শিরোনাম
◈ যুক্তরাষ্ট্রে নিঝুম মজুমদারকে হেনস্তা করে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের সামনে (ভিডিও) ◈ প্রধানমন্ত্রীর দেখা না পেয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের ওপর ক্ষু'ব্ধ নেতাকর্মীরা, হেনস্তার চেষ্টা (ভিডিও) ◈ উপজেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন ৮ ইউএনও ◈ কুমিল্লায় সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আটক ◈ বাংলাদেশের মাটিতে আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ◈ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা সারাদেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে ◈ মোহাম্মদপুরে কয়েকশ’ লোকের হামলা-ভাঙচুর, ১৫ লাখ টাকা ও জমির দলিল লুটের অভিযোগ ◈ টিকটক পরিচয়ে কুমিল্লায় দেখা করতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণের শিকার, অভিযুক্ত পলাতক ◈ গাইবান্ধায় যেভাবে কণ্ঠ নকল করে মোবাইল ব্যাংকিং প্রতারণার ফাঁদ পাতেন প্রতারক (ভিডিও) ◈ যুক্তরাজ্যে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, আগস্টে প্রবৃদ্ধি ১০.৫৩%

প্রকাশিত : ০৭ জুন, ২০২৬, ০৪:১৭ দুপুর
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ব্রাজিলের জার্সির রঙ সাদা থেকে যেভাবে হলুদ হয়ে উঠলো 

স্পোর্টস ডেস্ক: ব্রাজিলের হলুদ জার্সিতে আজকের সময়ে যে গৌরবান্বিত পাঁচটি তারকা দেখা যায়, প্রতিটি তারকা অর্জনের পিছনেই আছে অজস্র গল্প। তবে, শুরুর দিকে ব্রাজিলের জার্সি কিন্তু হলুদ-সবুজ ছিল না। ১৯১৪ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটার সময়ে ব্রাজিলের জার্সির রঙ ছিল সাদা, সেখানে কলার ও হাতার শেষপ্রান্ত ছিল নীল। এই জার্সি পরে ১৯১৯ সালে ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নেয় ব্রাজিল, যেটি ছিল ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম শিরোপা। শুরুর সেই সাদা জার্সি বদলে আজকের এই হলুদ জার্সিতে কেন রূপান্তরিত হলো ব্রাজিল দল? এই গল্পটা বেশ মজার। 

যারা ব্রাজিলের একনিষ্ঠ ভক্ত তাদের কাছে 'ক্যানারিনহো' শব্দটা পরিচিত হবার কথা। হলুদ জার্সি, নীল প্যান্ট আর সাদা মোজা। সাথে ঝড়িয়ে ঝিটিয়ে থাকবে সবুজের আভা। সেলেসাওদের আইকনিক জার্সিকেই ক্যানারিনহো বলে ডাকে ব্রাজিলিয়ানরা। ক্যানারিনহো মূলত ব্রাজিলের একটি হলুদ রঙের পাখি। ---- যমুনা‌নিউজ

বিশ্বকাপের শুরুর আসর গুলোতে সাদা জার্সি পরে খেলতো ব্রাজিল। তবে গল্পটা বদলে যায় ১৯৫০ বিশ্বকাপ ফাইনালের পর। মারাকানার ফাইনালে উরুগুয়ের মুখোমুখি হয় সেলেসাওরা। কিন্তু ফাইনালে ২-১ গোলে জয় তুলে শিরোপা জেতে উরুগুয়ে। এই হারকে 'মারাকানাজো' বলা হয়। ব্রাজিলের ইতিহাসে একটা জাতীয় ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত এটি।

এই হারের পর দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ব্রাজিলের মানুষ মনে করতে শুরু করে যে তাদের সাদা জার্সিটি 'অপয়া' বা অভিশপ্ত। কারণ এতে দেশের জাতীয়তাবাদের কোনো প্রতিফলন নেই। ফলে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা আর এই সাদা জার্সি ব্যবহার করবে না।

advertisement

পরের বিশ্বকাপের আগে অভিনব এক উদ্যোগ নেয় 'কোরেইও দা মানহা' নামের একটি পত্রিকা। ১৯৫৩ সালে ব্রাজিলে একটা জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় নতুন জার্সি ডিজাইনের জন্য। নিয়ম ছিল ব্রাজিলের পতাকার চারটা রং হলুদ, সবুজ, নীল, সাদা এর ব্যবহার করতে হবে।

প্রায় ৩০০টি নকশার মধ্যে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণ সাংবাদিক ও ডিজাইনার আলদাইর গার্সিয়া শ্লি'র নকশা বিজয়ী হয়। আলদাইর করা ডিজাইনের জার্সির শার্ট ছিলো হলুদ রঙের সাথে নীল শর্টস আর সাদা মোজা। এটাই আজকের বিখ্যাত ক্যানারিনহো হলুদ জার্সি।

১৯৫৪ সালে সুইজারল্যান্ড বিশ্বকাপে ব্রাজিল প্রথমবার এই নতুন হলুদ জার্সি পরে মাঠে নামে। তবে ১৯৫৮ সালে গারিঞ্চা, পেলের নেতৃত্বে ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতলে, অমরত্ব পায় আইকনিক হলুদ জার্সিটি। ৫টি বিশ্বকাপ জয়, সেই সাথে আরও অনেক সাফল্যে এই হলুদ জার্সি আর রং এখন ব্রাজিলের জাতীয় প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রাজিলের প্রথম কোপা আমেরিকা জয়ের শতবর্ষ উদযাপনে ২০১৯ সালের কোপায় ব্রাজিলের দ্বিতীয় জার্সি হিসেবে নীল রঙের পরিবর্তে একদম প্রথম দিককার সাদা রঙের জার্সিটিকে ফিরিয়ে আনা হয়। ‘অপয়া’ জার্সির ফিরে আসা নিয়ে কিছু মানুষ শঙ্কিত হলেও তেমন কিছুই ঘটেনি, সেই ১৯১৯ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে আবারও ঘরের মাঠে কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতে নেয় সেলেসাওরা।

  • সর্বশেষ