যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ টানা পাঁচ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলার পরও কোনও সমাধানের উপায় না থাকায় ক্রমশ চরম হতাশ হয়ে উঠছেন মার্কিন মিত্র হিসেবে পরিচিত উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি এবং শান্তিচুক্তি নিয়ে তার পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে বৈরুত থেকে রিয়াদ পর্যন্ত পাঁচটি প্রভাবশালী দেশ এখন নিজেদের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধ মোকাবিলার ধরনে মারাত্মক ক্ষুব্ধ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে, তার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই চাপাচ্ছেন আঞ্চলিক প্রতিনিধিরা।
এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেছেন, আর মাশুল গুনছি আমরা। ইউরেশিয়া গ্রুপের বিশ্লেষক ফিরাস মাকসাদ জানান, মিত্রদেশগুলো এমন এক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে যা তারা কখনোই চায়নি। ট্রাম্পের ইরান নীতিকে তারা ‘অস্থির’ ও ‘অপ্রত্যাশিত’ হিসেবে দেখছেন।
যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি সরবরাহকারী দেশগুলো। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যরেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ইয়ামেনের হুথি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদাব প্রণালি অবরোধের হুমকি দেওয়ায় সৌদি আরব তাদের তেলের রুট পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বিকল্প সুরক্ষার পথ খুঁজছে দেশগুলো। সম্প্রতি সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যাকে ইউরোপীয় জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা হারানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসবিদ বদর আল-সাইফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জুনের সমঝোতা স্মারকে অঞ্চলের প্রধান দুটি উদ্বেগ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীদের সমর্থনের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে চুক্তিটি টেকেনি।
তবে হোয়াইট হাউস সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে অঞ্চলের অংশীদারদের চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে এবং ইরানের আগ্রাসী নীতির কারণেই তারা এককভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরব, আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন