পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও নগর উন্নয়নের অংশীদারিত্ব বাড়াতে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। দুই দেশের রাজধানী ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে ‘সিস্টার-সিটি’ সম্পর্ক স্থাপনের একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর পাশাপাশি পৌর পর্যায়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে একমত হয়েছে উভয় দেশ।
শনিবার (২০ জুন) ইসলামাবাদের ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) সদর দপ্তরে সিডিএ চেয়ারম্যান ও ইসলামাবাদের চিফ কমিশনার সোহেল আশরাফ এবং পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে সিডিএ-র পক্ষ থেকে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঢাকা ও ইসলামাবাদকে সিস্টার-সিটি হিসেবে ঘোষণা করার বিষয়টিই ছিল এই আলোচনার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশের হাইকমিশনার মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এই উদ্যোগের জন্য একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া ইতিপূর্বেই তৈরি করা হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হবে।
হাইকমিশনার আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এক ইতিবাচক মোড় নিয়েছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে উভয় দেশই সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের দূত ইসলামাবাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সবুজের ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে ইসলামাবাদের ‘ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভ’-এ বাংলাদেশ হাইকমিশনের নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সিডিএ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি জানান, নতুন এই কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজ এখন সমাপ্তির পথে।
জবাবে সিডিএ চেয়ারম্যান সোহেল আশরাফ আশ্বাস দেন যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন কমপ্লেক্সের বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে এবং ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভের অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্পে সিডিএ সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সোহেল আশরাফ হাইকমিশনারকে অবহিত করেন যে, ডিপ্লোমেটিক এনক্লেভের অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা আধুনিকায়নের জন্য বড় ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এনক্লেভের সৌন্দর্যবর্ধন, উন্নত ক্রীড়া সুবিধা তৈরি এবং একটি আধুনিক ক্লাবহাউস উন্নয়ন।
সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক বিনিময়ের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের হাইকমিশনার জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানের মাটিতে বাংলাদেশের একদল সরকারি কর্মকর্তার প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সফরকালে তারা পাকিস্তানের বিভিন্ন শহর পরিদর্শন করেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।
সিডিএ চেয়ারম্যান এই ধরনের সফর ও বিনিময় কর্মসূচীকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এর ফলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষাগত এবং পৌর বা নগর প্রশাসন পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের পথ আরও সুগম হবে। উভয় পক্ষই দুই রাজধানীর সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তাদের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।