বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার লড়াই প্রত্যাশামতোই তীব্র উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। তবে প্রথমার্ধে গোল তো দূরের কথা, দুই দলের কেউই গোলপোস্ট লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেনি। ফলে ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধ অন-টার্গেট শট ছাড়াই শেষ হওয়ার বিরল রেকর্ড গড়ে।
বুধবার (১৫ জুলাই) বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১টায় আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল শারীরিক লড়াইয়ের ছাপ। দ্বিতীয় মিনিটেই জুদ বেলিংহ্যামকে ট্যাকল করে ফাউল করেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। এরপর মেসি, বেলিংহ্যাম, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও এনজো ফার্নান্দেজকে ঘিরে মাঝমাঠে কয়েক দফা উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রথম ১০ মিনিটেই আর্জেন্টিনা চারটি ফাউল করে, যা চলতি বিশ্বকাপে কোনো দলের প্রথম ১০ মিনিটে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ফাউলের রেকর্ড।
প্রথমার্ধজুড়ে দুই দলই মাঝমাঠে একে অপরকে আটকে রাখে। ৩২ মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে জন স্টোনসের হেড অল্পের জন্য জালের বাইরে চলে যায়। ৩৭ মিনিটে মেসিকে শক্ত ট্যাকল করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন এলিয়ট অ্যান্ডারসন। দুই মিনিট পর মেসির বুদ্ধিদীপ্ত ফ্রি-কিক থেকে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে মরগান রজার্সকে টেনে থামিয়ে আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজও হলুদ কার্ড দেখেন। অতিরিক্ত তিন মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা না পাওয়ায় গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরেই ম্যাচের গতি বাড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে মরগান রজার্সের দারুণ ক্রস থেকে বক্সের ভেতরে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে অ্যান্থনি গর্ডন বল জড়িয়ে দেন আর্জেন্টিনার জালে। তার গোলে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় থ্রি লায়ন্সরা।
গোল হজমের পরই সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি করেছিল আর্জেন্টিনা। ৫৮ মিনিটে জুলিয়ানো সিমিওনে প্রায় ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ঠিক সময়মতো বক্সের ভেতরে অসাধারণ ট্যাকল করে নিশ্চিত গোল বাঁচান ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার জেড স্পেন্স। গুরুত্বপূর্ণ এই ট্যাকলের পর সতীর্থদের উচ্ছ্বাসই বলে দিচ্ছিল, গোলের সমান মূল্য ছিল সেই রক্ষণাত্মক প্রচেষ্টার।
ম্যাচের ৬৪ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন আনে আর্জেন্টিনা। লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে তুলে মাঠে নামানো হয় নিকো গঞ্জালেজকে। আক্রমণে নতুন গতি এনে সমতায় ফেরার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন করেন আর্জেন্টাইন কোচ।
৬৪ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। আর্জেন্টিনা সমতা ফেরানোর মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইংল্যান্ড এই লিড ধরে রেখে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে জায়গা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে লড়াই করছে।