অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নিল স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে লা রোহা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলই একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও কোনো দলই জালের দেখা পায়নি। ম্যাচের শেষ দিকে এনসো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। সেই সংখ্যাগত সুবিধা নিয়েই অতিরিক্ত সময় শুরু করে স্পেন।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের মাথায় আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। ডান দিক থেকে পেদ্রো পোরোর ক্রস দূরের পোস্টে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ফেরান তোরেসের সামনে বল বাড়িয়ে দেন নিকো উইলিয়ামস। সুযোগ হাতছাড়া না করে ডান পায়ের দুর্দান্ত ভলিতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন তোরেস। ১০৬ মিনিটের সেই গোলই শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণ করে দেয়।
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা ইতিহাসের মাত্র পঞ্চম ফুটবলার হন ফেরান তোরেস। পাশাপাশি ২০১৪ সালে জার্মানির মারিও গ্যোটজের পর প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করার কীর্তিও গড়েন তিনি।
গোলের আগেও স্পেন ছিল আক্রমণে বেশি কার্যকর। ৯৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের হেড দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ৯৬ মিনিটে উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ভিএআর পর্যালোচনার পর মিকেল মেরিনোর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন রেফারি। ১০৫ মিনিটে উইলিয়ামসের ক্রস থেকে মেরিনোর হেড অল্পের জন্য পোস্টের বাইরে চলে যায়।
পুরো ম্যাচজুড়েই আর্জেন্টিনাকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে স্পেনের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করেন তিনি। তবে ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত ভলির সামনে তারও কিছু করার ছিল না।
গোল হজমের পর লিওনেল মেসির নেতৃত্বে সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় আর্জেন্টিনা। ১১৫ মিনিটে কর্নার থেকে মেসির ক্রস সরাসরি জালে ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হলেও বল জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১১৭ মিনিটে মেসির জোরালো শট নিজের মুখ দিয়ে ঠেকিয়ে নিশ্চিত গোল বাঁচান স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
যোগ করা সময়ে সমতায় ফেরার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। কর্নার থেকে বল পেয়ে জুলিয়ানো সিমেওনে পড়তে পড়তে শট নিলেও তা অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির ফ্রি-কিক থেকেও তৈরি হওয়া বিপজ্জনক পরিস্থিতি সফলভাবে সামাল দেন মেরিনো ও তরুণ ডিফেন্ডার পাও কুবার্সি।
শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও আর সমতায় ফিরতে পারেনি ১০ জনের আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের করা একমাত্র গোলেই বিশ্বকাপের ফাইনাল জিতে শিরোপা নিজেদের করে নেয় স্পেন।