স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধে চালু হওয়া বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন উরুগুয়ের কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। তার মতে, এই বিরতি ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না, বরং কেড়ে নিচ্ছে খেলার দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর তীব্র গরমের কারণে এবারের বিশ্বকাপে প্রতি অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে তিন মিনিটের বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেকের নিয়ম চালু করেছে ফিফা। তবে খেলোয়াড় ও কোচদের মধ্যে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
বড় অংশের অভিযোগ, এতে কার্যত ৯০ মিনিটের ম্যাচ চার ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত বাণিজ্যিক বিরতির সুযোগ পাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
উরুগুয়ের কোচ বিয়েলসাও এই হাইড্রেশন ব্রেকের সমালোচকদের পক্ষেই। তার মতে, এটি ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না।
দুই ভাগের বদলে চার ভাগে খেলা হওয়ায় ফুটবলকে এত দিন সাংস্কৃতিকভাবে যেভাবে দেখা হতো, সেটাই বদলে যাচ্ছে। হাইড্রেশন ব্রেকের এই নিয়ম ফুটবলে নতুন কিছু যোগ করছে না, বরং অনেক কিছু কেড়ে নিচ্ছে।
ফুটবলকে মানুষ ভালোবেসেছে এর নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য। অবশ্যই ভিএআরের মতো প্রযুক্তিগত উন্নয়নকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রযুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু এই বিরতির পেছনে অন্য উদ্দেশ্যও আছে। এটা শুধু আমার মত নয়, অনেকের কাছ থেকেই একই কথা শুনছি।
রোববার নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে কেপ ভার্দের মুখোমুখি হবে উরুগুয়ে। প্রথম ম্যাচে চার দলই ১ পয়েন্ট পাওয়ায় গ্রুপের লড়াই বেশ জমে উঠেছে।ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়ে চমক দেখিয়েছে কেপ ভার্দে। তাই সৌদি আরবের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথাও বলেছেন বিয়েলসা।
সৌদি আরবের বিপক্ষে নিষ্প্রভ ছিলেন স্ট্রাইকার ডারউইন নুনেজ। প্রথমার্ধে মাত্র একটি শট নেওয়ার পর বিরতির সময়ই তাকে তুলে নেওয়া হয়। টানা ১৪ ম্যাচে গোলশূন্য থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ২৬ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
তবে নুনেজের মানসিকতা নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই বিয়েলসার।
বিশ্বকাপে খেলা কোনো ফুটবলারের আলাদা করে অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না। এই টুর্নামেন্টের গুরুত্ব, ব্যাপ্তি ও মর্যাদাই তাদের স্বাভাবিকভাবে উজ্জীবিত করে।