ভারতের মাটিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়— নিউজিল্যান্ডের জন্য এতদিন ছিল এক অধরা স্বপ্ন। অবশেষে প্রায় ৩৮ বছরের সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ১৯৮৮ সাল থেকে এর আগে সাতবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে এসে প্রতিবারই খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল ব্ল্যাকক্যাপসদের। তবে অষ্টম অভিযানে এসে ইতিহাস গড়ল দলটি। ভারতীয়দেরকে ধরাশায়ী করে তাদের ডেরাতে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের মধুর স্বাদ পেল।
তিন ম্যাচ সিরিজের লড়াইটি ছিল বেশ নাটকীয়। বারোদায় প্রথম ম্যাচে হার দিয়ে শুরু করলেও রাজকোটে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফিরিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। রোববার ইন্দোরে সিরিজ নির্ধারণী অলিখিত 'ফাইনালে' স্বাগতিকদের ৪১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে ঐতিহাসিক সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে মাইকেল ব্রেসওয়েলের দল।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩৩৭ রানের পাহাড় গড়ে নিউজিল্যান্ড। এই বড় পুঁজির কারিগর ছিলেন ড্যারিল মিচেল ও গ্লেন ফিলিপস। ভীষণ ছন্দে থাকা মিচেল ছিলেন এককথায় অনবদ্য— সিরিজে টানা দ্বিতীয় ও ভারতের বিপক্ষে সব মিলিয়ে চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে খেলেন ১৩৭ রানের ঝলমলে ইনিংস। ১৩১ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কা।
মিচেলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ফিলিপস। চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটার ১৮৮ বলে ২১৯ রানের জুটি উপহার দেন। ফিলিপস তুলে নেন ঝড়ো সেঞ্চুরি, ৮৮ বলে ১০৬ রানের ইনিংসে তিনি হাঁকান নয়টি চার ও তিনটি ছক্কা।
৩৩৮ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে ৭১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে ভারত। তবে ঘরের মাঠে লড়াই ছাড়েনি স্বাগতিকরা। একদিকে উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের ৫৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন অভিজ্ঞ বিরাট কোহলি। ১০৮ বলে ১০টি চার ও তিনটি ছক্কায় আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১২৪ রান করে আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন তিনি। তবে নবম ব্যাটার হিসেবে তিনি আউট হলে জয়ের জন্য তা যথেষ্ট হয়নি।
এছাড়া, নিতিশ কুমার রেড্ডি ৫৭ বলে ৫৩ ও হার্শিত রানা ৪৩ বলে ৫২ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটার কোহলির নৈপুণ্যে শেষদিকে বেশ রোমাঞ্চ ছড়ালেও ২৪ বল বাকি থাকতেই ২৯৬ রানে অলআউট হয় ভারত।
সিরিজের শুরু থেকেই ব্যাট হাতে অপ্রতিরোধ্য ছিলেন মিচেল। প্রথম ওয়ানডেতে ৮৩ রানের পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন অপরাজিত ১৩১ রানের ম্যাচ জেতানো অসাধারণ ইনিংস। সিরিজের শেষ ম্যাচেও সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ায় তার মোট রান হয়েছে ৩৫২। তিন ম্যাচের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে নিউজিল্যান্ডের কোনো ব্যাটারের পক্ষে এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড। সিরিজসেরার পুরস্কারটি তাই অনুমিতভাবেই উঠেছে তার হাতে।