শিরোনাম
◈ উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের উইন্ডস্ক্রিনে ফাটল, নেপালে আটকা ১২৭ যাত্রী ◈ বড় ভূমিকম্পের আগেই মহাপরিকল্পনা সরকারের, ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল ◈ রাজধানীতে চালু হচ্ছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস: নিরাপদ গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত ◈ আরেকটি বড় জয় বাংলাদেশের, মাল‌য়ে‌শিয়া‌কে হোয়াইটওয়াশ কর‌লো জু‌নিয়র টাইগাররা ◈ বাংলাদেশকে অন্য দেশের মতো নয়, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই: তারেক রহমান ◈ রাজধানী থেকে দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার ◈ বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিশ্ব মিডিয়া ◈ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, আরব দেশগুলোতে কি প্রভাব হারাচ্ছেন ট্রাম্প? ◈ শান্তি-শৃঙ্খলা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৮ রাত
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বড় ভূমিকম্পের আগেই মহাপরিকল্পনা সরকারের, ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল

বাংলাদেশ বিশেষ করে রাজধানীবাসির জন্য ভয় ও আতঙ্কের নাম ‘ভূমিকম্প’। ভবন একটু নড়েচড়ে উঠলেই দৌড়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন শহরের বাসিন্দারা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘন ঘন ভূমিকম্প অনুভূত হচ্ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ। বড় ধরনের ভূমিকম্পের মুখোমুখি হলে মোকাবিলা করতে বাংলাদেশ আসলে কতটা প্রস্তুত সে প্রশ্ন ওঠে বারবার।

আশার খবর হলো, বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভূমিকম্প মোকাবিলায় কাজ করতে একাধিক বৈঠক করেছেন এবং সংশ্লিষ্টদের এ নিয়ে পরিকল্পনামাফিক কাজ করতে বলেছেন। শুধু তাই নয়, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকার মেগা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার বাস্তবায়নে ইতোমধ্যেই নানামুখী কাজ শুরু করেছে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।

গত জুনের শেষ দিকে ভেনেজুয়েলায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৫ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু ভবন। ভেনেজুয়েলার ঘটনার পর আরও বেশি নড়েচড়ে বসেছে বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; কিন্তু আগাম প্রস্তুতি, নিরাপদ নির্মাণব্যবস্থা, কার্যকর নগর পরিকল্পনা এসবের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির বড় অংশ কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একটি ভূমিকম্প-সংবেদনশীল অঞ্চলে অবস্থিত। সরকার এখন থেকে পরিকল্পনা না করলে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে এক দিন দাঁড়াতে হতে পারে সবাইকে। ভূমিকম্পন বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজধানী ঢাকা দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ নগরী হিসেবে বিবেচিত। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, পুরোনো ভবন, সংকীর্ণ সড়ক, অত্যধিক জনঘনত্ব এবং সীমিত উদ্ধার সক্ষমতার কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় সতর্ক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং ভূমিকম্প ও ভূতত্ত্ব প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আমাদের দেশে ভূমিকম্প হলে ৯০ শতাংশ মানুষ ভবনের নিচে চাপা পড়ে মারা যাবে। খোলা জায়গায় থাকা ১০ শতাংশ মানুষ বাঁচানো যাবে। ৯০ শতাংশ মানুষের জন্য কর্মপন্থা জরুরি। ভবন চিহ্নিত করতে সরকারি কোনো অর্থও ব্যয় হবে না, শুধু সরকারের নির্দেশনা প্রয়োজন। ভেনেজুয়েলার উদাহারণ টেনে তিনি বলেন, বেশির ভাগ মানুষ ভবন চাপায় মারা গেল। তাই ভূমিকম্প নিয়ে আমি বলব অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অতি দ্রুত দুর্বল ভবন চিহ্নিত করা এবং সেগুলো মজবুত করতে হবে। আর নতুন ভবন বিল্ডিং কোড মোতাবেক করতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমিকম্প মোকাবিলায় সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি, বাধ্যতামূলক ভবন নিরাপত্তা নিরীক্ষা, ভূমিকম্প মহড়া সম্প্রসারণ, আধুনিক অনুসন্ধান ও উদ্ধার ইউনিট গঠন, ড্রোন ও থার্মাল প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সমন্বিত জরুরি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের বিষয়ও এসবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

ইতোমধ্যেই মন্ত্রণালয় নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। অগ্রাধিকার কার্যক্রমের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদের ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে সমন্বিত ডাটাবেজ এবং ওয়েবসাইট তৈরি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৪৮,৯৫২ জন স্বেচ্ছাসেবকের তথ্য সমন্বিত ডাটাবেজে এন্ট্রি করা হয়েছে এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ২১,৬০০ সদস্যের পৃথক ডাটাবেজ রয়েছে, যার তালিকা সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়। ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে উন্মুক্ত কিছু জায়গা চিহ্নিত করা হয়েছে। ভূমিকম্পসহ নগর দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস ও বড় ধরনের বিপর্যয় মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে ঢাকার দুই সিটিতে মোট ৪৪৫টি নিরাপদ আশ্রয়স্থল চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ২৫৬টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯টি আশ্রয়স্থল রয়েছে। এসব স্থানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ভূমিকম্পের ফল্ট ম্যাপ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর হতে সংগ্রহ করেছে মন্ত্রণালয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগে কোনো ফল্ট ম্যাপ নেই বলে মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে ভূতত্ত্ব বিভাগ। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে ভূমিকম্পের জোনিং ম্যাপ সংগ্রহ করা হয়েছে। রাজউক থেকে জোনিং ম্যাপ সংগ্রহ করার জন্য মন্ত্রণালয় চিঠি দিলেও এখনো মন্ত্রণালয়ে পাঠায়নি রাজউক। চিহ্নিতকৃত ৪৪৫টি ভূমিকম্পের নিরাপদ আশ্রয়স্থল/উন্মুক্ত স্থানগুলো ভূমিকম্পের ফল্ট এরিয়ার মধ্যে রয়েছে কি না তার প্রতিবেদন ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একধিক কর্মকর্তা জানান, স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে কি কি উদ্ধার যন্ত্রপাতি আছে সে তথ্য মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করতে পেরেছে। এর আগে কত মন্ত্রী, সচিব কাজ করে চলে গেলেন অথচ একটি সমস্বিত তালিকা কেউ সংগ্রহই করতে পারেননি।

ভূমিকম্প হলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমে যন্ত্রপাতির অংশ হিসেবে বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় এ-সংক্রান্ত ৪৮৬৯টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থায় মোট ৭২৫টি যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। যা কাজে লাগানো যাবে। এ ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে ২৫টি হেলিকাপ্টার দুর্যোগকালে কাজে লাগানো যাবে।

তবে সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন সংস্থার হেলিকপ্টার কত সেই তথ্য সংগ্রহ চলমান রয়েছে।  দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সদ্য সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান (বর্তমানে দুদক সচিব) বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা ভূমিকম্প পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতি কমানো বা উদ্ধার কার্যক্রম বিষয়ে প্রস্তুত থাকতে চাই। ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায়ও আমাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নতুন সরকার গঠনের পর অনেক কাজ করেছি। সামনে আরও কাজ হবে। এটি প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কার্যক্রম।

সচিব আরও বলেন, ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করে ১ মার্চ আমাদের মন্ত্রণালয় নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। বিষয়টিকে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন বলেই এটি সম্ভব। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের পরেও বৈঠক হয়েছে, বৈঠকগুলোতে আমাদের নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সে মোতাবেক কাজ করছি। সরকার একটা মেগা প্ল্যান নিয়েছে, আমরা সেটি বাস্তবায়ন করতে চলেছি। উৎস: বিডি-প্রতিদিন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়