শিরোনাম
◈ ভোটের মাঠে বাকযুদ্ধ, দিশেহারা ভোটাররা ◈ ই‌ত্তিহা‌দের বিরু‌দ্ধে জয় পে‌লো আল নাসর, এবা‌রো খেল‌লেন না রোনালদো ◈ আমিরাতে লটারিতে সাড়ে তিন কোটি টাকা জিতলেন বাংলাদেশি প্রবাসী আলাউদ্দিন ◈ ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা, যেসব কথা বলা হলো ◈ জামায়াতের সঙ্গে জোট সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান বিএনপির ◈ ১২ তারিখেই নির্বাচন হবে, হতেই হবে: ইনকিলাব মঞ্চ ◈ বিএনপি ও জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার: নতুনত্ব কি আছে? ◈ নতুন কর্মসূচির ঘোষণার কথা জানিয়ে শাহবাগ ছাড়ল ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবির আন্দোলনকারীরা ◈ তারেক রহমানকে নির্বাচনী বিতর্কে অংশ নেওয়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের ◈ বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, দেশের বাজারেও উচ্চমূল্য অব্যাহত

প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৭:৪৪ সকাল
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘কাউকে বলতেই হতো, অনেক হয়েছে’: বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাহসী অবস্থানে নাসের হুসেইন (ভিডিও)

২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান তাদের অবস্থানে অনড় থাকাকে ইতিবাচক চোখে দেখছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক নাসের হুসেইন।

নিরাপত্তা সংকটের কারণে ভারতে খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের দাবির মুখে মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর নিরাপত্তা আশঙ্কায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের বাইরে বিকল্প ভেন্যুতে খেলার দাবি জানায়।

বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০ দলের এই টুর্নামেন্টে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করেছে পাকিস্তানও। পর্দার আড়ালে আলোচনা চললেও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, তারা তাদের অবস্থানে অনড় থাকবেন।

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির মধ্যকার এই স্নায়ুযুদ্ধের মধ্যেই নাসের হুসেইন বলেছেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এমন দৃঢ় অবস্থান তার বেশ পছন্দ হয়েছে। তিনি মনে করেন, 'যথেষ্ট হয়েছে'—এমনটা বলার সময় এসে গেছে। সেইসঙ্গে খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি না মেশাতেও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

স্কাই ক্রিকেট পডকাস্টে মাইকেল আথারটনের সঙ্গে আলাপকালে নাসের বলেন, 'বাংলাদেশ যেভাবে নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে, তা আমার বেশ পছন্দ হয়েছে। তারা তাদের প্লেয়ার দ্য ফিজ-এর জন্য রুখে দাঁড়িয়েছে। পাকিস্তানের সিদ্ধান্তটিও আমার ভালো লেগেছে। আমি জানি এটি রাজনৈতিক ইস্যু, কিন্তু পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে তা প্রশংসনীয়। কোনো এক পর্যায়ে তো কাউকে বলতেই হতো, এই রাজনীতি আর কত? আমরা কি কেবল ক্রিকেট খেলায় ফিরতে পারি না?'

'হয়তো এটিই সেই চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ। কারণ আইসিসি বা ভারতকে চাপে ফেলার একমাত্র কার্যকর উপায় হলো ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের বিশাল অঙ্কের বাণিজ্যিক ও আর্থিক স্বার্থে আঘাত হানা। এছাড়া আর কোনো পথ নেই,' বলেন তিনি।

ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতিকে 'হতাশাজনক' উল্লেখ করে নাসের হুসেইন বলেন, রাজনীতি ক্রমাগত খেলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ২০২৫ সালের এশিয়া কাপের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। গত বছর ভারতীয় ক্রিকেটাররা পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলাননি। এমনকি তারা পিসিবি-প্রধান ও পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতেও অনীহা প্রকাশ করেছিলেন।

নাসের হুসেইন আরও বলেন, 'সত্যি বলতে বিষয়টা বেশ হতাশাজনক। খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেট ও রাজনীতি সবসময়ই একে অপরের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ছিল। খেলা ও রাজনীতির মধ্যে এই যোগসূত্র আগেও ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেটা যেন অনেক বেশি বেড়ে গেছে। আগে যা ছিল ব্যতিক্রম, এখন সেটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর এটা কেবল রাজনীতি বা রাজনীতিবিদদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, খেলোয়াড়দের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে আমি খেলোয়াড়দের যা করতে দেখেছি—হাত না মেলানো কিংবা ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানানো—তা সত্যিই পীড়াদায়ক। ক্রিকেট আগে বিভিন্ন জাতি ও সংকটে থাকা দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করত, আর এখন এটা মানুষকে উল্টো দূরে সরিয়ে দিচ্ছে।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের মনে রাখতে হবে এই সংকটের শুরুটা ঠিক কোথায়। মোস্তাফিজুর রহমান আইপিএলে কলকাতার স্কোয়াডে ছিলেন। কিন্তু কোনো এক অজানা কারণে হঠাৎ বিসিসিআই বলে দিল—বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার চলমান পরিস্থিতির কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। সেই একটা সিদ্ধান্ত থেকেই মূলত সবকিছুর সূত্রপাত এবং পরিস্থিতি আজ এই পর্যায়ে পৌঁছেছে।'

'ভারত হলে কি আইসিসি একই সিদ্ধান্ত নিত?'

সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক আইসিসির প্রতি কিছুটা সহানুভূতিও প্রকাশ করেছেন। কারণ বাংলাদেশের অনুরোধে শেষ মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সূচি পরিবর্তন করা আইসিসির জন্য সহজ ছিল না। তবে তার মনে একটি বড় প্রশ্ন জেগেছে—একই দাবি যদি ভারতের পক্ষ থেকে আসত, তবে কি পরিস্থিতি ভিন্ন হতো?

নাসের হুসেইন বলেন, 'এই জায়গায় আইসিসির প্রতি আমার কিছুটা সহানুভূতি আছে। শেষ মুহূর্তে সফর না করার সিদ্ধান্তের ফলে টুর্নামেন্টের সূচি বা সব ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন করা মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে আসল প্রশ্নটি এখানেই, যার উত্তর কেবল আইসিসি দিতে পারে—ভবিষ্যতে কোনো টুর্নামেন্ট শুরুর এক মাস আগে ভারত যদি বলে যে তাদের সরকার ওই দেশে গিয়ে খেলার অনুমতি দিচ্ছে না, তবে কি আইসিসি ভারতের ক্ষেত্রেও এত কঠোর হতে পারবে? আইসিসি কি তখন বলতে পারবে যে—তোমরা নিয়ম জানো, সুতরাং তোমরা টুর্নামেন্ট থেকে বাদ? আসলে সব দেশই আইসিসির কাছে কাজের স্বচ্ছতা এবং সব ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড আশা করে।'

তিনি আরও বলেন, 'বাংলাদেশকে ঠিক সেভাবেই মূল্যায়ন করতে হবে যেভাবে আপনি পাকিস্তান বা ভারতকে করেন। এখন ভারতীয় সমর্থকরা হয়তো টিপ্পনী কেটে বলতে পারেন যে, "আরো কাঁদো, আমাদের অনেক টাকা আছে"। কিন্তু মনে রাখতে হবে, ক্ষমতার সঙ্গে দায়িত্বও আসে। আপনি যদি ক্রমাগত বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের ক্রিকেটকে বাধাগ্রস্ত করেন, তবে তাদের ক্রিকেটের মান দিন দিন কমে যাবে। এর ফলে অতীতে আমরা ভারত-পাকিস্তান বা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে রোমাঞ্চকর লড়াই দেখতাম, তা কেবল একপেশে ম্যাচে পরিণত হবে—যা ইতিমধ্যে ঘটতে শুরু করেছে।'

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়