স্পোর্টস ডেস্ক : ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আয়োজনে এখনও নিজেদের প্রথম জয়ের সন্ধানে আছে ইরান। তবে কোচ আমির গালেনোই মনে করছেন, এরই মধ্যে তার দল জায়গা করে নিয়েছে দেশের ফুটবল ইতিহাসে। যে প্রেক্ষাপটে বিশ্বকাপে খেলতে এসে অপরাজিত রয়েছেন, তাতে এই ফুটবলাররা বিবেচিত হবে জাতীয় বীর হিসেবে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র দিয়ে আসর শুরু করে ইরান। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে রোববার বেলজিয়ামের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে তারা।
দ্বিতীয়ার্ধের অনেকটা সময় একজন কম নিয়ে খেলা বেলজিয়াম বল দখলে এগিয়ে ছিল। কিন্তু ইরানের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। সাতটি সেভ করে ইরানের পয়েন্ট পাওয়ায় বড় অবদান গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দের। -- বিডিনিউজ
ইরানের এই পারফরম্যান্সকে গত ছয় মাসের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যায়ন করতে বললেন গালেনোই। আমি ছয় মাস পেছনে যেতে চাই। আমরা ছয় মাস ধরে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ছিলাম। আমরা নিজেদের লিগ চালাতে পারিনি।
দেরিতে ভিসা পাওয়া, ভ্রমণ বিধিনিষেধ, প্রীতি ম্যাচ বাতিল, দেশে ও বাইরে থাকা ফুটবলাদের বিভক্ত হয়ে থাকাসহ শত প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্বকাপে লড়াই করছে ইরান। এরপরও দল যা খেলছে তাতে মুগ্ধ কোচ গালেনোই।
অনেক দল ম্যাচ বাতিল করেছে, যারা আমাদের বিপক্ষে খেলত। আমরা বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতিতে।
বেলজিয়াম ম্যাচের আগে ১৬ ঘণ্টারও কম সময় অনুশীলন করতে পেরেছে ইরান। ভ্রমণের বিধিনিষেধের জন্য টুর্নামেন্ট জুড়েই তাদের এই পরিস্থিতি থাকবে। বেলজিয়াম ম্যাচ শেষ করে তাদের ছুটতে হবে মেক্সিকোর বেইস ক্যাম্প তিহুয়ানায়। সেখান থেকে প্রস্তুতি নিয়ে সিয়াটলে শুক্রবার মিশরের বিপক্ষে ম্যাচের জন্য ফিরতে হবে যুক্তরাষ্ট্রে।
এতো চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দুটি ম্যাচে হার এড়ানো ইরান কোচের কাছে বিশাল অর্জন, এটা আমাদের ফুটবল ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমি মনে করি না, পৃথিবীর আর কোনো দল এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকত এবং এভাবে খেলতে পারত।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে দুর্দান্ত দৃঢ়তা দেখানো বেইরানভান্দকে প্রশংসায় ভাসালেন ইরান কোচ। এই খেলোয়াড় নিজেদের সবটুকু দিচ্ছে এবং নিজেদের হৃদয় দিয়ে খেলছে। ইতিহাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এদের মনে রাখবে।