স্পোর্টস ডেস্ক : ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে প্রথমবার সাক্ষাত হয়েছিলো দুই দলের। এরপর দীর্ঘ ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নতুন করে লড়াইয়ে নামছে তারা। স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় ফিরে এসেছে সেই রোমাঞ্চকর ম্যাচ, যেখানে অতিরিক্ত সময়ের ১১৮তম মিনিটে আনহেল ডি মারিয়ার একমাত্র গোলে জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা।
সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচের পর দুই দলের বাস্তবতায় এসেছে বড় পরিবর্তন। তখন লিওনেল মেসি ছিলেন ক্যারিয়ারের সোনালি সময়ে, আর আর্জেন্টিনা প্রায় তিন দশকের বিশ্বকাপ শিরোপা-খরা কাটানোর মিশনে ছিল। অন্যদিকে, ১৯৫৪ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিল সুইজারল্যান্ড।
ম্যাচজুড়ে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু সুইস রক্ষণভাগের দৃঢ়তায় নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পায়নি তারা। অতিরিক্ত সময়েও যখন ম্যাচ টাইব্রেকারের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই জ্বলে ওঠেন মেসি ও ডি মারিয়া। ১১৮তম মিনিটে মেসির নিখুঁত পাস ধরে বক্সের ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের দুর্দান্ত শটে জয়সূচক গোল করেন ডি মারিয়া। শেষ মুহূর্তে সুইজারল্যান্ড মরিয়া চেষ্টা চালালেও ১-০ ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত অক্ষুণ্ন থাকে।
এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলছে আর্জেন্টিনা। ২০২২ সালে কাতারে শিরোপা জয়ের আগে ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও রানার্সআপ হয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এখন ৩৯ বছর বয়সী মেসি আগের মতো গতিময় না হলেও মাঠে তার প্রভাব এখনো অটুট। চলতি আসরে তিনি ইতোমধ্যে ৮ গোল করেছেন। পাশাপাশি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও তার নামের পাশে রয়েছে ২১ গোল।
শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনেও বড় ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক মেসি। ৭৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ম্যাচ শেষে মেসি বলেন, "আমরা আবারও কঠিন লড়াই করে জিতেছি। এটাই বিশ্বকাপের বাস্তবতা। প্রতিটি ম্যাচই কঠিন। এই দল কখনো হাল ছাড়ে না, শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়।
অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে সুইজারল্যান্ডও। গোলশূন্য ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে কলম্বিয়াকে হারিয়ে ৭২ বছর পর শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে মুরাত ইয়াকিনের দল। তাই বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষেও আত্মবিশ্বাসী সুইসরা। যদিও আর্জেন্টিনাকে ফেভারিট মানছেন ইয়াকিন, তবু তাদের অপরাজেয় ভাবতে নারাজ তিনি।
২০১৪ সালের সেই ম্যাচের তিন ফুটবলার এখনও দুই দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। আর্জেন্টিনার হয়ে খেলছেন লিওনেল মেসি, আর সুইজারল্যান্ডের হয়ে আছেন অধিনায়ক গ্রানিত জাকা ও ডিফেন্ডার রিকার্ডো রদ্রিগেজ। পুরোনো সেই লড়াই স্মরণ করে জাকা বলেন, "মেসির যুগে খেলতে পারাটা সৌভাগ্যের। ২০১৪ সালে আমরা তার বিপক্ষে খেলেছিলাম এবং হেরেছিলাম। আমরা জানি তিনি কতটা ভয়ংকর হতে পারেন। তবে শুধু মেসি নন, পুরো আর্জেন্টিনা দলই অসাধারণ।