শিরোনাম
◈ জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল কিনবে সরকার ◈ ‘এটা তো সবে শুরু’: ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কী? ◈ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ◈ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে ব্যয় বাড়লো ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ◈ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর, বাড়ল অর্থ উত্তোলনের সীমা ◈ বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ◈ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা ◈ হবিগঞ্জ উত্তেজনা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ ◈ জুলাইয়ের ২৮ দিনেই দেশে এলো ২৬২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স ◈ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০১:২৫ রাত
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৩:০২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা

ছবি: এ আই দিয়ে তৈরি

বাড়ছে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধনী বিল উপস্থাপন করা হবে। সরকারি ও বিরোধী দলের কয়েকজন সংসদ সদস্য এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মোটা দাগে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি আগের তুলনায় বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকটি সাংবিধানিক ইস্যুতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এ নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখানো হবে বলে জানানো হয়েছে।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কোনো পরামর্শ ছাড়াই মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, প্রেস কাউন্সিল, আইন কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগ দিতে পারবেন রাষ্ট্রপতি। তবে এই প্রস্তাবের একটা অংশে দ্বিমত জানিয়েছে বিএনপি। বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দিতে রাজি নয় দলটি। গণভোটে অনুমোদিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশে মোট ৯টি প্রস্তাবে বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি নথিভুক্ত আছে, এই প্রস্তাবটি তার একটি।

অন্যদিকে অন্য চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দিতে ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত জানিয়েছে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী এসব প্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দেন। তবে সংবিধান সংশোধনে বিএনপির যে দুটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি রয়েছে, তা আলোচনার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হলে আপত্তি থেকে সরে আসতে পারে দলটি। তখন ছয়টি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাকে রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো নিয়োগ দিতে পারবেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ফাঁসির আসামিকে ক্ষমা করার বিষয়টি রাষ্ট্রপতির হাতেই থাকছে। এ ক্ষেত্রে দণ্ড মওকুফ বিবেচনার ক্ষেত্রে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি নিতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য আনতে এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৮(৩)-এর সংশোধনী আনা যেতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী যদি সংবিধান সংশোধন করা হয়, তাহলে অবশ্যই রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়বে। এরই মধ্যে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখন দেখার বিষয় তারা বিষয়টিকে কীভাবে মুল্যায়ন করে কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের আন্তরিকতা দেখায়।

দলগুলোর আন্তরিকতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সরকারদলীয় হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ ও সংসদের বাইরে একাধিকবার বলেছেন, স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। ওই হিসেবে সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে যেসব বিষয় বলা হয়েছে তাতে আমাদের আপত্তি নেই। যে দুটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফলাফল আসতেও পারে।’

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জামায়াতের নিয়মিত প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার হলে ক্ষমতায় ভারসাম্য আসবে। বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা এখন তো এককেন্দ্রিক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে একক ক্ষমতার অধিকারী। সেই কারণে ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতার সুযোগের পথ ধরেই স্বেচ্ছাচারিতা বা কর্তৃত্ববাদের সুযোগ তৈরি হয়। এখান থেকেই সংকট ও ফ্যাসিজমের উত্থান সবকিছু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সংবিধিবদ্ধ অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে করতে হয়। সংস্কার হলে সেটার আমূল পরিবর্তন হবে বলে বিশ্বাস করি। এতে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতন্ত্রেও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি বিকাশ হবে। আর এর সুফল ভোগ করতে পারবে জনগণ।’ জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের ক্ষমতার জায়গায় বলা হয়েছে, ‘কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত যেকোনো দণ্ডের মার্জনা, বিরাম মঞ্জুর করার এবং যেকোনো দণ্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত মানদণ্ড, নীতি ও পদ্ধতি অনুসরণক্রমে উক্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আইনে এরূপ বিধান রাখা হবে যে এরূপ কোনো আবেদন বিবেচনার পূর্বে মামলার বাদী বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবারের সম্মতি গ্রহণ করা হবে।’ বিদ্যমান সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি হলেন, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় ব্যক্তি। তিনি দেশের সব নাগরিকের ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন। তবে তাঁর মূল ক্ষমতাগুলো মূলত সাংবিধানিক কিছু বিধিমালার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগ এবং প্রধান বিচারপতির নিয়োগ- এই দুটি ক্ষেত্র ব্যতীত প্রতিটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রপতিকে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করতে হয়। তা ছাড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপিত কোনো বিল পাস হওয়ার পর তা রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য বঙ্গভবনে পাঠানো হয়। তাঁর স্বাক্ষর মিললেই বিলটি আইনে পরিণত হয়। এমনকি সংসদ অধিবেশন চালু না থাকলে জরুরি মুহূর্তে অনুচ্ছেদ ৯৩ অনুযায়ী তিনি ‘অধ্যাদেশ’ বা জরুরি আইন জারি করতে পারেন।

সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিরোধী দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করে কমিটিকে ১৭ সদস্যে পুনর্গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। কমিটিতে সরকারি দল বিএনপির পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণসংহতি আন্দোলন, গণ অধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী এ বিশেষ কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটি এখন পর্যন্ত কমিটিতে তাদের প্রতিনিধি মনোনয়ন দেয়নি।  উৎস: বিডি-প্রতিদিন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়