শিরোনাম
◈ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনো ষড়যন্ত্র হলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে : তারেক রহমান ◈ বিশ্বকা‌পের উ‌দ্বোধনী ম‌্যা‌চে পরাজ‌য়ের দ্বারপ্রা‌ন্তে থাকা পা‌কিস্তান‌কে জয় এ‌নে দি‌লেন ফা‌হিম আশরাফ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে কাল থেকে লাগাতার ধর্মঘট, বহির্নোঙরেও কাজ বন্ধের ঘোষণা ◈ জনগণকে সঙ্গে নিয়েই দেশ এগিয়ে নিতে চাই: তারেক রহমান ◈ মিয়ানমার সংলগ্ন সীমান্তে গুলিবিদ্ধ সেই শিশু মারা গেছে ◈ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট, নৌকা সমর্থকসহ যেসব 'ফ্যাক্টর' হিসাব পাল্টে দিতে পারে ◈ সূর্যের তীব্র ক্ষোভে বিপদের আশঙ্কা, ভারতে বড় ধরনের রেডিও ব্ল্যাকআউটের সতর্কবার্তা ইসরোর ◈ নির্বাচন উপলক্ষে দুই দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব বাণিজ্যবিতান ও শপিংমল ◈ যুক্তরাস্ট্র ও অ‌স্ট্রেলিয়াসহ বি‌ভিন্ন দে‌শে যেতে বাংলাদেশিদের 'ভিসা সংকট' কাটছে না কেন?  ◈ কারাগারে মারা গেলেন সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী এমপি রমেশ চন্দ্র সেন

প্রকাশিত : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:০৮ দুপুর

প্রতিবেদক : এল আর বাদল

ভোটের মাঠে বাকযুদ্ধ, দিশেহারা ভোটাররা

মহসিন কবির: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর ৫ দিন। ইতোমধ্যে প্রচারণাও শেষের দিকে। বিভিন্ন দল প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনি ইশহেহারও দিয়েছে কয়েকটি দল। বড় দুই জোটই বলেছে নির্বাচনে শঙ্কার কথা। বিএনপি সরাসরি কারচুপি ও জাল ভোটের কথা বলছে। এজন্য ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দেওয়ার কথা বলেছেন তারেক রহমান। জামতায়াতও ভোটকেন্দ্র পাহাড়া দেওয়ার কথা বলছে। যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি দাড় করাছেন। নোতাদের বাকযুদ্ধ সাধারণ ভোটাররা অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এদিকে না ভোটের প্রচারণাও চলছে। সেদিকেও নজর রাখছেন  

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ও জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট নেতাদের মধ্যে চলছে অনেকটা পাল্টাপাল্টি বাকযুদ্ধ। ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, দলগুলোর তৎপরতা ততই বাড়ছে। পাশাপাশি ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই প্রচার-প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাকযুদ্ধ-এমনই চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টিতে।

সরেজমিন'র চিত্র ফুটে উঠেছে, নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে আবারও ভোটের মাঠ ব্যস্ত  প্রার্থীরা। আওয়ামী ভোট ও তরুণ ভোটার কাছে টানতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন প্রার্থীরা-এমনটাই নজরে আসছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, জনসভা, পথসভা ও র‌্যালিসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণাসহ নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা। অনলাইন ও অফলাইনে প্রচারণা করেছেন তারা। জয়ের লক্ষ্যে রুটিন মাফিক নিজ নিজ আসনের প্রতিটি এলাকায় সভা-সেমিনার করছেন। পাশাপাশি প্রার্থীর কর্মী সমর্থকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে উঠোন বৈঠক করছেন এবং ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন- এমনই চিত্র ধরা পড়েছে রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।

সংশ্লিষ্টরা বলছে, নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। চলছে নানা সমীকরণ ও প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার বাকযুদ্ধ। কাজেই ভোটের মাঠে শক্তি প্রদর্শনে ব্যস্ত রয়েছে দলগুলোর প্রার্থীরা। তাদের দৃষ্টিতে, ভোটার আকর্ষণে নানা প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি গণজমায়েতের মধ্যদিয়ে কৌশলে নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দিতে মরিয়া দলগুলো। চলছে উৎসবমুখর পরিবেশে সভা-সমাবেশে আর ভোটারদের দিচ্ছে উন্নয়ন ও পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। কেউ বলছেন, ক্ষমতায় গেলে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা হবে। নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সমাধান করা হবে বেকার সমস্যা। কেউ বা দিচ্ছেন চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত ইনসাফের দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষ দল ও প্রার্থীর সমালোচনা এবং ঘায়েল করার সরগরম বক্তব্যও চলছে বেশ-এমনটাই বলছেন রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপির সূত্রে জানা গেছে,  ভোটের মাঠে জয় পাওয়ার লক্ষে নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণ করে দেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুত দিচ্ছেন বিভিন্ন জনসভায়। যেমন : খাল খনন, কৃষকদের কার্ড প্রদান, নারীদের ফ্যামিলি কার্ডের মতো বিশেষ সহায়তা প্রদানসহ বেকার সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতিও দেন দলটির নেতারা। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রতিশ্রুতি ও কর্মকাণ্ডের সমালোচনাও করেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট নেতারা।

তারা বলেন, কোন কোন দল বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট চাইছেন, তারা নিজেরা শিরক করছেন, ভোটারদেরও ঠকাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কথাও বলেন বিএনপির নেতারা। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড লিপ্ত থাকা কোন একটি দলের নেতাকর্মীরা বাড়ী বাড়ী যেয়ে সহজ-সরল মানুষের বিকাশ নাম্বার নিচ্ছে ও ভোটের বিনিময় টাকা দেওয়ার কথা উঠছে জনমনে। এছাড়া অনেকের কাছে থেকে ন্যাশনাল আইডি কার্ড নিচ্ছে। ন্যাশনাল আইডি কার্ড ও বিকাশ নাম্বার নেওয়ার সময় জনতার হাতে বেশ কয়েকটি জায়গায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছে জামায়াতের কর্মী সমর্থকরা।

দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে, আমরা নবী করিম (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার ভিত্তিতে ইনশাআল্লাহ দেশ পরিচালনা করব। দেশের নারীসমাজ, মা-বোন, যুবসমাজ, কৃষকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে বিএনপি আগামীর বাংলাদেশ গড়তে চায় বলছেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, দোজখের মালিক আল্লাহ, বেহেশতের মালিক আল্লাহ, এই পৃথিবীর মালিক আল্লাহ, কাবার মালিক আল্লাহ। আরে ভাই, যেটার মালিক আল্লাহ সেটা কি অন্য কেউ দেওয়ার ক্ষমতা রাখে ? রাখে না।

তারেক রহমান বলেন, যারা বেহেশতের টিকিট দেওয়ার কথা বলে ভোট চাইছেন, তারা নিজেরা শিরক করছেন, ভোটারদেরও ঠকাচ্ছেন। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দলটি সম্পর্কে নতুন করে জানার কিছু নেই। কারণ মুক্তিযুদ্ধের সময়ই তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে দেশের মানুষ জানে।

তিনি বলেন, একটি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে মা-বোনের জাতীয়তার সনদ নম্বর সংগ্রহ করছে। বিকাশ নম্বর নিচ্ছে, ফোন নম্বর নিচ্ছে, টাকা পাঠাচ্ছে। এগুলোর খবর এখন সংবাদপত্রে উড়ে বেড়াচ্ছে। যারা নির্বাচনের আগেই এসব অসৎ কাজ করে, তারা আদর্শের দল কী করে? তারা কি মানুষের শাসন কায়েম করতে পারে?

তিনি বলেন, আমাদের মা-বোনদেরকে বিভ্রান্ত করছে। এদের কাছ থেকে আমাদের সাবধান থাকতে হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন, বিএনপি আগামী দিনের বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু পরিকল্পনা করেছে। বেকারত্ব দূর করতে বেকার যুবকদের জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা, গরিব মানুষকে সহায়তা করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের জন্য কৃষিকার্ডসহ কৃষকের উন্নয়নের জন্য খালখনন করার কর্মসূচিসহ নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত এমপি প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। কারণ বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে, তবে বিএনপি যে ভালো ভালো উদ্যোগ নিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, প্ল্যান আছে চার কোটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার। প্রাথমিকভাবে দুই কোটি পরিবারের প্রধান নারীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, এডুকেশন; থার্ড, ছোট ছোট কাজে ইনভেস্ট করা।

প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিয়ে জনসভায় দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বক্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের শীর্ষ নেতারা বিএনপির ঘায়েল করতেই কৌশলে নানা উক্তি করছেন। বেশ কয়েকটি জনসভায় দেয়া জামাতের শীর্ষ নেতার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে, বিএনপির ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড জনগণ পর্যন্ত পৌঁছাবে তো? দুই হাজার টাকার কার্ড নিতে এক হাজার টাকা ঘুষ দেওয়া লাগবে না তো? পাশাপাশি কড়াইল বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতার বক্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াত জোটে থাকা এনসিপির শীর্ষ নেতা বলছেন, বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায়নি, তারা চান নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান।

এ প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা ওই ধরনের কোনো কার্ডের ওয়াদা দিচ্ছি না। ২০০০ টাকা দিয়ে একটা পরিবারের কোনো কিছু সমাধান হবে? তিনি বলেন, আমার ভাই নাহিদ ইসলাম বলেছে, তাতে আবার ভাগ বসিয়ে দেওয়া হবে; ‘খাজনা আগে, তারপর অন্যটা’, ২০০০ এর ১০০০ আমার খাজনা- আমাকে আগে দাও, তারপরে তোমারটা তুমি বুঝে নাও’। তাও না কাল্পনিক কিছু মানুষের চরিত্র এঁকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হবে, বেকারের হাতে নয়। জামায়াতের আমির বলেন. ক্ষমতায় গেলে চাঁদা নেওয়া হবে না এবং কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

এক জনসভায় অংশ নিয়ে এনসিপির আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দাঁড়িপাল্লা, শাপলা কলিসহ ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করে জুলাই বিপ্লবের অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করতে হবে। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এই জোটের প্রার্থীদের ক্ষমতায় পাঠাতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের তীব্র সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এটা সুস্পষ্ট প্রতারণা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়