চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসরে দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে গ্রুপ পর্বে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া ও জর্ডানকে হারিয়ে টানা তিন জয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আগামী ৪ জুলাই রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ এবারের আসরের চমক দেখানো দল কেপ ভার্দে।
লিওনেল মেসিদের বর্তমান পারফরম্যান্স সমর্থকদের দারুণ আশাবাদী করে তুললেও, ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দুশ্চিন্তার বড় কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে একটি পরিসংখ্যান—গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে কখনো বিশ্বকাপ জিততে পারেনি আর্জেন্টিনা। এর আগে চারবার গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে উঠলেও প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।
১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে ফ্রান্স, মেক্সিকো ও চিলিকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হলেও ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় আর্জেন্টিনা। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে জাপান, জ্যামাইকা ও ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে নকআউটে গেলেও কোয়ার্টার ফাইনালে নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়।
২০১০ বিশ্বকাপে ডিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও গ্রিসকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে হার ছিল এক বড় লজ্জার স্মৃতি। আর সবশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান এবং নাইজেরিয়াকে গ্রুপ পর্বে হারালেও ফাইনালে জার্মানির কাছে হেরে শিরোপা স্বপ্ন ভঙ্গ হয়।
চলমান আসরে গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচ জিতে আর্জেন্টিনা আবারও নকআউট পর্বে। পুরনো এই ইতিহাস বদলানোর বড় চ্যালেঞ্জ এখন তাদের সামনে। ফুটবলপ্রেমীদের নজর এখন ৪ জুলাইয়ের কেপ ভার্দে ম্যাচের দিকে। প্রশ্ন একটাই—মেসি-মার্তিনেজরা কি পারবে গ্রুপ পর্বের এই শতভাগ জয়ের ছন্দ বজায় রেখে সেই পুরনো তকমা মুছে বিশ্বকাপ ধরে রাখার অভিযান সফল করতে?