মুমিনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ইমান। আর এই ইমানের মূল ভিত্তি হলো কালিমা তাইয়্যেবা। পরকালে মুক্তির জন্য ইমানের কোনো বিকল্প নেই; ইমান ছাড়া কোনো নেক আমলই আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না।
কালিমা তাইয়্যেবা
মানুষ যে বাক্যগুলোর মাধ্যমে ইমানের ঘোষণা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম কালিমা তাইয়্যেবা। কালিমা তাইয়্যেবা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’ অর্থ: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল।’
কালিমা তাইয়্যেবার উৎস
কালিমা তাইয়্যেবার দুটি অংশই পবিত্র কোরআনে বিদ্যমান। প্রথম অংশ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সুরা সাফফাতের ৩৫ নম্বর আয়াতে এবং দ্বিতীয় অংশ ‘মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ সুরা ফাতহ-এর ২৯ নম্বর আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।
কালিমা তাইয়্যেবার ৫ ফজিলত
১. জাহান্নাম থেকে মুক্তি: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সেই ব্যক্তির ওপর জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন, যে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলেছে।’ (সহিহ বুখারি: ১১৭৬)
২. জান্নাত লাভ: যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম)
৩. নবীজির সুপারিশ: আবু হুরায়রা (রা.) নবীজি (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কিয়ামতের দিন আপনার সাফায়াত লাভে সবচেয়ে ধন্য হবে কে?’ তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি একনিষ্ঠ হৃদয়ে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে।’ (সহিহ বুখারি: ৯৯)
৪. কবরে অবিচলতা: কবরের জিজ্ঞাসাবাদে যখন মুমিন এই সাক্ষ্য দেয়, তখন আল্লাহ তাকে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখেন। (সুরা ইবরাহিম: ২৭)
৫. সর্বোত্তম আমল: ইমানের ৭০টির বেশি শাখার মধ্যে সর্বোত্তম শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা। (সহিহ মুসলিম: ৩৫)
কালিমা তাইয়্যেবা হলো ইমানের কেন্দ্রবিন্দু। এর অর্থ ও দাবি হৃদয়ে ধারণ করা জরুরি। কালিমার মর্মার্থ মনে-প্রাণে বিশ্বাস করা, মুখে স্বীকার করা এবং সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার মাধ্যমেই ইমান পূর্ণতা পায়।
সূত্র: আজকের পত্রিকা