শিরোনাম
◈ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তারেক রহমানের ব্যানার ছিড়ে ফেললেন রাকসু জিএস ◈ ইরানে ট্রাম্পের অবস্থান পরিবর্তন, বিপাকে আন্দোলনকারীরা ◈ আমদানি বন্ধের সুযোগে চালের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি ◈ লাল পাসপোর্ট জমা দিচ্ছেন উপদেষ্টারা ◈ সাত লাখ টাকায় রাশিয়া গিয়ে ছয় মাসের মাথায় দেশে ফিরতে হলো ৩৫ বাংলাদেশিকে ◈ চিলিতে ভয়াবহ দাবানল: দুই অঞ্চলে ‘মহাবিপর্যয়’ ঘোষণা, ১৬ জনের মৃত্যু ◈ বাংলাদেশ না খেললে বিশ্বকাপ বয়কট করবে পাকিস্তানও! ◈ আবারও অচল দেশের একমাত্র কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্র ◈ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ ◈ তারেক রহমানের চলন্ত গাড়িতে খাম লাগিয়ে বাইকারের পলায়ন, কি বার্তা ছিল খামে? (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৮:১৫ সকাল
আপডেট : ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:১৭ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অ্যাকসেসরিজ শিল্পে ৩ বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের রপ্তানির বাজারে বড় সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের অ্যাকসেসরিজ শিল্প। গত তিন বছরে এই খাতের সরাসরি রপ্তানি দ্বিগুণ হয়েছে। স্টেকহোল্ডারদের মতে, বিদ্যমান নীতিগত বাধাগুলো দূর করা গেলে আগামী তিন বছরের মধ্যে এই রপ্তানি ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রপ্তানিতে এ খাতের অবদান ছিল ৭.৪৫ বিলিয়ন ডলার। এর বড় অংশই 'ডিমড রপ্তানি' (স্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্পে সরবরাহ) হলেও সরাসরি রপ্তানির পরিমাণ ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

আমদানিনির্ভরতা থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

দুই দশক আগেও বাংলাদেশের পোশাক শিল্প অ্যাকসেসরিজের ক্ষেত্রে প্রায় পুরোপুরি আমদানিনির্ভর ছিল। বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের মাধ্যমে এই খাত স্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্পের চাহিদার প্রায় শতভাগ মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে সারা দেশে ২ হাজার সচল কারখানায় ৭ লাখেরও বেশি মানুষ কর্মরত আছেন।

বিজিএপিএমইএ-এর সভাপতি মো. শাহরিয়ার টিবিএসকে বলেন, 'কিছু নীতিগত প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে নেওয়া হলে আগামী তিন বছরে পোশাক ছাড়াও ওষুধ, কৃষি, পাদুকা ও অন্যান্য খাত মিলিয়ে সরাসরি ৫ বিলিয়ন ডলারের অ্যাকসেরিজ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।'

২০২৩ সালে বৈশ্বিক ফ্যাশন অ্যাকসেসরিজ বাজারের মূল্য ছিল ৭২০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৩ সালের মধ্যে ১ হাজার ৫০২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চীন থেকে উৎপাদন কেন্দ্রগুলো ধীরে ধীরে অন্য দেশে সরে যাওয়ায় বাংলাদেশ এই প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

চীন গত কয়েক বছর ধরেই উচ্চ প্রযুক্তিসম্পন্ন পণ্য তৈরিতে মনোযোগ বাড়িয়ে ধীরে ধীরে বেসিক আইটেম থেকে বেরিয়ে আসছে। ফলে তৈরি পোশাকের মতো বাংলাদেশের সামনে অ্যাকসেসরিজ পণ্য রপ্তানির ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখন বাংলাদেশের দিকে ঝুঁকছে। 

গত দুই বছরেই বায়দা ইন্ডাস্ট্রিয়াল, জিজিন বাংলাদেশ ও তিয়ানহুই বাটনের মতো অন্তত আটটি চীনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে (ইপিজেড) বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বা কার্যক্রম শুরু করেছে।

বিজিএপিএমইএর প্রাক্কলন অনুসারে, গত তিন বছরে প্রায় ৩০০টি নতুন অ্যাকসেসরিজ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। 

স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত ব্যবসার প্রসার ঘটাচ্ছে। যেমন, আরএসএস থ্রেড অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লিমিটেড গত তিন বছরে তাদের উৎপাদন দ্বিগুণ করেছে; বর্তমানে তারা ৩৫ ধরনের অ্যাকসেসরিজ তৈরি করছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে স্প্যানিশ রিটেইল জায়ান্ট ইনডিটেক্স গ্রুপের তালিকাভুক্ত সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করছে।

প্রযুক্তির বিবর্তন

আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স বজায় রাখতে এই খাত এখন ডিজিটাল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় ট্র্যাকিং ও ইনভেন্টরি ম্যানেজমেন্টের জন্য শতাধিক কারখানা এখন রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন (আরএফআইডি) প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত।

এমনকি ডিজিটাল প্রোডাক্ট পাসপোর্টের (ডিপিপি) মতো উদ্ভাবনী পণ্যও এখন দেশেই তৈরি হচ্ছে। আরএসএস থ্রেড অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ লেবেলের জন্য বিশেষ ধরনের চিপ তৈরি করছে, যেখানে পুরো সাপ্লাই চেইনের তথ্য সংরক্ষিত থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এটি এখন বাধ্যতামূলক।

আরএসএস থ্রেডের গ্রুপ ডিরেক্টর শেখ জুলফিকার আলী বলেন, 'এই চিপের মাধ্যমে ক্রেতারা পণ্যের উৎস এবং উপকরণের সত্যতা যাচাই করতে পারবেন। এছাড়া জালিয়াতি রোধে আমরা ডাটা-মেট্রিক্স সিস্টেম ও ইনভিজিবল কোডিং ব্যবস্থা চালু করেছি।'

নীতিগত চ্যালেঞ্জ

এই খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও উদ্যোক্তারা বলছেন, তারা বৈষম্যমূলক রপ্তানি প্রণোদনা ও কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্কের মতো বড় কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন। মো. শাহরিয়ার জানান, সরকার অন্যান্য রপ্তানি খাতকে নগদ প্রণোদনা দিলেও অ্যাকসেসরিজ খাতের রপ্তানিতে কখনোই এই সুবিধা দেওয়া হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ৩০০ জিএসএমের নিচে কাগজ আনতে হলে ৫৮ শতাংশ থেকে ৮২ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক দিতে হয়। ফলে এই শুল্ক পরিশোধ করে কাঁচামাল আমদানি করে  প্রতিযোগিতামূলক দরে পণ্য উৎপাদন করা সম্ভব হয় না। এছাড়া কাস্টমসের ক্ষেত্রেও তারা বিভিন্ন বাধার সম্মুখীন হন বলে জানান তিনি।

বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী বলেন, অ্যাকসেসরিজ খাত সরকারের বিভিন্ন নীতি সহায়তার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারি সহায়তা না পেলে প্যাকেজিং ও অ্যাকসেসরিজ পণ্যের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক চাহিদা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হতে পারে বাংলাদেশ।

খান অ্যাকসেসরিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএপিএমইএর আরেক সাবেক সভাপতি আব্দুল কাদের খান বলেন, গত এক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিনিয়োগের গতি কিছুটা কমেছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের পর স্থিতিশীলতা ফিরলে বিনিয়োগের গতি আবার বাড়বে।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়