মনিরুল ইসলাম: স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে দেশকে পুনর্গঠনের একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ।
তিনি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আজও আপনাদের ৭১ সালের ভূমিকা নিয়ে পরিস্কার অবস্থান তুলে ধরেননি। তিনি বলেন, আপনাদের রাজনৈতিক স্বার্থেই ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আপনাদের ভুমিকা পরিস্কার করা উচিত। এটা সত্য আপনারা ৭১ সালে স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিলেন।
আজ রোববার রাতে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছরের 'ফ্যাসিবাদী শাসনে' দেশের অর্থনীতি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেয়েছে। বর্তমান সরকার সেই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দায়িত্ব গ্রহণ করে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছেন এবং দেশকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে একটি বাস্তবভিত্তিক ও দূরদর্শী বাজেট উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বলেন, বাজেটকে অনেকেই উচ্চাভিলাষী বললেও বিএনপি অতীতেও সংকট মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি দেশকে অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রগতির পথে নিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারাবাহিকতায় দেশের অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের ভিত্তি তিনটি মূল স্তম্ভ-রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন। আগামী এক বছরে সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, তিন বছরে রাজস্ব ও আর্থিক খাতের সংস্কার, বিনিয়োগ ও রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং পাঁচ বছরে উদ্ভাবন নির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সংকটকে সুযোগে পরিণত করতে জানে এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার মধ্য দিয়েই সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমান বাজেটও সেই আত্মবিশ্বাসেরই প্রতিফলন।
সরকারের বৈদেশিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন ও মালয়েশিয়া সফর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে টেকসই উন্নয়নের পথে দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বাজেটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণ সম্ভব হবে।