শিরোনাম
◈ জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পদক্ষেপ, ১৭ হাজার কোটি টাকার তেল কিনবে সরকার ◈ ‘এটা তো সবে শুরু’: ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর কী? ◈ সংবিধানে বড় পরিবর্তনের পথে, বাড়ছে রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা ◈ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রকল্পে ব্যয় বাড়লো ৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা ◈ একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর, বাড়ল অর্থ উত্তোলনের সীমা ◈ বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গা ফেরত নিতে চেয়েছে মিয়ানমার: আনোয়ার ইব্রাহিম ◈ ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য, বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা ◈ হবিগঞ্জ উত্তেজনা: ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এনসিপির অভিযোগ ◈ জুলাইয়ের ২৮ দিনেই দেশে এলো ২৬২ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স ◈ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর নির্দেশ স্থগিত করল আপিল বিভাগ

প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০২:৫৪ রাত
আপডেট : ৩০ জুলাই, ২০২৬, ০৪:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

১ কিলোমিটারেরও বেশি উচ্চতা, বুর্জ খলিফার রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে সৌদির ‘জেদ্দা টাওয়ার’

বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বা টাওয়ার নির্মাণ করছে সৌদি আরব। ‘জেদ্দা টাওয়ার’ নামে ভবনটির চূড়ান্ত উচ্চতা হবে ১ হাজার মিটারেরও (১ কিলোমিটার) বেশি, যা বর্তমানের সবচেয়ে উঁচু ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে (৮২৮ মিটার) পেছনে ফেলে দেবে।

বুধবার (২৯ জুলাই) আমিরাত-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রবিন্দুতে এটি নির্মিত হচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান বিনিয়োগকারী হলেন প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল।

সম্প্রতি তিনি নির্মাণস্থল পরিদর্শন শেষে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল জানিয়েছেন, ভবনটির ১ হাজার মিটারেরও বেশি পরিকল্পিত উচ্চতার ৪০ শতাংশ বা ৪৩০ মিটার নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়েছে।

আল-ওয়ালিদ বলেন, ‘আল্লাহর দয়ায় কাজ চলছে এবং আমরা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ সম্পন্ন করব’।

গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে কাজ শুরু হলেও মাঝখানে কিছু আর্থিক জটিলতা ও ঠিকাদারী-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালে তা স্থগিত করা হয়। তবে বর্তমানে সৌদি সরকারের 'ভিশন ২০৩০' পরিকল্পনার অধীনে ২০২৫ সালে সম্পূর্ণ নতুন করে এর কাজ শুরু হচ্ছে।

জানা গেছে, নান্দনিক ভবনটির নির্মাণে যৌখভাবে কাজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোভিত্তিক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান- অ্যাড্রিয়ান স্মিথ এন্ড গর্ডন গিল আর্কিটেকচার, থর্নটন টোমাসেটি, ল্যাঙ্গান ইন্টারন্যাশনাল এবং সৌদি বিনলাদিন গ্রুপ। 

টাওয়ারটির ত্রিভুজাকার নকশা মূলত মরুভূমির একটি অঙ্কুরিত উদ্ভিদের পাতার আকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত। এটি সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও অগ্রযাত্রার প্রতীক। ভবনটি নিচ থেকে যত ওপরে উঠেছে, তত সরু বা সূক্ষ্ম হয়ে গেছে। এই ‘ট্যাপার্ড’ আকৃতি ওপরের তীব্র বাতাসকে সহজে কেটে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করবে। 

এছাড়াও দুবাইয়ের বুর্জ খলিফার মতো এটিও তিন পাখাবিশিষ্ট বা ইংরেজি ‘Y’ অক্ষরের মতো ভিত্তি দিয়ে তৈরি, যা একে সর্বোচ্চ কাঠামোগত স্থিতিশীলতা দেয়।

গালফ নিউজ জানিয়েছে, টাওয়ারটিতে আবাসিক ফ্ল্যাট, একটি বিলাসবহুল হোটেল, অফিস স্পেস এবং বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত ভিউয়িং বা অবজারভেশন ডেক থাকবে, যেখান থেকে লোহিত সাগরের প্যানোরামিক দৃশ্য দেখা যাবে।

এদিকে এই মেগা প্রজেক্টটি সৌদি আরবের অর্থনৈতিক রূপান্তরের একটি বিশাল অংশ। শুধুমাত্র এই মূল টাওয়ার ভবনটি নির্মাণের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে এই টাওয়ারটিকে কেন্দ্র করে চারপাশে যে সম্পূর্ণ আধুনিক উপশহর- ‘জেদ্দা ইকোনমিক সিটি’ গড়ে তোলা হচ্ছে, তার সামগ্রিক বাজেট প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানি (জেইসি)-এর মাধ্যমে প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালালের কিংডম হোল্ডিং কোম্পানি এবং সৌদি আরবের শীর্ষস্থানীয় প্রাইভেট সেক্টর যৌথভাবে এই বিপুল অর্থায়ন করছে।

প্রকল্পের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে ভবনটির নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত সময়সীমা নির্মাণকাজের গতির ওপর নির্ভর করছে।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়