শিরোনাম
◈ নতুন পাঁচজনকে নিয়ে মন্ত্রিসভায় রদবদল, কে কোন দায়িত্ব পাচ্ছেন? ◈ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি: রয়টার্সকে প্রেস সচিব ◈ ইতালির তৃতীয় বিভাগ ক্লাব রাভেনা এফসির অংশীদার হলেন রোনালদিনহো ◈ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ◈ ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুলের শপথ আজ: বঙ্গভবনে অতিথিদের ভিড়, জোরদার নিরাপত্তা ◈ ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন কঠিন, ঝুঁকিতে বাংলাদেশি তরুণদের স্বপ্ন ◈ বিমান থেকে সরানো হচ্ছে আফরোজাকে, পাচ্ছেন যে মন্ত্রণালয় ◈ সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্ক সামরিক জোটে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদান নিয়ে যা বলছে ভারত ◈ রাজস্থানে ককরোচ পার্টির ওপর হামলা, বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ◈ তারেক রহমানের সফরের প্রস্তুতির খবর দিয়ে আবার প্রত্যাহার করল ভারত

প্রকাশিত : ০২ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৩১ সকাল
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৭:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

টাকার অভাবে রোনালদোর পর্তুগাল এগোতে পার‌ছে না

স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে অন্যতম ফেবারিট তারা। তাদের আছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো কিংবদন্তি ফুটবলার। শুধু রোনালদোই নন, মিডফিল্ড থেকে শুরু করে রক্ষণভাগ—দলের প্রতিটি পজিশনেই বিশ্বসেরা তারকাদের মেলা। অনেকের মতে পর্তুগালের ইতিহাসের সেরা দলই এটি। খাতা কলমে কিংবা মাঠের শক্তিতে পর্তুগালকে তাই মনে হয় এক অপ্রতিরোধ্য পাওয়ারহাউজ। কিন্তু এই চোখধাঁধানো দলের পেছনেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত সংকট, যা বড় মঞ্চে এসে বারবার হোঁচট খাওয়াচ্ছে পর্তুগিজদের।

ইউরো বা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পর্তুগালকে কেন জার্মানি কিংবা স্পেনের মতো অপ্রতিরোধ্য দেখায় না? নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে এই কোটি টাকার প্রশ্নের এক অদ্ভূত আর বাস্তবসম্মত উত্তর নিয়ে হাজির হলেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা। রিয়াল মাদ্রিদের এই নতুন তারকার মতে, কোনো কৌশল বা প্রতিভার অভাব নয়, বরং ক্লাব ফুটবলে ‘টাকার অভাবই’ আন্তর্জাতিক মঞ্চে একচুলও এগোতে দিচ্ছে না রোনালদোর পর্তুগালকে। --- টি স্পোর্টস

বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এ ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে পর্তুগালের প্রতিনিধি হয়ে হাজির হন সিলভা। চলতি বিশ্বকাপে পর্তুগালের হতশ্রী পারফরম্যান্স নিয়ে নানান প্রশ্নের উত্তর দিয়ে হয়েছে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে। এমন তারকাখচিত দলেও  জার্মানি বা স্পেনের মতো নির্দিষ্ট কোনো ফুটবল ‘ডিএনএ’ বা খেলার চেনা ধরন নেই, সংবাদ সম্মেলনে সেই আসল কারণটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিলভা সরাসরি আঙুল তুলেছেন দেশটির ক্লাবগুলোর শূন্য পকেটের দিকে। 

সিলভা বলেন, ‘জার্মানির প্রায় সব খেলোয়াড়ই জার্মানির লিগে খেলে, স্পেনের ক্ষেত্রেও তাই—তারা সবাই একই ঘরানার ফুটবল খেলে অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের (পর্তুগালের) সেই চেনা বৈশিষ্ট্যটি নেই। আসলে পর্তুগিজ ক্লাবগুলোর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তারা তারকা খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে পারে না, আর এই কারণেই আমাদের ফুটবল সংস্কৃতিটা ওদের চেয়ে একদম আলাদা।

ক্লাবগুলোর টাকার অভাবে ফুটবলারদের যাযাবরের মতো বাইরে খেলতে যাওয়া এবং জাতীয় দলে তার প্রভাব নিয়ে সিলভা আরও যোগ করেন, ‘আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই দেশের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন লিগে এবং ভিন্ন কৌশলের অধীনে খেলে। ফলস্বরূপ, জাতীয় দলে এসে একে অপরের সাথে মানিয়ে নেওয়াটা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়; বিশেষ করে জাতীয় দলের প্রস্তুতির জন্য যখন হাতে সময় থাকে একদম সীমিত।

বিষয়টিকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে সিলভা বলেন, ‘প্রক্রিয়াটা আসলেই বেশ কঠিন। যদিও আমি মনে করি দলের একটা নির্দিষ্ট খেলার ধরন থাকাটা দারুণ এবং প্রাসঙ্গিক হতো, কিন্তু বাস্তব সত্য হলো—আমাদের কখনো এমন কোনো সুনির্দিষ্ট স্টাইল ছিল না এবং এখনো নেই। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিশ্বকাপের মতো এই সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্টগুলো শুধু এই একটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে না।

বিশ্বকাপের মঞ্চে পর্তুগালের সর্বোচ্চ সাফল্য সেই ১৯৬৬ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে, কিংবদন্তি ইউসেবিওর হাত ধরে এসেছিল তৃতীয় স্থান। এরপর ২০০৬ সালেও তারা সেমিফাইনালে উঠেছিল, তবে  ট্রফি ছোঁয়া হয়নি কখনোই। কিন্তু এবারের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর এই দলটিকে নিয়ে পর্তুগিজ সমর্থকদের প্রত্যাশা অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে আকাশচুম্বী। একে তো সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার রোনালদোর ক্যারিয়ারের এটাই শেষ বিশ্বকাপ, তাঁর ওপর বর্তমান স্কোয়াডটি দলটির ইতিহাসের অন্যতম ‘সোনালী প্রজন্ম’।

আসরের অন্যতম হট ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও ‘কে’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি পর্তুগাল। কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার পর উজবেকিস্তানকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল পর্তুগিজরা। কিন্তু শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে রানার্সআপ হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে হয়েছে তাদের।

দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ধেয়ে আসা সমালোচনা মাথা পেতে নিয়ে সিলভা বলেন, ‘সমালোচনা তো প্রক্রিয়ারই একটা অংশ। আমরা সবাই মাঠে আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমরা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের পর্বে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কাজটা আমরা শেষ করতে পারিনি। আমরা আরও ভালো করতে চেয়েছিলাম, তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে না পারাটাই পৃথিবীর শেষ নয়। আমরা নকআউটের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এই ধরণের দলগুলোর বিপক্ষে খেলা যে কতটা কঠিন, কলম্বিয়া ম্যাচটি আমাদের জন্য সেই বড় পরীক্ষাই ছিল।

তবে সব বাধা পেরিয়ে পর্তুগাল যে এবার বিশ্বকাপ জিততে পারে, সেই আত্মবিশ্বাস সিলভার কণ্ঠে স্পষ্ট। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কোনো সন্দেহ ছাড়াই আমরা ট্রফি জিততে পারি। সেই বিশ্বাস না থাকলে তো আমরা এখানে আসতামই না। আমরা অনেক বড় স্বপ্ন আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে মার্কিন মুলুকে পা রেখেছি। আমরা জানি, বাকি দলগুলোও একই লক্ষ্য নিয়ে এসেছে। ফাইনাল নিয়ে ভাবার মতো সময় এখনো আসেনি, অনেক পথ বাকি; তবে এই দলের ওপর আমার অগাধ আস্থা আছে। আমরা ভালো পজিশনে থেকেই সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা জানি আমাদের আরও উন্নতি করতে হবে, তবে একই সাথে আমাদের বিশ্বাস—সামনে সবকিছু দারুণভাবেই এগোবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়