লক্ষ্মীপুরে বেশ কিছু দিন ধরে এক অদ্ভুত প্রাণীর বিচরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাতের বেলায় লোকালয়ের ঘরবাড়ির আঙিনায় ও গাছগাছালিতে এদের বিচরণ বাড়ে, আর দিনে এরা অনেকটা উধাও হয়ে যায়। শরীর থেকে আঠালো লালা ছিটানো আর ফসলি গাছের লতাপাতা খেয়ে এরা বংশবিস্তার করছে। এতে রাতের বেলা মানুষের চলাচলে ভীতি সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি ফসল রক্ষা নিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ ও বিস্ময় দেখা দিয়েছে। পৌর শহরের কয়েকটি বাড়িতে এমন চিত্র এখন নিত্যদিনের ঘটনা।
জমিন পরিদর্শনে সমসেরাবাদ এলাকার কয়েকটি বাড়ি ঘুরে দেখা যায়, অন্ধকার রাতে প্রতি কদমে কদমে এই অদ্ভুত প্রাণীগুলোর দেখা মিলছে, যা দেখতে অনেকটা লম্বাটে শামুকের মতো। মাটিতে, রাস্তায়, ঘরের আঙিনায় ও গাছগাছালিতে এগুলো অহরহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, এমনকি ময়লার ভাগাড়েও শত শত প্রাণীর উপস্থিতি চোখে পড়ে। শরীর থেকে আঠালো রস ছিটানো এই প্রাণীগুলো সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দল বেঁধে ধীরগতিতে হেঁটে বেড়ায়। লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মনসা বাড়ি, দুর্গা বাড়ি, কালী বাড়ি ও সিঠা ডাক্তার বাড়িসহ অন্তত ১০টি বাড়িতে গত কয়েক মাস ধরে এদের উপদ্রব বেড়েই চলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২৪ সালের বন্যার পর থেকে শামুকের মতো দেখতে লম্বা আকৃতির এই অদ্ভুত প্রাণীগুলোর বিচরণ তাদের চোখে পড়ে। এদের শরীর থেকে নিঃসৃত আঠালো লালা গায়ে লাগলে চুলকানি ও ক্ষত সৃষ্টি হয়। এদের যন্ত্রণায় রাতে চলাফেরা করতে সবাই ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের নিয়ে অভিভাবকেরা চরম চিন্তিত; বিকেল গড়ানোর পর শিশুরা আর ঘর থেকে বের হতে চায় না।
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বাড়ির আঙিনায় শসা, ঝিঙে, শিম ও ওষুধি গাছসহ বিভিন্ন সবজি চাষ করে তা টিকিয়ে রাখা এখন দায় হয়ে পড়েছে। রাতের বেলা এই প্রাণীগুলো গাছের কচি পাতা ও লতা খেয়ে সাবার করে ফেলছে। এতে চরম অস্বস্তিকর ও বিড়ম্বনাকর পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে এগুলোকে পলিথিনে ভরে অন্যত্র ফেলে দিচ্ছেন। এই অদ্ভুত প্রাণীর উপদ্রব থেকে দ্রুত মুক্তি চান স্থানীয় মানুষ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা হাসান ইমাম জানান, এটি আসলে একধরনের ক্ষতিকারক শামুক, যা ফসলের ক্ষতি করে। এরা গাছের কচি পাতা ও লতা খেয়ে বেঁচে থাকে। এর হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে তিনি রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহারের পাশাপাশি প্রাকৃতিকভাবে (পলিথিনে সংগ্রহ করে দূরে কোথাও ফেলে দেওয়া) এটি মোকাবেলা করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া শামুকের উপদ্রব কমাতে বাড়ির আঙিনায় ডিমের খোসা ও কাঠের গুঁড়ো ছিটিয়ে রাখারও পরামর্শ দেন এই কর্মকর্তা।