হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) চন্দন ও জাফরানের সুগন্ধিও ব্যবহার করতেন, তবে তাঁর সবচেয়ে প্রিয় ছিল মেশক। তিনি বলতেন, ‘উত্তম সুগন্ধি হলো মেশক।’ (জামে তিরমিজি: ৯১২)
ইসলামে পরিচ্ছন্নতা ও সুগন্ধির গুরুত্ব অপরিসীম। রাসুলুল্লাহ (সা.) সুগন্ধি খুব পছন্দ করতেন এবং নিয়মিত ব্যবহার করতেন। সুগন্ধির প্রতি প্রিয় নবী (সা.)-এর বিশেষ অনুরাগ ছিল। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত—আতর, বিয়ে, মেসওয়াক ও লজ্জাস্থান আবৃত রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ: ২২৪৭৮)
এ ছাড়া জুমার দিন বা কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় সুগন্ধি ব্যবহারের বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘জুমার দিন যথাসম্ভব তোমরা সুগন্ধি ব্যবহার করো।’ (সুনানে নাসায়ি: ১৩৫৮)
রমজানে সুগন্ধি ব্যবহারের বিধান
কিন্তু রমজান মাসে রোজা রাখা অবস্থায় সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে।
ইসলামের বিধান হলো, রোজা রেখে আতর, সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা সম্পূর্ণ জায়েজ। এতে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।
রোজা ভঙ্গের মূল কারণ হলো স্বাভাবিক প্রবেশপথ (যেমন মুখ বা নাক) দিয়ে কোনো খাদ্য বা দ্রব্য সরাসরি পেটে বা মস্তিষ্কে পৌঁছানো। আতর বা পারফিউমের সুবাস কেবল ঘ্রাণ, যা সরাসরি পাকস্থলীতে প্রবেশ করে না।
তবে গুঁড়াজাতীয় সুগন্ধি (যেমন গুঁড়া মেশক) বা সুগন্ধি ধূপের ধোঁয়া সরাসরি নাক দিয়ে টেনে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এর কণা পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। (ফাতাওয়া লাজনাতিদ্দায়িমা)