শিরোনাম
◈ লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রবাসীদের সমস্যা ও প্রত্যাশা শুনলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ জিয়া থেকে তারেক: বিএনপির ৪৮ বছরের নেতৃত্বের ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ◈ সাগর-রুনি হত্যা: রোকেয়া প্রাচীর বাসা থেকে দু’টি ডিস্ক আনা হয়েছিল জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ◈ ৪৮ বছরে বিএনপি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ◈ ‘মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের’ সদরদপ্তর রিয়াদে, প্রথম মহাসচিব পাকিস্তানি ◈ বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল বিমানবাহিনীর ৩ সদস্যের ◈ আর্জেন্টিনার কিংবদন্তি লিওনেল মেসির ২১ বছরের যত রেকর্ড! ◈ সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন বাড়বে ৫৫ থেকে ১০০% পর্যন্ত ◈ নির্বাচনের ৭ বছর পর রাশেদ খানকে ডাকসুর জিএস ঘোষণা ◈ ডিপিডিসির জরুরি বার্তা প্রিপেইড মিটার ও বিদ্যুৎ বিল নিয়ে

প্রকাশিত : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:৪০ সকাল
আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৯ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিএনপির অর্ধশতাব্দী পরও পথনির্দেশক ‘১৯ দফা’

মনিরুল ইসলাম : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি এখনো দলটির রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও উন্নয়ন ভাবনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৭৮ সালে বিএনপির আত্মপ্রকাশের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত এই কর্মসূচি দীর্ঘ প্রায় পাঁচ দশক পরও দলটির নীতিনির্ধারণী কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও দলীয় প্রবীণ নেতারা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তারা আবারও স্মরণ করছেন সেই সময়ের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্যসমূহ।

রাজনৈতিক নথিপত্র অনুযায়ী, ১৯ দফার মূল ভিত্তি ছিল আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা। প্রথম দফায় দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্র পরিচালনায় চারটি মৌলিক নীতির কথা বলা হয়—সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র, যেখানে সমাজতন্ত্রকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

পরবর্তী দফাগুলোতে প্রশাসনের সব স্তরে আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়। ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য জোরদারের বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়।

কৃষিনির্ভর দেশের বাস্তবতায় কৃষি উন্নয়ন, বন্যা ও খরার ক্ষতি মোকাবিলায় পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে শিল্পখাতকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলোও ১৯ দফায় অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা—এই মৌলিক চাহিদা পূরণের মাধ্যমে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

গ্রামীণ উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে শহর-গ্রামের বৈষম্য কমানো, পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, সিভিল সার্ভিস ও ভূমি সংস্কার এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার বিষয়গুলোও এই কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এছাড়া নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং যুবসমাজকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা এবং মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের কথাও উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর জিয়াউর রহমান তার সরকারের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯ দফা গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল এই কর্মসূচি ঘোষণার পর প্রায় ৪৯ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।

দলীয় নেতাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতনের পর বর্তমান সময়ে বিএনপি আবারও সেই ঐতিহাসিক ১৯ দফার আলোকে দেশ পরিচালনা ও উন্নয়নের ভিশন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রেক্ষাপট বদলালেও ১৯ দফার মূল দর্শন এখনো প্রাসঙ্গিক এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তথ্য সূত্র : বাসস

  • সর্বশেষ