শিরোনাম
◈ গ্যাবনকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র ◈ যৌন হয়রানি, ধর্মান্তরের চাপ, আতঙ্কে পশ্চিমবঙ্গের খ্রিস্টানরা ◈ আমেরিকা ও ইসরায়েলি-মদদপুষ্ট চার সন্ত্রাসী চক্রের ১৬ সদস্য ইরা‌নে গ্রেফতার, অস্ত্র ও যুদ্ধের গোলাবারুদ জব্দ ◈ জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান, ৬ সমঝোতা দলিল ও ৪৬৫৬ কোটি ইয়েনের ঋণ সহায়তা ◈ ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে ৩৪৩০ জন নিয়োগের অনুমোদন ◈ সরকার গঠনের লড়াইয়ে বিপাকে নেতানিয়াহু, জোট ছাড়ার ঘোষণা কট্টরপন্থি ইহুদি দলের ◈ এলডিসি উত্তরণে আরও ৩ বছর সময় পেল বাংলাদেশ, জাতিসংঘের অনুমোদন ◈ আয়ারল‌্যা‌ন্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে সাঙ্গাকারাকে হেনস্থা, পরিবারকে হুমকি ◈ মাও' মন্ত‌ব্যে ক্ষমা চেয়েও রেহাই নেই এমবাপের, চীনে হোর্ডিং থেকে সরছে ছবি ◈ মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেট সংযোজনের সময় বাড়াল বিআরটিএ, শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর

প্রকাশিত : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৫ দুপুর
আপডেট : ৩০ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৩৫ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা

জাপান সফর শেষে দেশে ফিরলেন তারেক রহমান, ৬ সমঝোতা দলিল ও ৪৬৫৬ কোটি ইয়েনের ঋণ সহায়তা

মনিরুল ইসলাম: জাপানে  চার দিনের সরকারি সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে তাঁর এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আজ শুক্রবার  ৩০ অক্টোবর  রাত ২টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী, তাঁর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৫৫ মিনিটে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইটটি।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।

বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

Advertisement

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত দেশটি সফর করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 ছয় সমঝোতা দলিল, দুটি ঋণ সহায়তা প্রকল্প

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা দলিল স্বাক্ষর। পাশাপাশি বাংলাদেশকে মোট ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের দুটি ঋণ সহায়তা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জাপান।

এ ছাড়া বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে একটি টহল জাহাজ সংগ্রহের জন্য ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনুদান সহায়তার চুক্তি হয়েছে।

দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন, কৃষি, দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছে একটি আগ্রহপত্র।

ঋণ সহায়তার আওতায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং উপজেলা শাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হবে।

এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা

সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি ছিল বাংলাদেশের জ্বালানি, অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি খাতে এক ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ প্রস্তাব।

মার্কিন ডলারে যার পরিমাণ প্রায় ৬.৩ বিলিয়ন। বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে জাপানি একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রযুক্তি খাত এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ের চুক্তির বাইরেও জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে দুই দেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

পাঁচ অগ্রাধিকার খাতে বিনিয়োগের আহ্বান

গত ২৮ অক্টোবর টোকিওতে জেট্রোর সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-জাপান ইকোনমিক ফোরাম ডায়ালগ’-এ বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের পাঁচটি অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। খাতগুলো হলো—অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ, উচ্চগতির রেল ও লজিস্টিকস এবং কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নীতিগত সহায়তা, অবকাঠামোগত সুবিধা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

জাপানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং শীর্ষ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

তাঁর সাক্ষাৎপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসো, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকা, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর কাজুহিকো আমাকাওয়া এবং জেট্রোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা।

এ ছাড়া পোশাক খাতের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লো, মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন এবং জেরা-সহ বিভিন্ন বড় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে নতুন কারখানা স্থাপন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

জাপানের শিল্প ও জ্বালানি অবকাঠামো পরিদর্শন

শুধু বৈঠক ও আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল না প্রধানমন্ত্রীর সফর। জাপানের উন্নত শিল্প, জ্বালানি ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাও সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।

২৭ অক্টোবর ফুত্তসুতে অবস্থিত জেরার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন ইচিকাওয়ায় অবস্থিত নিতসু লজিস্টিকস হাব ঘুরে দেখেন।

সফরের শেষ দিনে বৃহস্পতিবার নাগোয়া সফর করেন তিনি। সেখানে জাপানের বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোতোমাচি কারখানা এবং টয়োটা মেমোরিয়াল মিউজিয়াম অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড টেকনোলজি পরিদর্শন করেন।

জাপানের অটোমোবাইল শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সরাসরি ধারণা নেওয়ার সুযোগ পান প্রধানমন্ত্রী।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তিতে নতুন দিগন্ত

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রথম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণে নতুন কাঠামো তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দেশটির সহযোগিতা রয়েছে।