শিরোনাম
◈ চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করতে চায় নেদারল্যান্ডস ◈ ডিজিটাল প্রতারণার ফাঁদে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা ◈ মগবাজার পেয়ারাবাগে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেন রেলপথের কাজ চলতে বাধা নেই ◈ মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস ◈ ইসরায়েলে ইনটেলের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় বিস্ফোরণ, ছড়িয়ে পড়েছে বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ◈ স্কুলে ভর্তিতে বয়স নির্ধারণ, কোন শ্রেণিতে কত বছর হতে হবে যা জানাগেল ◈ কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্ব, সেক্রেটারির গাড়ি ভাঙচুর-হামলা ◈ ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর

প্রকাশিত : ০৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪০ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

অবশেষে দেড় লাখ টাকায় মীমাংসা, ১২ দিন অনশনের শেষে প্রেমিকের বাড়ি ছাড়লেন নুসরাত!

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে টানা ১২ দিন অবস্থান ও অনশন শেষে অবশেষে বাড়ি ফিরেছেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামের তরুণী মোসাম্মৎ নুসরাত জাহান।

স্থানীয়ভাবে একাধিক দফা শালিস বৈঠকের পর বুধবার (১ জুলাই) রাতে তাঁর ভাই ও স্বজনদের জিম্মায় তাঁকে বাড়ি পাঠানো হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত যুবক আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নুসরাত প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নেওয়ার পর বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে কয়েক দফা শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযুক্ত আবু সাইদ শুরু থেকেই আত্মগোপনে থাকায় বিয়ের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। পরে তাঁর পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

বুধবার রাতে নুসরাতের ভাই ও স্বজনরা পশ্চিম শিদলাই গ্রামে এসে তাঁকে নিয়ে যেতে চান। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং উভয় পক্ষের স্বজনদের উপস্থিতিতে আরেক দফা শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আবু সাইদের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়। পরে জরিমানার অর্থসহ নুসরাতকে তাঁর স্বজনদের জিম্মায় বুঝিয়ে দেওয়া হলে তিনি তাঁদের সঙ্গে নিজ বাড়িতে ফিরে যান।

Advertisement

শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি বিষয়টির সমাধান করতে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে থাকায় বিয়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠকে তাঁর পরিবারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং জরিমানার অর্থসহ মেয়েটিকে তাঁর স্বজনদের জিম্মায় দেওয়া হয়।"

নুসরাত জাহানের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় তাঁদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ চলছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়েই আবু সাইদ সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর।

নুসরাত বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের কথা বলে আবু সাইদ তাঁকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চড়বাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন থাকার পর তিনি বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চাইলে আবু সাইদ তাঁকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে যান।

পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে তিনি পশ্চিম শিদলাই গ্রামে যান। সেখানে বিয়ের দাবি জানালে আবু সাইদ তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নুসরাতের ভাষ্য, "সে আমাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমি তাকে বিশ্বাস করে আমার জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলাম। এখন সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।"

এ ঘটনায় অভিযুক্ত আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলাম আত্মগোপনে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

  • সর্বশেষ