শিরোনাম
◈ প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে কী কী পেল বাংলাদেশ? ◈ রাজধানীর কলাবাগানে ককটেল বিস্ফোরণ, নিষিদ্ধ সংগঠনের ৪ নেতাকর্মী আটক ◈ নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দিনেই বাজারে হাজার টন ইলিশ, দাম কত? ◈ ঢাকার যানজট নিরসনে ২৫৮ কিলোমিটার সাবওয়ে ও ৮৮ কিলোমিটার রিং রোড নির্মাণের পরিকল্পনা ◈ মানুষের শরীরে এআই দিয়ে তৈরি ভাইরাস প্রয়োগের দাবি বিজ্ঞানীদের, নেই গবেষণাপত্রে প্রমাণ ◈ ‌নিউইয়‌র্কে সরকারি অর্থ লোপাটের অভিযোগ, বিপুল সম্পদের মালিক একশ্রেণির প্রবাসী বাংলাদেশির দরজায় এফ‌বিআই  ◈ বৃহত্তম ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্সে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, সাইবার হামলায় উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের সন্দেহ ◈ যে কারণে শনিবার ৯ থেকে ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না কয়েকটি জেলায় ◈ জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বলেছেন, ‘কিছু লোকের ধাওয়ায় তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেয়, আমি পালিয়ে আসি’: আরও যা জানালো পিবিআই (ভিডিও) ◈ এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগে চাপে গুগল-আমাজন-মাইক্রোসফট, মূল ব্যবসায় ক্ষতি ও ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:১৮ রাত
আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ০৮:২৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে কী কী পেল বাংলাদেশ?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চার দিনের জাপান সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বিদেশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্পায়ন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তাসহ বহুমাত্রিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে এই সফরে।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক লাখ কোটি জাপানি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা সফরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।এ ছাড়া বাংলাদেশের দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান। দুই দেশের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদারে বাংলাদেশকে একটি টহল জাহাজ দেওয়ার বিষয়েও অনুদান চুক্তি সই হয়েছে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফরকে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতি বিশ্লেষকরাও সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের মতে, জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান দেশে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত নতুন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ঋণসহায়তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে।

দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে এবার বাণিজ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে।বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. মাহফুজ কবির মনে করেন, জাপানের বিনিয়োগ ও ঋণসহায়তা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।এক লাখ কোটি ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির বেসরকারি খাতে বাংলাদেশের জন্য এক লাখ কোটি ইয়েনের সম্ভাব্য বিনিয়োগ পরিকল্পনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি দুই দেশের শীর্ষ বৈঠকের পর জানান, আগামী পাঁচ বছরে জাপানি কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ এক লাখ কোটি ইয়েন পর্যন্ত হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা। গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য উৎপাদনশিল্প এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো খাতে জাপানি বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতেও জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ রয়েছে।

Advertisement

এই বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জাপানের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে উৎপাদনশিল্পে জাপানের অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশের শিল্পায়ন নতুন গতি পেতে পারে।এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব পর্যায়ে নেওয়ার উদ্যোগ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।‘জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে বিশাল ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান দেশে আসার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প খাত নতুন সক্ষমতা অর্জন করতে পারে।’—মোহাম্মদ হাতেম, সভাপতি, বিকেএমইএউল্লেখ্য, এক লাখ কোটি ইয়েন এখনই বাংলাদেশে আসছে না; এটি আগামী পাঁচ বছরের সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগ পরিকল্পনা। একইভাবে দুই লাখ কর্মসংস্থানও প্রত্যাশিত লক্ষ্যমাত্রা।

প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পায়নে বড় সুযোগবাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে বহুমুখী করা এবং উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা।বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, দেশের এগিয়ে যাওয়া ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাপানের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিগুলো বিশাল ভূমিকা রাখবে। জাপানের সঙ্গে চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।হাতেম বলেন, ‘ডাইভার্সিফাইড ম্যানমেড ফাইবার বা হাই ভ্যালুড আইটেমে এক্সপোর্টে যেতে আমরা পারছি না। সেই জায়গাটিতে জাপানের বিশাল আগ্রহ রয়েছে। লেটেস্ট টেকনোলজি যদি আসে, তাহলে লেটেস্ট টেকনোলজি আসবে, সঙ্গে টেকনিক্যাল লোক আসবে। আমাদের দেশের লোকজন তাদের সঙ্গে থেকে শিখবে। এটা আমাদের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।’

তার মতে, জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পসহ উৎপাদন খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। প্রচলিত পণ্যের বাইরে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে দেশীয় কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নতুন আশাবাদজাপানের বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং উন্নয়ন সহযোগিতাকে বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক ড. মাহফুজ কবির।তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। বাংলাদেশ যদি এফডিআই এবং ঋণসহায়তাকে কাজে লাগাতে পারে এবং সেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন করতে পারে, তাহলে আমি আশা করি শিল্পায়নের জন্য বিদেশি বিনিয়োগ আসবে এবং একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’

অর্থনীতি বিশ্লেষকের এই বক্তব্যে জাপানের সঙ্গে সহযোগিতার অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পাশাপাশি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের গুরুত্ব উঠে এসেছে।আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে এক লাখ কোটি জাপানি ইয়েন পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং এর মাধ্যমে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রত্যাশা সফরের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য বাংলাদেশে উৎপাদন কার্যক্রম সম্প্রসারণ সহজ হবে। এর ফলে শিল্পায়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়তে পারে।উন্নয়ন প্রকল্পে ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তাপ্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলাদেশের দুটি উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।এর মধ্যে ১৫ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১০০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ব্যয় হবে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি, বিনিয়োগ কার্যক্রম সহজ করা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ অর্থ সহায়তা করবে।অন্যদিকে ৩০ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৯৪ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে উপজেলা গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে। এর লক্ষ্য উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় সরকারব্যবস্থা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সক্ষমতা বাড়ানো।এই ঋণসহায়তা বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী করবে।উপকূলীয় নিরাপত্তায় জাপানের সহযোগিতাঅর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তায়ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে প্রধানমন্ত্রীর সফরে। বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ দেওয়ার জন্য জাপানের সঙ্গে অনুদান চুক্তি হয়েছে।এ জন্য সর্বোচ্চ ২ দশমিক ১২ বিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ১৩ দশমিক ৪৪ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সক্ষমতা বাড়াতে জাহাজটি ব্যবহার করা হবে।সমুদ্রে অপরাধ দমন, সামুদ্রিক দুর্ঘটনা মোকাবিলা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রমে জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।‘জাপানের বিনিয়োগ ও ঋণসহায়তা কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশে শিল্পায়ন এবং বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।’—ড. মাহফুজ কবির, গবেষণা পরিচালক ও অর্থনীতি বিশ্লেষক, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই সহযোগিতা বাংলাদেশের সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে নতুন মাত্রা যোগ করবে।কৃষি, মৎস্য ও দক্ষ জনশক্তিতে ছয়টি দলিলসফরে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, দক্ষতা উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টহল জাহাজ প্রদানসংক্রান্ত সহযোগিতা রয়েছে।দলিলগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।বিশেষ করে জাপানে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভাষা শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং জাপানের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হলে বাংলাদেশি কর্মীরা উপকৃত হবেন।

এ ছাড়া জেট্রোর উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসায়িক যোগাযোগ, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বিআইজি-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি: আঞ্চলিক সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বৈঠকে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।

আগের বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট বা বিআইজি-বি উদ্যোগকে সম্প্রসারণ করে ‘বিআইজি-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর চারটি প্রধান ভিত্তি হলো যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতায় সহযোগিতা।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে যৌথ সমৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। অবকাঠামো, বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও আঞ্চলিক যোগাযোগে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঐতিহাসিক বললেন রিজভী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে জাপানের সুসম্পর্ক বরাবরই ছিল। তবে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চার দিনের সফরে বাংলাদেশের বড় ধরনের অর্জন হয়েছে।’

রিজভী বলেন, সফরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘বিআইজি-বি ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ নামে একটি সহযোগিতার নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় উদীয়মান অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি মোকাবিলা, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে।তিনি বলেন, সফরে প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তার প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন, কৃষি, বন, মৎস্য এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আলোচনা ও সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রিজভী বলেন, তারেক রহমান উন্নয়ন সহযোগী, অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং রাজনীতিবিদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।তিনি বলেন, ‘উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি এবং অতীতে লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠনে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সেসব উদ্যোগ নিচ্ছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে সেই প্রচেষ্টার অন্যতম অর্জন এই জাপান সফর।’রিজভী আরও বলেন, ‘আমি মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অনেক অর্জন হয়েছে।’অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার বার্তাপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরে ঘোষিত বিনিয়োগ পরিকল্পনা, ঋণসহায়তা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগিতার সম্পর্ককে এবার বাণিজ্য, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়েছে।

বিশেষ করে এক লাখ কোটি ইয়েনের সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং দুই লাখ কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশাবাদ তৈরি করেছে। জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতা কাজে লাগাতে পারলে দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়বে এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের পথ আরও প্রসারিত হবে।

সব মিলিয়ে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন এই অর্জনগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সফরের সুফল দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনেও দৃশ্যমান হয়ে উঠবে।

সূত্র : জাগো নিউস ২৪ 

  • সর্বশেষ