বাইরের বিনিয়োগকারী প্রয়োজন এই প্রস্তাব তিনি গ্রহণ করেননি। তিনি আরও যোগ করেন যে, এই প্রস্তাবে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
জানা গেছে, প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বা সাড়ে সাত বিলিয়ন পাউন্ড সংগ্রহ করতে পারত বলে দাবি করা এই পরিকল্পা সম্পর্কে ফিফার আটজন সহ-সভাপতির (ভাইস প্রেসিডেন্ট) কয়েকজনকেও আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুর এই উদ্যোগকে একজন ব্যক্তির প্রকল্প" বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, একজন সভাপতির কাজ হলো মানুষকে একত্র করা, তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা এবং অনুপ্রাণিত করা। কিন্তু এই পরিকল্পা ছিল তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি আরও বলেন, এ কারণে যদি আমার চাকরি চলে যায়, তবুও আমি তা মেনে নেব এবং সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করব। অন্তত আজ রাতে আমি নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারব।