বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যারা প্রার্থী হয়েছেন, তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে তারা মনোনয়ন প্রত্যাহার না করলে দল তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) বিকেলে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, “বিএনপির মতো বড় দলে যোগ্য প্রার্থী অনেক। অনেকেই মনে করেছেন দল থেকে তাকে মনোনীত করলে ভালো হতো, তাই তারা প্রার্থী হয়েছেন। তবে প্রত্যাহারের সময় এখনো শেষ হয়নি। আমরা আশা করছি তারা দলের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন। অনেক জায়গা থেকে ইতোমধ্যেই প্রত্যাহারের খবর আমরা পেয়েছি। এর বাইরে কেউ থাকলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তারেক রহমানের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে
বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ও তারেক রহমানের নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, “দেশনেত্রী তার সুযোগ্য সন্তান জনাব তারেক রহমানকে রেখে গেছেন, যিনি এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। তারেক রহমান বলেছেন, তার মা যেখানে কাজ শেষ করেছেন, তিনি সেখান থেকে শুরু করবেন। আমরা বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে তিনি দেশ ও মানুষের কল্যাণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। আমরা আশা করি যে, এই কাজে আমরা আমাদের গণমাধ্যমসহ সবারই সহযোগিতা পাবো।”
নির্বাচন: আইনশঙ্খলা পরিস্থিতি
সম্প্রতি বিএনপি অঙ্গসংগঠনের নেতা মোসাব্বির ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র উত্তরণের পথে সবসময়ই ভালো কাজের শত্রু থাকে। যারা দেশের স্থিতিশীলতা চায় না, তারাই এমন অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে এ দেশের মানুষ আন্দোলনে পুড়ে খাঁটি সোনা হয়েছে, তাদের দমিয়ে রাখা যাবে না।” তিনি নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকারকে আরও সক্রিয় ও কৌশলী হওয়ার আহ্বান জানান।
‘নির্বাচনি ইশতেহার ও ছাত্র সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে’
নজরুল ইসলাম খান জানান, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির কাজ চলছে এবং খুব শিগগিরই তা প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন (জকসু) সংক্রান্ত এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “বহু বছর আমাদের ছাত্র সংগঠন কাজ করতে পারেনি। অন্য একটি সংগঠন দীর্ঘ সময় সরকারি দলের ছত্রছায়ায় থেকে কৌশলে কাজ করেছে, যার ফল তারা এখন ভোগ করছে। তবে আমরা এমন কৌশলকে ভালো মনে করি না। এটি একটি ট্রানজিশনাল বা রূপান্তরমূলক সময়ের নির্বাচন, এটিই শেষ নয়।”
এর আগে ‘বগুড়া মিডিয়া অ্যান্ড কালচারাল সোসাইটি’ (বিএমসিএস) আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীটি পরিদর্শন করেন নজরুল ইসলাম খান। পরে সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে তিনি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। বিএমসিএস’র সভাপতি মারুফা রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক সুজন মাহমুদসহ সংগঠনের অন্যান্য কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। উৎস: বাংলাট্রিবিউন।