চালের বাজার নিয়ে নৈরাজ্য চলছে। চাহিদার ঘাটতি না থাকলেও হঠাত্ করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দাম বেড়ে গেছে। বিক্রেতারা জানান, চিনিগুঁড়া চাল বস্তাপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা ও অন্যান্য চিকন জাতের চাল বস্তাপ্রতি ৩০০-৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। গত দুই মাস যাবত্ চাল আমদানি বন্ধ। করপোরেট হাউজ, মিল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগীরা চালের মজুত করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে বলে পাইকারি বিক্রেতাদের অভিযোগ। সম্প্রতি আমন ধান উঠেছে এবং বোরো চাষের আবাদ শুরু হয়েছে। দেশে চালের কোনো সংকট নেই। এমতাবস্থায় চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ মিলছে না।
চাল আমদানিকারক আবদুল হান্নান ইত্তেফাককে বলেন, মূলত উত্তরাঞ্চলের মিল মালিক ও করপোরেট হাউজগুলো চালের মজুত করে দাম বাড়িয়েছে। তারা মনে করেছিল সরকার চাল আমদানির অনুমতি দেব না। প্রতিটি চিকন চাল কেজিতে ছয়-সাত টাকা করে বেড়েছে। এখন সরকার ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। চট্টগ্রামে সাত জন আমদানিকারক প্রায় সাড়ে ৩ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি পেয়েছে। ফলে এখন চালের দাম কমে যাবে।’
বিক্রেতারা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে চালের দাম দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে চিনিগুঁড়া ও যেসব চিকন চালের বাজারে চাহিদা বেশি এসব চালের দাম বেড়ে গেছে। চিনিগুঁড়া চালের দেশীয় চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। এই চালটি বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) প্রায় ১ হাজার ২০০-১ হাজার ৩০০ টাকা বেড়ে গেছে। তার সঙ্গে বেড়েছে কাটারিভোগ। এসব চাল মানুষ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যবহার করে থাকে। খাঁটি কাটারিভোগ চাল বাজারে খুবই কম। বাজারে এখন যেটা বিক্রি হচ্ছে তা হাইব্রিড জাতের কাটারিভোগ। সেটিও বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। পাশাপাশি স্বর্ণা,পাইজাম, মিনিকেট, নাজিরশাইল, জিরাশাইলসহ চিকন চালের দাম বেড়ে গেছে।
পাহাড়তলী বাজার বণিক কল্যাণ সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজাম উদ্দিন বলেন, চিনিগুঁড়া চালের দাম অস্বাভাবিক বেড়েছে। এছাড়া চিকন চালের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা বেড়েছে। মূলত মিল মালিক, করপোরেট হাউজ ও মধ্যস্বত্বভোগী মজুতদারগণ চালের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে জড়িত। অথচ সম্প্রতি আমন ধান উঠেছে। চালের কোনো সংকট নেই।’
রাইচ মিল মালিক ও আমদানিকারক আবুল বশর চৌধুরী বলেন, গত দুই মাস ভারত থেকে চাল আমদানি বন্ধ রয়েছে। তাই চিকন জাতের চালের দাম বেড়েছে। তবে সরকার ২ লাখ টন আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। এখন চালের দাম কমে যাবে।’
চট্টগ্রাম খাদ্য উত্পাদনে ঘাটতিপূর্ণ এলাকা। দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে আনা চাল চট্টগ্রামের চাহিদা মেটানো হয়। এতে দিনাজপুর, নওগাঁ এলাকায় চালের মোকামে কারসাজি করা হলে বাজারে চালের দাম বেড়ে যায়।
এদিকে সরকারি ভাবে খোলা বাজারে চাল বিক্রি চলছে। তবে এটি মোটা জাতের চাল। চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রিয়াদ কামাল রনি বলেন, আমরা নগরীর ৪১টি পয়েন্টে খোলা বাজারে চাল বিক্রি করছি। জেলায়ও বিক্রি চলছে। নগরীতে প্রতিদিন ৪১ টন চাল সরবরাহ দেওয়া হয়। দাম নির্ধারণ রয়েছে কেজি ৩০ টাকা। এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
সূত্র: ইত্তেফাক