শিরোনাম
◈ আ‌র্জেন্টিনা কখনো হাল ছাড়ে না: ‌কোচ স্কালোনি ◈ নারী ক্রিকেটের পাইপলাইন আরো শক্তিশালী কর‌তে বি‌সি‌বি ‌বিভাগীয় মেন্টর নি‌য়োগ দি‌চ্ছে  ◈ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ◈ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা ◈ রেকর্ডভাঙা তাপদাহে ফ্রান্সে আরও ২,০২৫ জনের প্রাণহানি ◈ রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা ◈ রপ্তানির প্রধান খাতে ধাক্কা, কমেছে পোশাক শিল্পের বৈদেশিক আয় ◈ ট্রাম্প কি বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে পারবেন? সমর্থকদের জল্পনা ◈ অবশেষে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, ১২ দিন অনশনের শেষে প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন নুসরাত! ◈ শেরওয়ানির জন্য আড়াই ঘণ্টা ফ্লাইট আটকে রাখলেন বিমান কর্মকর্তা, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:০৬ দুপুর
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরের গ্যাস চুরি নিয়ে ভাইরাল দাবির নেপথ্যে কী? যা বলছে প্রতিবেদন

সবার অজান্তে বঙ্গোপসাগরের নীল পানির হাজার হাজার ফুট গভীরে এক অবিশ্বাস্য আন্তর্জাতিক ডাকাতি চলছে। এক ফোঁটা রক্তপাত না ঘটিয়ে কোনো কামানের গোলা না ছুড়ে সম্পূর্ণ নীরব উপায়ে বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন টাকার সম্পদ-প্রাকৃতিক গ্যাস। আর এই বৈজ্ঞানিক চুরির গোপন নকশা এত বছর পর ফাঁস করে দিলো এশিয়ার পরাশক্তি চীন। ইতোমধ্যে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। সূত্র: ইনকিলাব প্রতিবেদন

বিগত ১৭ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকারের প্রকাশ্যে এবং গোপন প্রশ্রয়ে যে সম্পদ প্রতিবেশী ভারত নিজের ঘরের দিকে টেনে নিয়ে গেছে। এতে করে বাংলাদেশে যে গ্যাস চুরি হচ্ছে সেই তথ্যই এবার সামনে এনেছে বেইজিং।

দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে কট্টর বাংলাদেশপন্থী এবং জাতীয়তাবাদী তারেক রহমানের সরকার। আর ঠিক সেই কারণে দিল্লি রাতের ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়েছেÑ বঙ্গোপসাগরের সেই রাজনৈতিক ও বৈজ্ঞানিক গোপন যুদ্ধ। যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে চিরতরে বদলে দিতে চলেছে।

বিজ্ঞান ও পদার্থ বিদ্যায় তরল ও গ্যাসীয় পদার্থ সবসময় উচ্চ চাপ থেকে নিম্ন চাপের দিকে ধাবিত হয়। এই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের সীমানার কাছে বিশেষ কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে। ভারত তার সিমানায় বিশেষ কৌশলে মাটি না খুঁড়ে সোজা স্লান রিলিং বা বাঁকা পদ্ধতিতে কোনাকুনিভাবে বাংলাদেশের গ্যাস ভা-ারে পাইপ ঢুকিয়ে এই কাজ করেছে। সেখান থেকে সজোরে গ্যাস বের করায় বাংলাদেশের মাটির নিচে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে করে প্রাকৃতিক নিয়মেই বাংলাদেশের অন্য প্রান্তের প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফাইবের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অতিমূল্যবান প্রকৃতিক সম্পদ বাংলাদেশের হলেও চৌকশ যন্ত্রের মাধ্যমে এর পুরোটাই নিয়ে নিচ্ছে ভারত।

ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, এই কৌশল একেবারে নতুন কিছু নয়। ১৯৯০ সালে যখন সাদ্দাম হোসেনের ইরাক কুয়েত আক্রমণ করেছিল, তার অন্যতম কারণ ছিল এই স্লাড রিলিং।

ইরাক অভিযোগ করেছিল কুয়েত আন্তর্জাতিক সীমানা লঙ্ঘন করে মাটির নিচ দিয়ে বাঁকা পাইপ ঢুকিয়ে ইরাকের বিখ্যাত রুমায়না অয়েল ফিল্ড থেকে তেল চুরি করছে। এই তেল চুরিকে কেন্দ্র করে পৃথিবী কাঁপানো মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হয়েছিল দেড় দশক ধরে সাগরে। সেই একই পথ অবলম্বন করে ভারত বাংলাদেশের গ্যাস টেনে নিচ্ছে।

এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে খুবই নীরবে এবং লোকচক্ষুর আড়ালে। এখন প্রশ্ন আসতেই পারে চোখের সামনে এত বড় চুরির ঘটনা ঘটলেও কেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রযন্ত্র এতদিন ধরে বসে আছে? বলা হচ্ছে, এই ঘটনার সঠিক উত্তর পেতে হলে একটু পেছনে ফিরে যেতে হবে শেখ হাসিনার শাসনামলে। ২০১২ সালে সমুদ্র আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে বাংলাদেশ যখন এই বিশাল সমুদ্রসীমা পেয়েছিল তখন সারা দেশের মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ভাবছিল ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতির হাত ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবার পরিবর্তন হবে। কিন্তু পর্দার আড়ালে চিত্রনাট্য লেখা হয়েছিল ভিন্নভাবে।

সমুদ্র জয়ের পরপর বঙ্গোপসাগরে বেশ কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেলে কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই সেগুলো কোনো আন্তর্জাতিক মানপত্র ছাড়াই তুলে দেয়া হয় ভারতের দুটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি এবং ওয়েল ইন্ডিয়া লিমিটেডের হাতে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়। বিশ্ববাজারে যখন গ্যাসের জন্য হাহাকার তখনই ভারতের কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ব্লকগুলো থেকে কোনো বাস্তব মৌখিক প্রয়োগ ছাড়াই উল্লেখযোগ্যভাবে উৎপাদন শুরু করেনি। তারা বছরের পর বছর ফাইল আটকে রেখে সময়ক্ষেপণ করেছে এবং পুরো প্রক্রিয়াকে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে। রাজনীতিবিদদের মতে, এটি কোনো সাধারণ জটিলতা বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ছিল না। এটি মূলত ছিল দিল্লির একটি সুদূরপ্রসারী কৌশল।

তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের ব্লকগুলোকে পুরোপুরি অচল করে রাখা যেন বাংলাদেশ কোনোভাবেই সেখান থেকে গ্যাস তুলতে না পারে। আর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে ভারত নিজেদের এরিয়ায় কৃষ্ণ গোদাবরি থেকে শতশত ঘনফুট গ্যাস দিন-রাত উত্তোলন করে গেছে। এর ফলে বাংলাদেশের রিজার্ভ গ্যাস ধীরে ধীরে ভারতের সীমান্তের দিকে চলে গেছে। হাসিনা সরকার নিজের ক্ষমতা এবং দিল্লির একচেটিয়া সমর্থন ধরে রাখতে এই অনিয়মের বিরুদ্ধে একটি শব্দও উচ্চারণ করার সাহস পায়নি। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে এভাবে প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে ফ্রি লুট বা অবাধে চুরির সুযোগ করে দেয়া হয়েছিল যার চরম মাশুল আজ দেশের জনগণকে দিতে হচ্ছে।

সমুদ্রতল দেশের এই মহাচুরির প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষ এবং দেশের অর্থনীতিতে। যখন দেশের খনিসম্পদ, অপসর বা মাটির নিচে জমে থাকা খনিজসম্পদ অন্য কোনো দেশ চুরি করে নিয়ে গেল তখন দেখা দিলো তীব্র খনিজ সংকট। আর সেই কৃত্রিম সংকটকে পুঁজি করে বিগত হাসিনা সরকার দেশকে ঠেলে দিয়েছে এক আত্মঘাতী বিপদের সম্মুখে। এতে বিশ্ববাজার থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে এলএনজি গ্যাস। প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বা ডলার কেবল এই এলএনজি কিনতেই দিদেশে পাচার হয়ে গেছে।

যে বিশ্বমানের অর্থ দিয়ে দেশে বড় বড় শিল্প অঞ্চল গড়ে তোলা হতো, বড় বড় হাসপাতাল নির্মাণ করা যেত কিংবা বিদ্যুৎ খাতের স্থায়ী সমাধান করা যেত অথবা রেল বা যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরির কাঁচামাল আমদানি বেশির ভাগ গিলে খেয়েছে ভারতীয় সিন্ডিকেট। এর ফলে দেশের প্রতিটি মানুষ তীব্র লোডশেডিংয়ে ভুগছে। বাংলাদেশের গর্বের তৈরি পোশাক শিল্প আজ ধ্বংসের মুখে। কারণ কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাসের সাপ্লাই নেই। গ্যাসের চাপ না থাকায় উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে, নতুন কোনো শিল্প-কারখানায় সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এ দেশে বিনিয়োগ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে চলতে পারছে না, অর্থাৎ দেশের সমুদ্রের ভেতরে চলা জ্বালানি যুদ্ধের খেসারত দিতে গিয়ে পুরো দেশ আজ ধ্বংসের দিকে।

সূত্রমতে, এই সম্পদ চুরি ঠেকাতে বাংলাদেশ ও চীন এখন গভীর সমুদ্রের অফশোর এলাকায় গ্যাস উত্তোলনের জন্য একটি চুক্তি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে বাংলাদেশ তার নিজস্ব বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ কাজে লাগাতে পারবে এবং গ্যাস আমদানি কমিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে। এরপরও কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, ভারত আমাদের বন্ধুরাষ্ট্র; তাদের ছাড়া আমরা চলতে পারব না।

কিন্তু কথায় আছেÑ পাপ একদিন না একদিন ধরা পড়ে। দেশের রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সাথে সাথে পুরো ভূ-রাজনীতি উলটপালট হয়ে গেছে। ঢাকার মসনদে এখন শেখ হাসিনা নেই; বরং শাসন ক্ষমতা এসেছে সম্পূর্ণ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী তারেক রহমান সরকারের হাতে। সরকার দায়িত্ব নিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন কারো কাছে ছেড়ে না দেয়া হয়। সমুদ্রে নিচের এক ফোঁটা সম্পদও অন্য কোনো দেশকে ভোগ করতে দেয়া হবে না। আর ঠিক এই মুহূর্তে ১৭ বছর ধরে চলে আসা চুরির গোমর ফাঁস করে দিয়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বন্ধুরাষ্ট্র চীন।

বলা হচ্ছে, বেইজিং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং সাফ সারফেস ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে তারা বঙ্গোপসাগরের নিচে এই ড্রিলিং চুরির স্পষ্ট প্রমাণ বাংলাদেশের হাতে তুলে দিয়েছে। চীন শুধু চুরির প্রমাণই দেয়নি, এই সমস্যা থেকে চিরতরে পরিত্রাণের এক অবিশ্বাস্য অফার বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছে। পশ্চিমা কোম্পানিগুলো দীর্ঘশক্তি তা এবং দিল্লির দাদাগিরিকে তোয়াক্কা না করে তারেক রহমান সরকার সরাসরি চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিং পিংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন জ্বালানি চুক্তির দিকে এগোচ্ছে।

বর্তমানে গভীর সমুদ্রে জ্বালানি অনুসন্ধান বা অপসর ড্রিলিং এবং খনিজসম্পদ উত্তোলনের সবচেয়ে কার্যকরী প্রযুক্তি রয়েছে চিনির রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। তারা অত্যন্ত কম সময়ে, কম খরচে জ্বালানি উত্তরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। গভীর সমুদ্রে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বিশাল অবকাঠামো তৈরিতে সক্ষম হচ্ছে। বাংলাদেশের রেলিংগুলো থেকে পরিপূর্ণভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের জন্য পূর্ণ সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। এই সংবাদ দিল্লিতে পৌঁছানো মাত্রই নীতি-নির্ধারকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ লক্ষ করা যাচ্ছে।

কারণ, এতদিন যে বঙ্গোপসাগরকে তারা নিজেদের সম্পদ মনে করেছে; সেখানে এখন বেইজিং এর সরাসরি হস্তক্ষেপ হচ্ছে, তাও আবার বাংলাদেশের আমন্ত্রণে। যদি চীনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্লক থেকে গ্যাস উত্তোলন করা হয় তাহলে সমুদ্রের নিচের বিজ্ঞান চিত্র নিমিষেই বদলে যাবে। সীমান্তের উপর থেকে যে কৃত্রিম লোয়ার অর্জন তৈরি করে বাংলাদেশ থেকে গ্যাস টেনে নিয়েছিল ভারত, তা আর কাজ করবে না।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়