কাজ করতে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই তারাসহ ১২০ জন বাংলাদেশিকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জনপ্রতি সাত লাখ টাকা খরচ করে গত জুলাই মাসে রাশিয়া যাওয়া এসব কর্মী প্রতারিত হয়েছেন বলে অভিযোগ তাদের।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তারা।
ফেরত আসা কর্মীদের বরাত দিয়ে সন্ধ্যায় ব্র্যাকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান তাদের চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বলে তাদের অভিযোগ। ইতোমধ্যে পর্যায়ক্রমে মোট ১২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে চাকরিচ্যুত করে দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে রোববার প্রথম দফায় ৩৫ জন কর্মী দেশে ফিরেছেন।
বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটির যৌথ সহায়তায় তাদের বাড়ি ফিরে যেতে পরিবহনসহ কিছু জরুরি সেবা দিয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক।
প্রতিষ্ঠানটির সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, ফেরত আসা কর্মীদের মধ্যে গাইবান্ধার মশিয়ুর রহমান, মানিকগঞ্জের আসমত আলী, ময়মনসিংহের হাইয়ুল মিয়া, সিরাজগঞ্জের আজাদুল হক, ঢাকার প্রসেনজিৎ রাজবংশী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের. আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন বিদেশে কাজের নামে তাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। রাশিয়া যেতে তাদের প্রতিজনের গড় খরচ হয়েছে সাত লাখ টাকা।
ব্র্যাকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের মাধ্যমে গত বছরের জুলাইয়ে রিক্রুটিং এজেন্সি ‘কাশিপুর ওভারসিজ’ তাদের রাশিয়ায় পাঠায় বলে ছাড়পত্রে দেখা যায়। তবে তাদের কাগজপত্র প্রক্রিয়া করেছে অন্য একটি প্রতিষ্ঠান।
ছাড়পত্রে রাশিয়ান প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘মার্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ট্রেড ডেভেলপমেন্ট’ এর নাম দেওয়া থাকলেও রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর তাদের নিয়োগ দেওয়া হয় ভিন্ন প্রতিষ্ঠান ‘এলএলসি আলাবুগা ডেভেলপমেন্ট’ কোম্পানিতে। চুক্তি অনুযায়ী কর্মীদের ফ্যাক্টরি শ্রমিক হিসেবে কাজ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তাদের দিয়ে বিল্ডিং কনস্ট্রাকশনের কাজ করানো হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে ব্রাক বলছে, রাশিয়া যাওয়ার জন্য এই কর্মীরা প্রথমে ‘জুবায়ের ওভারসিজ’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে যোগাযোগ করে। এ এজেন্সি তাদের হস্তান্তর করে রিক্রুটিং এজেন্সি ‘টিপিএস-৩৬০ বাংলাদেশ লি.’ এর কাছে। পরে এই প্রতিষ্ঠান (টিপিএস- ৩৬০) সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং বিএমইটি থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করে। কিন্তু কৌশলে বিএমইটি ছাড়পত্রে তারা আরেকটি রিক্রুটিং এজেন্সি ‘কাশীপুর ওভারসিজ’ এর পরিচিতি ব্যবহার করে।
ভুক্তভোগী কর্মীরা এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে বলে জানিয়েছে ব্র্যাক।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে বক্তব্য মেলেনি কাশীপুর ওভারসিজের। এটির এমডি রফিকুল ইসলামের দুটি ফোন নম্বর দেওয়া রয়েছে বায়রার ওয়েবসাইটে। রোববার রাতে ফোন করে দুটোই বন্ধ পাওয়া গেছে।
অপরদিকে টিপিএস ৩৬০ রিক্রুটিং এজেন্সির এমডি আবুল খায়ের পুরো দায় অস্বীকার করেছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমি এখন আদম করি না। রাশিয়ায় লোক পাঠানোর তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না। এমনিতে লোকজনকে পরামর্শ দিই। ওদের কাছে যদি কোনো প্রমাণ থাকে তাহলে আমাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠতে বইলেন, আমি দেখবো।”
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম