কাকন রেজা, শেরপুর : পঁচাশি মাস। ফাগুন নেই। কেন নেই, এই প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে অনেক দূর যেতে হয়। সোজা ভাষায় বলি, আধিপত্যবাদবিরোধীদের অনেক মূল্যই চুকাতে হয়েছে। ফাগুনে জান সেই মূল্য চুকাতে গেছে। অনেকে দাবি জানান বিচারের। আমিও জানাই। কিন্তু বাস্তবতা কী বলে। কতজন গণমাধ্যম কর্মী হত্যার বিচার হয়েছে এ পর্যন্ত। সাগর-রুনিকে খুন কারা করেছে, তা সবাই জানে। কিন্তু তদন্ত শেষ হয় না। প্রমাণ লোপাট। হ্যাঁ, ডিপ-স্টেট যে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তার বিচার হওয়া কঠিন।
ফাগুন রেজা, ইহসান ইবনে রেজা হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়তো হবে। কতটা হবে সেটাই কথা। ফাগুন হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত কিলার গ্রুপ কারা তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। একজন কারাগারে আছে। সে স্বীকার করেছে, তাদের লিডারের কথায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেই তদন্ত থেমে গেছে সেখানে গিয়ে, যেখানে সেই লিডারকে কে নির্দেশ দিয়েছে হত্যার তা বের করতে। পিবিআই ‘থোড় বড়ি খাড়া’ একটি তদন্ত করেছে। অনেকটা সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের আদলে। এখন তদন্ত সিআইডি’র হাতে। জানি না সিআইডি কতটা পারবে।
অনেকে বলেন, ফাগুন হত্যাকাণ্ডের বিচারের ব্যাপারে আমি কতটা কী করছি। মার চেয়ে মাসির দরদ বেশি আর কী। ফ্যাসিস্টদের একজন, যে আমার পরিচিত, সে প্রশ্ন তুলেছে, আমি হাদিকে নিয়ে ব্যস্ত, ফাগুন হত্যার বিচার নিয়ে ব্যস্ততা নেই আমার। এরা এতটাই ইতর যে, সন্তানহারা পিতা-মাতা নিয়ে কথা বলতেও এরা দ্বিধা করে না। এদের মানবিকতা বলে কিছু নেই। হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু এদের কাঁদায় না। ত্রিশ হাজার আহতদের আহাজারি এদের হৃদয়কে স্পর্শ করে না। এরা মানুষের মধ্যেই পড়ে না। সন্তানহারা পিতা বলে আমি বুঝি হারানোর যন্ত্রণাটা। জুলাই বিপ্লবে যারা শহিদ হয়েছে, তাদের পিতা-মাতাদের কষ্ট আমি বুঝি, তাদের যাতনা আমি অনুভব করি।
আমি আগেই বলেছি, আমি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে বিশ্বাসী নই। নাহলে ফাগুনের কিলার গ্রুপ চিহ্নিত হবার পর তা সম্ভব ছিল। কিন্তু আমি চেয়েছি বিচার। সময় যাক, তবুও বিচার হোক, দৃষ্টান্ত সৃষ্টি হোক। যাতে খুনিরা বুঝতে পারে শেষ পর্যন্ত বিচার হয়, ফাঁসিতে ঝুলতে হয়। যে দৃষ্টান্তের দরুণ আরো ফাগুনদের জান নিরাপদ থাকে।
বিগত রেজিমের সকল প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে, আমার ও আমার কিছু বন্ধু-বান্ধবের চেষ্টায় ফাগুনের কিলার গ্রুপকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। বোঝা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাঘব-বোয়াল রয়েছে কিংবা ডিপস্টেট। আমি বলেই সাজানো অপমৃত্যুর ঘটনাকে শেষ পর্যন্ত হত্যা মামলার প্রকৃত রূপ দেয়া সম্ভব হয়েছে। অন্য কেউ হলে, এটা অপমৃত্যুই থাকতো। এই চেষ্টার পথ কতটা দীর্ঘ ছিল, কতটা বন্ধুর ছিল, তা শুধু আমরাই জানি।
আমি জানি, আমি বুঝি পৃথিবীর গভীরতম কষ্টকে। এই কষ্টের ধারণা শুধু আমারই মতন আরেকজনের রয়েছে। অন্য কারোর এই যাতনা বোঝার উপায় নেই। যারা সান্ত্বনা জানান, যারা আমার পাশে থাকার চেষ্টা করেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু সেই ইতরদের মনে রাখি, যারা মানুষের বহনের অযোগ্য কষ্টকে নিয়ে কটাক্ষ করে। তাদের মনে রাখি এবং ঘৃণা করি।