বরিশালের গৌরনদীর হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় রুটি প্রস্তুত বা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পায়নি তদন্ত কমিটি।
এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে।
আজ বুধবার গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইব্রাহীম দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, সত্যতা যাচাই ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে ওই ঘটনার ছবি ছড়ানোর অভিযোগে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক নাসরিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিপিইও) মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।
ইউএনও মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘গত ২২ জুলাই ওই বিদ্যালয়টির প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী মিড ডে মিলের বনরুটির মধ্যে এই ব্লেড পাওয়ার কথা জানায় তার শ্রেণিশিক্ষক শারমিন জাহানকে। কাউকে কিছু না জানিয়ে ওই শিক্ষিকা এই ঘটনার ছবি বিভিন্ন গ্রুপে সরবরাহ করেন।’
‘বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হলে গত বৃহস্পতিবার আমি বিদ্যালয় পরিদর্শন করি। পরে আরও তদন্তের জন্য উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দিই। আমি নিজেই গাজীপুরের কোকোলা ফ্যাক্টরিতে রুটি তৈরির প্রক্রিয়া পরিদর্শন করি। সেখানে নিশ্চিত হই—এই রুটির মধ্যে ব্লেড থাকার কোনো সুযোগ নেই।’
ইউএনও আরও বলেন, ‘পরে এক স্কুল শিক্ষিকাকে অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর ঘনিষ্ঠ হতে পরামর্শ দিই। শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন উপহার কিনে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই শিক্ষার্থী নিজেই বিদ্যালয়ে ব্লেড নিয়ে আসার কথা স্বীকার করে। সে জানায়, ভয়ে ও শিক্ষিকার নজর এড়াতে বনরুটির মধ্যে ব্লেডটি লুকিয়ে রেখেছিল। শিক্ষার্থীর বাবা-মা এ বিষয়টি আগেই জানতেন বলে স্বীকার করেন।’
বিদ্যালয়টিতে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খান বলেন, ‘প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে রুটি তৈরি করা হয়। এছাড়া প্যাকেজিংয়ের সময় প্রতিটি রুটি মেটাল ডিটেকটর দিয়ে পরীক্ষা করা হয়। তাই রুটিতে কোনো ধাতব পদার্থ থাকার সুযোগ নেই।’