স্পোর্টস ডেস্ক : ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১-০ গোলের হৃদয়বিদারক হার শুধু মাঠের ঘটনাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ম্যাচের আগে লিওনেল মেসির ড্রেসিংরুমের বক্তব্যের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়। অনেকেই দাবি করতে থাকেন, অধিনায়ক মেসির সেই বক্তব্যে হয়তো ম্যাচের আগে দলের ভিতরে কোনও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
তবে সেই সব গুঞ্জনের অবসান ঘটাতে এগিয়ে এলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের বাবা কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার। রেডিও লা রেড-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মেসির বক্তব্যে কোনও অভ্যন্তরীণ সমস্যা বা বিতর্কের বিষয় ছিল না। ----- আজকাল
কার্লোস বলেন, কিছু সাংবাদিকের জন্য এটা বোঝা কঠিন যে, কখনও কখনও হারের পর একমাত্র ব্যাখ্যা হতে পারে প্রতিপক্ষ দল আপনার চেয়ে ভালো খেলেছে। তখন অন্য কোনও কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়, আর সেটাই বড় করে প্রচার পায়।
তিনি আরও বলেন, গতকাল আমি অ্যালেক্সিসকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, আসলে কিছু ঘটেছিল কি না। কারণ অনলাইনে এসব দেখে আমার নিজেরও সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। অথচ আমি জানি, যদি সত্যিই কিছু ঘটত, আমার ছেলে আমাকে সঙ্গে সঙ্গেই জানাত। তাহলে ভাবুন, বাকিদের মনে কী ধরনের সন্দেহ তৈরি হতে পারে।
অ্যালেক্সিসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে কার্লোস জানতে পারেন, ফাইনালের আগে মেসির বক্তব্য ছিল পুরোপুরি ফুটবলকেন্দ্রিক। স্পেনের বিপক্ষে কীভাবে খেলতে হবে, দলের কৌশল কী হবে—সেই বিষয়েই আলোচনা করেছিলেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক।
কার্লোস ম্যাক অ্যালিস্টার বলেন, “অ্যালেক্সিস আমাকে জানিয়েছে, তারা আলোচনা করেছিল মাঠে নেমে ফুটবল খেলতে হবে—পাস দেওয়া, একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করা এবং শুধু লম্বা বল খেলা যাবে না। এটাই বোঝানো হয়েছিল। এরপর ওই পোস্টকে ঘিরে নানা সন্দেহ তৈরি হয় এবং অনেকেই আমাকে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছেন।
মেসির বক্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের পাশাপাশি কার্লোস জোর দিয়ে বলেন, আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পেছনে মাঠের বাইরের কোনও ঘটনা নয়, বরং স্পেনের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই ছিল মূল কারণ।
তিনি বলেন, “সবাই জানে আমরা স্পেনের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম, আর তারা আমাদের চেয়ে ভালো দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে।
ফলে মেসির প্রাক-ম্যাচ বক্তব্য ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা উড়িয়ে দিয়ে ম্যাক অ্যালিস্টারের বাবা স্পষ্ট করেছেন, আর্জেন্টিনার হার কোনও অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে নয়, বরং ফাইনালে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্বের কারণেই এসেছে।