শিরোনাম
◈ উড্ডয়নের আগমুহূর্তে বিমানের উইন্ডস্ক্রিনে ফাটল, নেপালে আটকা ১২৭ যাত্রী ◈ বড় ভূমিকম্পের আগেই মহাপরিকল্পনা সরকারের, ঢাকায় চিহ্নিত ৪৪৫ নিরাপদ আশ্রয়স্থল ◈ রাজধানীতে চালু হচ্ছে নারীদের জন্য ‘পিংক বাস’ সার্ভিস: নিরাপদ গণপরিবহনে নতুন দিগন্ত ◈ আরেকটি বড় জয় বাংলাদেশের, মাল‌য়ে‌শিয়া‌কে হোয়াইটওয়াশ কর‌লো জু‌নিয়র টাইগাররা ◈ বাংলাদেশকে অন্য দেশের মতো নয়, কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চাই: তারেক রহমান ◈ রাজধানী থেকে দু’টি বোমা সদৃশ বস্তু উদ্ধার, যুবক গ্রেপ্তার ◈ বংশালে হেলমেটের গুদামে আগুন, দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে ◈ টাইগারদের দাপুটে পারফরম্যান্সকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে বিশ্ব মিডিয়া ◈ ইরান যুদ্ধের ধাক্কা, আরব দেশগুলোতে কি প্রভাব হারাচ্ছেন ট্রাম্প? ◈ শান্তি-শৃঙ্খলা ছাড়া দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৭ রাত
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইতিহাস জানলে চমকে যাবেন, ডলার চিহ্নে ‘S’ কেন থাকে? ৯৯% মানুষই সঠিক উত্তর জানেন না

ডলার চিহ্নটি বিশ্বের অন্যতম পরিচিত প্রতীক, যা অর্থ ও সম্পদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। কিন্তু এর এই অস্বাভাবিক আকৃতির পেছনে রয়েছে এক আকর্ষণীয় ইতিহাস, যার শেকড় আমেরিকান মুদ্রারও অনেক আগের। ডলারের প্রতীক ‘$’ চিহ্নে ‘S’ অক্ষরটি কেন থাকে, তা জানলে নিশ্চিতভাবেই চমকে যাবেন।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে অর্থ বোঝাতে সবচেয়ে সাধারণ প্রতীকগুলোর একটি হলো ‘$’। সম্পদ, আর্থিক লেনদেন কিংবা দামের কথা ভাবলেই সবার আগে এই প্রতীকটি মনে আসে। তবে বর্তমানের এই প্রতীকটি শুধু আমেরিকান মুদ্রাতেই নয়, কম্পিউটার কিবোর্ড এবং প্রোগ্রামিং ভাষাতেও কীভাবে স্থায়ী জায়গা করে নিল, তার উৎপত্তি নিয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে।

আমেরিকায় একটি স্বাধীন মুদ্রা ব্যবস্থা চালুর আগে সেখানে ব্রিটিশ পাউন্ড, শিলিং এবং পেন্সের প্রচলন ছিল। পরবর্তীতে ১৭৭৫ সালে কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস ডলার চালু করে এবং ১৭৮৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে একে তাদের মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করে।

ডলার প্রতীকের এই ইতিহাস নিয়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় তত্ত্বটি স্প্যানিশ পেসোকে ঘিরে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একসময় স্প্যানিশ পেসো ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হতো, যা ‘পেসো দে ওচো রিয়ালস’ বা সংক্ষেপে ‘পিস অব এইট’ নামে পরিচিত ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই মুদ্রাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল এবং ১৮৫৭ সাল পর্যন্ত এটি বৈধ মুদ্রা হিসেবে চালু ছিল।

‘$’ চিহ্নটি কীভাবে তৈরি হলো, তার সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা হলো— ব্যবসায়ীরা স্প্যানিশ পেসো মুদ্রার সংক্ষিপ্ত রূপ বোঝাতে একটি ‘S’-এর ওপর ছোট হাতের ‘p’ ব্যবহার করতেন। হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্রে বারবার লেখার ফলে এই সংক্ষিপ্ত রূপটি ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে আজকের ‘$’ আকৃতি ধারণ করে।

তবে এটিই একমাত্র মত নয়। অন্য একটি তত্ত্ব মতে, এই প্রতীকটি স্পেনের রাজকীয় প্রতীকচিহ্ন ‘পিলারস অফ হারকিউলিস’-এর সঙ্গে সম্পর্কিত। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ‘$’ চিহ্নটি ‘U’ এবং ‘S’ অক্ষরের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। যদিও ঐতিহাসিক গবেষণায় এই শেষোক্ত তত্ত্বটির পক্ষে জোরালো কোনো প্রমাণ মেলেনি।

আমেরিকায় মুদ্রিত আকারে এই ‘$’ চিহ্নের আবির্ভাব ঘটে অষ্টাদশ শতাব্দীর শেষের দিকে, অর্থাৎ ১৭৯০-এর দশকের শেষভাগে। সে সময় ফিলাডেলফিয়ার মুদ্রাকর আর্চিবাল্ড বিনি আমেরিকান মুদ্রণ জগতে এই চিহ্নটির প্রচলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রথম দিকে এটি খাতা, ব্যবসায়িক নথি এবং বিভিন্ন মুদ্রিত দলিলে ব্যবহৃত হতো এবং পরবর্তীতে ১৮৬৯ সালে প্রথম আমেরিকান ব্যাংকনোটে এটি স্থান পায়।

সময়ের পরিক্রমায় এই প্রতীকটি কেবল মার্কিন ডলারে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বর্তমানে কানাডিয়ান ডলার, অস্ট্রেলিয়ান ডলারসহ বিভিন্ন দেশের পেসো মুদ্রাও এই চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। এমনকি আধুনিক প্রযুক্তির জগতেও কিবোর্ডে সহজলভ্যতার কারণে বিভিন্ন প্রোগ্রামিং ভাষাতেও ‘$’ ব্যাপক হারে ব্যবহৃত হচ্ছে। শত শত বছর আগে ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশ থেকে যার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা আজ মুদ্রা থেকে শুরু করে কম্পিউটার কোড পর্যন্ত সমানভাবে নিজের উপস্থিতি বজায় রেখেছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়