বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এ জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে প্যারাগুয়ে। আর সেই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল। তবে বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ানোর আগে তাকে পেরোতে হয়েছে জীবনের কঠিনতম সংগ্রাম। একসময় নবজাতক সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে নিজের ফুটবল বুট, জার্সি, ট্রেনিং কিট—এমনকি স্মৃতিবিজড়িত অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিটিও বিক্রি করতে হয়েছিল তাকে।
জার্মানি-প্যারাগুয়ের ম্যাচটি নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে ১-১ গোলে শেষ হয়। ৪২তম মিনিটে হুলিও এনসিসোর গোলে এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। পরে ৫৪তম মিনিটে কাই হাভার্টজ সমতা ফেরান জার্মানির হয়ে। এরপর আর কোনো দল গোল করতে না পারায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে।
সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় প্যারাগুয়ে। পুরো ম্যাচজুড়ে জার্মানির একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন গিল। অতিরিক্ত সময়েও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে দলকে ম্যাচে রাখেন তিনি। আর টাইব্রেকারে তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ের জয়। স্বীকৃতি হিসেবে ম্যাচসেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতে।
তবে মাঠের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক বেদনাদায়ক জীবনসংগ্রাম। ২০২২ সালের শেষ দিকে স্ত্রী মেলিসা অ্যাভালোসের জটিল গর্ভাবস্থার কারণে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে থাকতে হয়। জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্মের পর নবজাতককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। চিকিৎসার বিপুল ব্যয় সামলাতে গিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েন গিল।
পরে ২০২৫ সালে ইনস্টাগ্রামে সেই সময়ের কথা স্মরণ করে মেলিসা লেখেন, তাদের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে অরল্যান্ডো নিজের ফুটবল-সংক্রান্ত প্রায় সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছিলেন। শুধু বুট বা ট্রেনিং সরঞ্জামই নয়, স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে রেখে দেওয়ার সুযোগ না পেয়েই অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় দলের জার্সিটিও বিক্রি করতে হয়েছিল। তার ভাষায়, "সে আক্ষরিক অর্থেই সবকিছু বিক্রি করে দিয়েছিল।"
বর্তমানে ২৬ বছর বয়সী গিল আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লরেঞ্জো দে আলমাগ্রোর হয়ে খেলছেন। এর আগে তিনি প্যারাগুয়ের একটি ক্লাবে খেলতেন। ২০২৩ সালে লোনে সান লরেঞ্জোতে যোগ দেওয়ার পর সেখানেই নিজের জায়গা করে নেন। যদিও ক্যারিয়ারের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। ২০২০ সালে অভিষেকের পর প্রথম দুই বছরে ক্লাবের হয়ে মাত্র দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন।
জাতীয় দলের হয়ে জার্মানির বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল গিলের মাত্র দশম উপস্থিতি। কিন্তু অল্প অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি হয়ে উঠেছেন প্যারাগুয়ের নতুন নায়ক। জীবনযুদ্ধের কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এবার তিনি জয় করলেন ফুটবলের বিশ্বমঞ্চও।