মনিরুল ইসলাম : অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে জানিয়েছেন, দেশে চলমান তারল্য সংকট কাটাতে তীব্র সংকটে পড়া ৫টি বেসরকারি ব্যাংকের সব দায় ও সম্পদ একীভূত করে গঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (এমডি) নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং বর্তমানে তার নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আজ বুধবার জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য মো. সেলিমুজ্জামান মোল্যা এবং মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের পৃথক দুটি প্রশ্নের জবাবে অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, তীব্র আর্থিক সংকটে থাকা এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক পিএলসি-কে ‘ব্যাংক রেজল্যুশন স্কীম, ২০২৫’ এর আওতায় আনা হয়েছে। এই স্কীমের অধীনেই ব্যাংকগুলোর সমস্ত দায় ও সম্পদ নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সংসদে অর্থ মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, আমানত সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এর অধীনে উক্ত ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকদের প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা করে পরিশোধ করা হচ্ছে। এর বাইরে বর্তমানে আরও যে সকল ব্যাংক তারল্য সংকটে ভুগছে, তাদের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগ নিবিড়ভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এবং প্রয়োজন দেখা দিলে ওই সকল ব্যাংকের বিষয়েও ‘ব্যাংক রেজল্যুশন আইন, ২০২৬’ অনুসারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে নতুন গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি-কে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর ও সচল করতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নানামুখী পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, রেজল্যুশনের আওতাধীন ৫টি ব্যাংকের গ্রাহকরা এখন সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হতে তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারছেন। ব্যাংকটিকে দ্রুত পুরোদমে সচল করতে ইতোমধ্যে সরকার কর্তৃক পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়েছে এবং তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে পর্ষদে অন্যান্য যোগ্য পরিচালকও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমডি নিয়োগের পাশাপাশি ব্যাংকের করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করতে কোম্পানী সেক্রেটারি, চিফ ফাইন্যান্স অফিসার এবং চিফ টেকনোলজি অফিসার নিয়োগের প্রক্রিয়াও বর্তমানে চলমান রয়েছে।
নতুনভাবে গঠিত এই পরিচালনা পর্ষদ আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নিবিড় তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ কার্যকর ও পূর্ণ লেনদেন চালু করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংসদে জানানো হয়। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বর্তমানে ব্যাংকটির নতুন সাংগঠনিক কাঠামো এবং চাকরি প্রবিধানমালা প্রস্তুতকরণের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ৫টি ব্যাংকের আইটি, সিবিএস, জনবল এবং শাখাগুলো একীভূতকরণের মতো জটিল প্রক্রিয়াগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই সমস্ত প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার মাধ্যমে খুব দ্রুতই ব্যাংকটির স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করা সম্ভব হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।