শিরোনাম
◈ আ‌র্জেন্টিনা কখনো হাল ছাড়ে না: ‌কোচ স্কালোনি ◈ নারী ক্রিকেটের পাইপলাইন আরো শক্তিশালী কর‌তে বি‌সি‌বি ‌বিভাগীয় মেন্টর নি‌য়োগ দি‌চ্ছে  ◈ বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ◈ অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে হিসেবে মর্যাদা পেল শ্রীলঙ্কা ◈ রেকর্ডভাঙা তাপদাহে ফ্রান্সে আরও ২,০২৫ জনের প্রাণহানি ◈ রুদ্ধশ্বাস লড়াই শেষে ৩-২ ব্যবধানে কেপ ভার্দেকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনা ◈ রপ্তানির প্রধান খাতে ধাক্কা, কমেছে পোশাক শিল্পের বৈদেশিক আয় ◈ ট্রাম্প কি বালোগানের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিতে পারবেন? সমর্থকদের জল্পনা ◈ অবশেষে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, ১২ দিন অনশনের শেষে প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন নুসরাত! ◈ শেরওয়ানির জন্য আড়াই ঘণ্টা ফ্লাইট আটকে রাখলেন বিমান কর্মকর্তা, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ০৯:৫২ সকাল
আপডেট : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৭ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গু, সতর্ক করল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

কয়েক দশকে বিশ্বব্যাপী ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে এটি ইতিহাসের সবোর্চ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। এ বছর বিশ্বজুড়ে ১ কোটি ৪৬ লাখেরও বেশি ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ এ রোগে প্রাণ হারিয়েছেন।

এক প্রতিবেদনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত বিশ্বের ৯৭টি দেশ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি রোগী এবং তিন হাজারেরও বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু এখন আর কেবল গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইউরোপ এবং পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের মতো নতুন নতুন এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ছে। ২০২৪ সালে ইউরোপের তিনটি দেশ—ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেনে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গুর লক্ষণ মৃদু হয় এবং ১-২ সপ্তাহের মধ্যে রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক রূপ ধারণ করতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি তৈরি করে। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* উচ্চমাত্রার জ্বর (১০৪° ফারেনহাইট পর্যন্ত) * তীব্র মাথাব্যথা ও চোখের পেছনে ব্যথা * মাংসপেশি ও হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা * বমি বমি ভাব ও শরীরে র‍্যাশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠার পর অনেকেরই বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে।

তবে নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে:

* তীব্র পেটে ব্যথা ও অনবরত বমি হওয়া * দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস ও মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত * রক্তবমি বা পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া * প্রবল তৃষ্ণা, দুর্বলতা এবং ত্বক ফ্যাকাশে বা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ডেঙ্গুর কোনো সুনির্দিষ্ট ওষুধ নেই। আক্রান্ত ব্যক্তিকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে এবং প্রচুর তরল খাবার পান করতে হবে। ব্যথানাশক হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কেবল ‘প্যারাসিটামল’ সেবন করা যাবে। তবে আইবুপ্রোফেন বা অ্যাসপিরিনের মতো নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ওষুধ সেবন করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এগুলো রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মশার কামড় থেকে রক্ষা পাওয়া। যেহেতু ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে, তাই দিনেও সতর্ক থাকতে হবে।

* শরীর ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরুন। * দিনের বেলা ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করুন। * জানালায় নেট লাগান এবং মশারি তাড়ানোর স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করুন। * মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে ঘর ও আঙিনায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখুন।

বর্তমানে একটি টিকা (QDenga) কিছু দেশে অনুমোদিত হলেও, এটি শুধু ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়