দীর্ঘ ২৯ বছর পর আগামীকাল মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। কাল সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬টি কেন্দ্রের ১৯টি কক্ষের ১৭৮টি বুথে ৯ হাজার ৩০ জন ভোটারের ভোটগ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার সহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
তবে বহুল প্রতীক্ষিত এ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা যেন কিছুতেই কাটছে না। শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে গতকাল রোববার হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। একই দাবিতে রাজধানীর আগারগাওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ। ফলে শাকসু নির্বাচন নিয়ে ফের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে শাকসু নির্বাচন নিয়ে শাবিপ্রবি ছাত্রদলের প্যানেলে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। প্যানেলের ২২ জনের মধ্যে ভিপিসহ ৭জন প্রার্থী পূর্বঘোষিত সময়ে নির্বাচন চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান ম্পষ্ট করেছে। তবে নির্বাচন নিয়ে প্যানেলটির বাকি ১৫ জনের অবস্থান জানা যায়নি।
এদিকে ছাত্রদলের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবন ঘেরাও করার প্রতিবাদে রোববার দুপুরে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্রার্থীরা। যেকোনো মূল্যে ২০ জানুয়ারি পূর্ব নির্ধারিত শাকসু নির্বাচন আদায় করে নেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।
হাইকোর্ট সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভ হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্বাচন স্থগিত চেয়ে রিট দায়ের করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।
রিটে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সবধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এ অবস্থায় শাকসু নির্বাচন হতে দেওয়া আইনসংগত নয়। রিটটি আজ সোমবার হাইকোর্টে শুনানী হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
অপরদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিতসহ তিনটি দাবিতে রোববার সকাল ১১টা থেকে রাজধানীর ইসি সচিবালয় ভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) প্রতি আহবান জানান। দিনভর বিক্ষোভ ও ঘেরাওয়ের পর বিকেল ৫টার দিকে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করতে ইসিতে যান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।
আলোচনা শেষে রাত ৮টার দিকে ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির গণমাধ্যমকে জানান, তিনটি দাবিতে আমরা অবরোধ কর্মসূচী দিয়েছি। আমরা আমাদের আজকের এই অবরোধ ও ঘেরাও কর্মসূচি এখানে সমাপ্ত করব। আমরা সোমবার আবারো সকাল ১১টা থেকে আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করব। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা আমাদের এই ঘেরাও কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো।
ছাত্রদলের দাবি তিনটি হচ্ছে, পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।
এদিকে শাকসু নিয়ে ছাত্রদলের দ্বিমুখী আচরণের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন প্রার্থীরা। রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, একদিকে ক্যাম্পাসে শাকসু নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান নেওয়া হলেও, অন্যদিকে ঢাকায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সামনে ছাত্রদল শাকসু নির্বাচন বন্ধসহ তিন দফা দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এ ধরনের অবস্থানকে দ্বিচারিতা আখ্যা দিয়ে ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীরা ‘২০ তারিখে শাকসু দিতে হবে দিতে হবে’, ‘ঢাকায় বসে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’, ‘স্বৈরাচারের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের কথা ছিল ২০ তারিখে উৎসবমুখর পরিবেশে শাকসু নির্বাচন হবে। কিন্তু একটি মহল একদিকে শাকসুর পক্ষে কথা বলছে, আবার তাদের কেন্দ্রীয় নেতারা শাকসু বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ করছে। এটি স্পষ্ট দ্বিচারিতা। তিনি আরও বলেন, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, আপনারা বারবার দুর্বলতা দেখিয়েছেন। সে কারণেই আজ শাকসু নির্বাচন বারবার বাধার মুখে পড়ছে। আপনারা শিক্ষার্থীদের পক্ষে দাঁড়ান। নিজেদের ঘৃণার পাত্রে পরিণত করবেন না। অন্যথায় শিক্ষার্থীরা কঠোর কর্মসূচি নিতে বাধ্য হবে। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের অভিভাবক হিসেবে যথাসময়ে শাকসু নির্বাচন আয়োজন করুন। কোনো মববাজ বা বিশৃঙ্খলাকারীদের কাছে মাথা নত না করার আহ্বান জানাচ্ছি।
শাকসুর নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ সংক্রান্ত কোনো অফিসিয়াল চিঠি আসেনি। তাই নির্বাচন কমিশন ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন রেখেই পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।
জানা গেছে, বর্ধিত সময় অনুযায়ী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সময় রোববার রাত ৯টায় শেষ হয়েছে। পূর্ব ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ৯ হাজার ৩০ জন। প্রায় ২৯ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
অপরদিকে শাকসু নির্বাচন স্থগিত চেয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ইসি ভবন ঘেরওয়ের পর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (শাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের অবস্থান কী সেটা বিবেচনায় না করে ২০ জানুয়ারি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন প্যানেলের প্রার্থীদের একাংশ। গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর এলাকায় নিজেদের অবস্থান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ, ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদা রিয়া এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসাদুল্লাহ আসাদসহ সাতজন প্রার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি প্রার্থী মোস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, আমরা সবাই শাকসুর পক্ষে এবং ২০ তারিখে নির্বাচন চাই। নির্বাচন কমিশন থেকে শাকসুর প্রচারণার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত ছিলাম, আজকে সকাল থেকে আমরা প্রচারণা চালিয়েছি। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে আমাদের আকাঙ্খা ও অবস্থান নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। ছাত্রদলের অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে বা শাবিপ্রবির বাইরে থেকে কে কী করছে সেটি দেখতে চাচ্ছি না। আমরা শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা চাচ্ছি ২০ তারিখে নির্বাচন হবে। এর জন্য যা করা দরকার আমরা তাই করবো, আমরা বাইরে যেতে চাচ্ছি না।
তবে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের কমিটিতে আছে, প্যানেলটি থেকে নির্বাচন করা এমন কোনো প্রার্থীকে সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে প্যানেলটি থেকে জিএস পদে নির্বাচন করা মারুফ বিল্লাহকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
প্যানেলটি থেকে এজিএস পদে নির্বাচন করা জহিরুল ইসলাম বলছেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল ও শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের চাওয়া সমন্বয় করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল থেকে আমাদের নির্বাচন থেকে বসে যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। আমরা সারাদিন প্রচার প্রচারণা করেছি, আমাদের প্রার্থীরা মাঠেই আছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম সরকারকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তারা সাড়া দেননি।শাকসুর নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এ সংক্রান্ত কোনো আদেশ আমরা পাইনি। তাই ২০ জানুয়ারি নির্বাচন রেখেই আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আশা করি, নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ (শাকসু) নির্বাচন পূর্বঘোষিত সময়ে অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল রোববার (১৮ জানুয়ারি) যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্খা ধারণ করে শিক্ষার্থীদের প্রবল দাবির প্রেক্ষিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শাকসু নির্বাচন। ইতোমধ্যে এই নির্বাচনকে ঘিরে নানান নাটকীয়তা ও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। আমরা আর পেছনে ফিরে তাকাতে চাই না। প্রত্যাশা করি, ঘোষিত সময় অনুযায়ী ২০ জানুয়ারিতেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে এবং প্রশাসন এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন শিক্ষার্থীদের মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকার। প্রতিটি ক্যাম্পাসে প্রচলিত ছাত্ররাজনীতির নেতিবাচক ধারা সংস্কার করে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বমূলক ও কল্যাণমুখী ছাত্ররাজনীতি বিকাশে ছাত্র সংসদ অনন্য ভূমিকা পালন করতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ছাত্র সংসদই ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার নেতৃত্ব ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির পথ প্রশস্ত করবে।
নেতৃবৃন্দ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, শাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক স্বতঃস্ফূর্ততা একটি উৎসবমুখর নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি করলেও একটি বিশেষ মহল এই নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বানচাল করার হীন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমরা লক্ষ করছি যে, নানা রাজনৈতিক সমীকরণের সুপ্ত আশঙ্কায় শাকসু নির্বাচন কমিশনের একটি অংশ এবং নির্দিষ্ট একটি ছাত্রসংসগঠন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার নানা অজুহাত খুঁজছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আশঙ্কাকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবে এবং সকল অপকৌশল রুখে দিয়ে যথাসময়ে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—সকল পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষ মনোভাবের মাধ্যমেই শাকসু নির্বাচন শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলকে কোনো চাপ বা প্রভাবের কাছে নতি স্বীকার না করে শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এদিকে, বহুল প্রতিক্ষিত শাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে এক আলোচনা সভা রবিবার (১৮ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রশাসনিক ভবন-১ এর ৪র্থ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।
আলোচনা সভায় শাকসু নির্বাচন চলাকালীন সময়ের সার্বিক নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী সভায় উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, শাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট সবার দেওয়া পরামর্শ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আল্লাহর সাহায্যে আমরা একটি সফল ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হব।
এ সময় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছে, তা যেন এখানে না হয় সে জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, নির্বাচনে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা সম্ভব হবে।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. আবদুল মুকিত মোহাম্মদ মোকদ্দেছ, রেজিস্ট্রার সৈয়দ ছলিম মোহাম্মদ আব্দুল কাদির, ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এছাক মিয়া, প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (সিটিএসবি) মোঃ আফজাল হোসেন এবং প্রশাসনের অন্যান্য শিক্ষক-কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: জনকণ্ঠ