রাজপথে আন্দোলনের মধ্যদিয়েই রাজনীতির হাতেখড়ি। মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজপথে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন করেছেন। পরে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। দীর্ঘ ৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম এবং হত্যার মধ্যেও দলকে তৃণমূল থেকে আরও বেশি সংগঠিত, শক্তিশালী, সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলেছেন। পরে নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনে। সূত্র: মানবজমিন
সামান্য কর্মী থেকে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। গতকাল বিএনপি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে দিয়ে চার দশকের বেশি সময় পর নতুন নেতা পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ দলের হাল ধরলেন তারই বড় ছেলে তারেক রহমান। যিনি লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে কিছুদিন আগেই দেশে ফিরেছেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে দলের বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারে যোগদান করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত হন। ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।
গত ৪২ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে তাদের বড় ছেলে তারেক রহমানের শীর্ষ পদে আসা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবধারিতই ছিল। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর প্রায় ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদবী নিয়ে তারেক রহমান মূলত দল চালিয়ে আসছিলেন। মায়ের মৃত্যুর দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে দলের শীর্ষ পদে বসানোর আনুষ্ঠানিকতা সারা হল।
দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে মারা যান। এরপর তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে বাকি ছিল কেবল দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত। রাত ১০টা ৪০ মিনিটে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাত ৯টায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চেয়ারম্যান দল পরিচালনার ক্ষেত্রে যেন সফল হতে পারেন, সেজন্য স্থায়ী কমিটি দোয়া করেছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, চেয়ারম্যান হলে আর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান থাকে না। তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমান দলের চতুর্থ চেয়ারম্যান। মাঝে তিন বছর বিচারপতি সাত্তারের নেতৃত্ব বাদ দিলে জিয়া পরিবারই এ দলের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা
জিয়াকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হলে, সেদিনই বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর গত ৭ বছর ধরে লন্ডন থেকে ভিডিও কলেই তিনি দল চালাচ্ছেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয়। কিন্তু দুই শর্তের কারণে তিনি কার্যত বন্দি ছিলেন বাসা আর হাসপাতালের জীবনে। রাজনৈতিক কোনো কর্মকা-ে তাকে আর দেখা যায়নি। ৫ই আগস্ট ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর প্রেসিডেন্ট সাজা মওকুফ করে খালেদা জিয়াকে পুরোপুরি মুক্তি দেন। পরে উচ্চ আদালতও তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে খালাস দেয়।
আওয়ামী লীগের আমলে দেয়া বিভিন্ন রায়ে তারেক রহমানেরও সাজা হয়েছিল। সেসব মামলায় তিনি খালাস পান। তাতে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়। ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যুক্তরাজ্য সফরে গেলে সেখানে তার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকেই তারা একমত হন, নির্বাচন হবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ৩রা নভেম্বর বিএনপি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। সেখানে জানানো হয়, বগুড়া-৬ আসনে প্রথমবারের মত নির্বাচন করবেন তিনি। ওই ঘোষণার পর তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়।
ওদিকে ২৩ নভেম্বর ফের অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। এ অবস্থায় তারেক রহমান কেন দেশে ফিরছেন না, সেই প্রশ্ন আবার সামনে আসে। গত ১২ ডিসেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা দেন, তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসবেন। অবশেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেন। লাখ লাখ কর্মী সমর্থক তাকে সংবর্ধনা জানান। ৩০ ডিসেম্বর তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মারা যান। পরদিন লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে সংসদ ভবনের সামনে জানাজা শেষে জিয়া উদ্যানে স্বামী জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে দাফন করা হয়।
জিয়াউর রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) নামে একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়। ওই বছর ১লা মে জিয়াউর রহমানকে চেয়ারম্যান করে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ ঘোষণা করা হয়। ৩রা জুন নির্বাচন দিয়ে ওই ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’ থেকে প্রার্থী হয়ে তিনি প্রেসিডেন্ট হন। নির্বাচনের তিন মাসের মাথায় ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। জাগদল, মশিউর রহমান যাদু মিয়ার নেতৃত্বাধীন ন্যাপ, আবদুল হালিম-আকবর হোসেনের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড পিপলস পার্টি, আব্দুল মতিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি ও শাহ আজিজুর রহমানের মুসলিম লীগ বিলীন হয় তার বিএনপিতে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় ছিলেন। তার এক বছরের মধ্যে রাজনীতিতে আসেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া, তাকে দলের ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। তখন বিএনপির চেয়ারম্যান ছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বিচারপতি আব্দুস সাত্তার। সেনাপ্রধান এইচ এম এরশাদ ১৯৮২ সালে বিএনপি হটিয়ে ক্ষমতা দখল করলে সাত্তারের অসুস্থতার মধ্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের পদ নিয়ে দলের হাল ধরেন খালেদা জিয়া। তারপর ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া। সেই থেকে আমৃত্যু তিনি এই পদে ছিলেন।
বিএনপি’র দলীয় তথ্য অনুযায়ী, তারেক রহমানের জন্ম ১৯৬৫ সনের ২০শে নভেম্বর। মি. রহমান ১৯৭১ সালে যখন তার পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ শুরু করেন, তখন তাকে, তার মা এবং ভাইকে, অন্যান্য আরও অনেক মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দি হওয়া সর্বকনিষ্ঠ কারাবন্দিদের একজন।
ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষ করে ১৯৮০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৮৬ সালে, এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের প্রাক্কালে, তিনি গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে এবং প্রেস ক্লাবে একটি প্রেস কনফারেন্সে কীভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিল তার বর্ণনা করেন। ফলস্বরূপ, তার কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার জন্য, জেনারেল এইচএম এরশাদের স্বৈরাচারী সরকার তাকে তার মায়ের সঙ্গে গৃহবন্দি করে রাখে একাধিকবার।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি তার মায়ের সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালে দলের গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি তৃণমূল থেকে জনগণকে সংগঠিত করেছিলেন এবং এইচএম এরশাদের সরকারের পতনে অবদান রেখেছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি তার মা বেগম খালেদা জিয়ার সাথে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনে বিজয় অর্জন করেন। ওই নির্বাচনেই দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন বেগম খালেদা জিয়া।
তারেক রহমান বগুড়ায় তৃণমূল থেকে নেতা নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সূচনা করেছিলেন, যেখানে বিএনপি শাখার একজন নির্বাহী সদস্য ছিলেন। ১৯৯৩ সালে বগুড়া জেলা ইউনিটে তিনি সম্মেলনের আয়োজন করে গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন শুরু করেন। বগুড়ায় সফল সম্মেলনের পর তিনি অন্যান্য জেলা ইউনিটকে গণতান্ত্রিকভাবে নেতা নির্বাচন করতে উৎসাহিত করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে, তিনি স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যা এবং সুশাসনের ওপর গবেষণা করার জন্য ঢাকায় একটি সেন্টার স্থাপন করেন।
সেখানে বুদ্ধিজীবী ও সুশীল সমাজের সদস্যদের সঙ্গেও তিনি আলোচনা করেন। তার প্রচেষ্টায় ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। দলের চেয়ারপারসনের ছেলে হয়েও এবং তৃণমূল থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও তিনি সরকারের কোনো দায়িত্ব গ্রহণ না করে দলের তৃণমূলের ক্ষমতায়নে মনোনিবেশ করেন। দল সংগঠনে তার প্রচেষ্টার স্বীকৃতি হিসেবে ২০০২ সালে স্থায়ী কমিটি তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত করে। ২০০৫ সালে, তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সাথে মতবিনিময় করেন।
২০০৭ সালে ফখরুদ্দিন-মইনুদ্দিনের জরুরি জমানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। তার মা বেগম জিয়াকে দেশত্যাগে বাধ্য করতে তাকে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বাধ্য হয়ে বিদেশে যেতে হয়।
তারেক রহমান ২০০৯ সালে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ধীরে ধীরে বিএনপি’র পুনর্গঠনে যুক্ত হন। ২০১৮ সালে, সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কথিত অভিযোগে কারাগারে বন্দি হওয়ার পর তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত হন। তখন থেকেই তিনি ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
১৯৯৪ সালে, তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রাক্তন নৌবাহিনী প্রধান এবং পরবর্তী সরকারের দুই বারের মন্ত্রী প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জুবাইদা রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। জুবাইদা রহমান একজন বিশিষ্ট কার্ডিওলজিস্ট। ফ্যাসিবাদী শাসনে তিনিও রাজনৈতিক আক্রোশের শিকার হয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তারেক রহমানের একমাত্র কন্যা।
তারেক রহমানের উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত: নির্বাচন কমিশনের ‘অনুরোধে’ উত্তরাঞ্চল সফর স্থগিত করেছেন তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপি মহাসচিব।
রোববার চার দিনের সফরে উত্তরাঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল তারেক রহমানের। সফরের প্রথম দিন বিকালে বগুড়ায় পৌঁছানোর কথা ছিল তার। বগুড়া থেকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও লালমনিরহাট সফরেও যাওয়ার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারম্যানের।
মির্জা ফখরুল বলেন, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদসহ অন্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এবং কিছু পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জন্য তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলা সফর করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে বিএনপির চেয়ারম্যানের এই সফর স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।